হরমুজ প্রণালিতে গোপন মার্কিন অভিযান, যুদ্ধের মধ্যেও চলছে তেলবাহী জাহাজ - 24 Ghanta Bangla News
Home

হরমুজ প্রণালিতে গোপন মার্কিন অভিযান, যুদ্ধের মধ্যেও চলছে তেলবাহী জাহাজ

Spread the love

ইরানের বন্ধ করে দেওয়া হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে গোপনে সহায়তা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর…

ইরানের বন্ধ করে দেওয়া হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে গোপনে সহায়তা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে বলে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দু’জন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, যারা এই অভিযানের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্দেশনায় প্রতি রাতে প্রণালিটির দক্ষিণের একটি চ্যানেল দিয়ে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহণ করা সম্ভব হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল যেত, তার প্রায় অর্ধেক এই পথে এখনো চলাচল করছে।

গোপনে পরিচালিত এই অভিযান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পরও তেল সরবরাহ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে চাপ কিছুটা কমেছে।

Also Read | ফাতাহ-৩ পরীক্ষার প্রস্তুতি? ৭৫০ কিমি আকাশসীমা বন্ধ পাকিস্তানের

কীভাবে চলছে মার্কিন অভিযান?

মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা শুধু উপসাগর থেকে তেল নিয়ে বেরিয়ে আসা জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খালি তেলবাহী জাহাজগুলিকেও আরব সাগর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে উপসাগরীয় বন্দরে পৌঁছতে সহায়তা করা হচ্ছে। সেখানে তেল বোঝাই করার পর একই পথে ফেরার সময়ও তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রতি রাতে জাহাজগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী প্রবেশ ও বহির্গমনকারী কনভয়ে ভাগ করা হয়। এরপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্দেশ অনুযায়ী তারা প্রণালিটির দক্ষিণের চ্যানেল ব্যবহার করে।

এই অভিযানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে দাবি করেছেন, গত দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণের চ্যানেল নিয়ন্ত্রণ করছে মার্কিন বাহিনী। তাঁর দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারলেও প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই।

Also Read | ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে ঘুচুক জট! কর ও নীতিতে স্থিরতার বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

এই অভিযান পরিচালনাকারী টাস্কফোর্সের সদর দফতর নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে। তারা উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিদিন কোন কোন তেলবাহী জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাবে তার তালিকা তৈরি করছে। জাহাজগুলির নিরাপত্তায় মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও মোতায়েন রয়েছে। ইরানের ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে জাহাজগুলিকে রক্ষা করাই তাদের অন্যতম কাজ।

ইরানের নজরদারি ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে?

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিযানের পর ইরানের রাডার ও সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে দক্ষিণের চ্যানেল দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলির ওপর ইরানের নজরদারি ক্ষমতা সীমিত হয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে ইরানের হাতে অল্প কয়েকটি পুনরুদ্ধার করা রাডার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি আইআরজিসির দ্রুতগামী নৌকায় থাকা কিছু পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’-এর ওপরও তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে।

নজরদারি ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইরান যেসব এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে বলে মনে করছে, সেসব অঞ্চলের দিকে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। কয়েকটি জাহাজ ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন বাহিনী আটটি ইরানি ড্রোন এবং দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।

প্রতিদিন ১ কোটি ব্যারেল তেল যাচ্ছে

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে। এর ফলে দৈনিক গড় তেল রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ব্যারেলে পৌঁছেছে।

কিছু দিনে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহণ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের এক রাতে ২০টিরও বেশি জাহাজ দক্ষিণের চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। সেগুলির সম্মিলিত বহনক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল হতে পারে।

যুদ্ধের আগের তুলনায় এই পরিমাণ কম হলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই তেল সরবরাহ বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল বেরিয়ে যাচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ইরান আলোচনায় সময় নষ্ট করছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের এখনও লড়াই করার ক্ষমতা রয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *