মুসলিম বাড়ির মন্দিরে মনসা পুজো, আরাধনা হিন্দু ভক্তদের, পুরুলিয়ায় সম্প্রীতির ছবি
আঁকরো গ্রামে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা হাতে গোনা—মেরেকেটে ১০-১২টি ঘর। হিন্দু পরিবারের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। কিন্তু মনসা পুজোর দিন সেই সংখ্যার অর্থহীন হয়ে যায়। শেখ কালিমের কথায়, ‘জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে গ্রামের মানুষ পুজোয় অংশ নেন।’ এটাই তাঁদের গ্রামের ‘ষোলো আনা’ বা সর্বজনীন পুজো।
পরিবারের আর এক সদস্য বুধু শেখ জানালেন, অনেকে মানতও করেন। তাঁর কথায়, ‘মানত পূরণ হলে দেবীর কাছে পুজো দেন ভক্তরা।’ তাঁর মতে, প্রার্থনা আর বিশ্বাসের জায়গায় ধর্মের বিভাজন কোনও দিনই জায়গা করে নিতে পারেনি। ভক্ত তপন মাহাতোর কথায়, ‘মুসলিম পরিবারের বাড়িতে এই পুজো হয়—এটা শুনে হয়তো অনেকেরই অবাক লাগতে পারে। কিন্তু এই পুজোয় গ্রামের হিন্দু পরিবারগুলি যে ভক্তি আর নিষ্ঠা নিয়ে অংশ নেয়, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’
এই পুজো তাই কারও একার নয়। দেবী মনসার মন্দিরটি একটি পরিবারের উঠোনে হলেও পুজো গোটা গ্রামের। উত্তরাধিকার সূত্রে পুজো করেন কালু শেখ। তিনিই পুরোহিত। পুজোর দিন উপবাস করেন। রাতে মৃন্ময়ী দেবীর সামনে নিয়ম মেনে পুজোয় বসেন। কালু শেখের কথায়, ‘আমার বাড়িতেই মন্দির। দীর্ঘদিন ধরে পুজো করছি।’