ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি-তুরস্ক কতটা পাশে থাকবে! সন্দেহ বিশেষজ্ঞদের - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি-তুরস্ক কতটা পাশে থাকবে! সন্দেহ বিশেষজ্ঞদের

Spread the love

নয়াদিল্লি: ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হলে পাকিস্তানের (India Pakistan)পাশে সৌদি আরব ও তুরস্ক কতটা সক্রিয়ভাবে দাঁড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে কৌশলগত প্রশ্ন উঠছে। সৌদি আরব,…

নয়াদিল্লি: ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হলে পাকিস্তানের (India Pakistan)পাশে সৌদি আরব ও তুরস্ক কতটা সক্রিয়ভাবে দাঁড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে কৌশলগত প্রশ্ন উঠছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা নিরাপত্তা চুক্তি পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এই জোটকে এখনই ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চুক্তিতে কোনও একটি দেশের উপর হামলাকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হলেও, যৌথ প্রতিরক্ষার বাস্তব কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়। ন্যাটোর ক্ষেত্রে যেমন Article 5-এর অধীনে সদস্যদের সামরিক প্রতিক্রিয়ার নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে, এই চুক্তির ক্ষেত্রে তেমন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে সৌদি আরব বা তুরস্ক সরাসরি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধে নামবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

আরও দেখুনঃ যাদবপুরে ধুন্ধুমার! বোতল-পাথর বৃষ্টি, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা ABVP-SFI-এর

বিশেষ করে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। (India Pakistan)ভারতের সঙ্গে রিয়াধের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিপুল বাণিজ্য, ভারতীয় প্রবাসীদের উপস্থিতি এবং জ্বালানি ও বিনিয়োগের সম্পর্কের কারণে পাকিস্তানের জন্য ভারতের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া সৌদি আরবের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। ফলে রিয়াধের সমর্থন সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

তুরস্কের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। (India Pakistan)পাকিস্তানের সঙ্গে আঙ্কারার প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তুরস্ক পাকিস্তানকে সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে সংঘাতের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশে রাজনৈতিকভাবে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তুরস্কের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের তুলনায় বেশি।

আরও দেখুনঃ পাক ঘাঁটিতে চিন-তুরস্কের টানা ৬০ ঘণ্টার সামরিক ‘এয়ারলিফ্ট’, সতর্ক দিল্লি

তবে সরাসরি সেনা পাঠিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ভারতীয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা এবং ন্যাটো সদস্য হিসেবে তুরস্কের নিজস্ব কৌশলগত বাধ্যবাধকতা এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলতে পারে।

এই জোটের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হল তিন দেশের সামরিক সক্ষমতার প্রকৃতি।(India Pakistan) তিন দেশেরই শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকলেও দূরবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালিয়ে অন্য দেশের হয়ে যুদ্ধ করার মতো সক্ষমতা তাদের নেই। আধুনিক যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও দূরপাল্লার অস্ত্রের কারণে কোনও দেশই সংঘাতের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকতে পারে না। ফলে পাকিস্তানের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে নামলে সৌদি আরব বা তুরস্কও ভারতীয় পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়বে।

আরও দেখুনঃ ইটের বদলে পাটকেল! দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের বাইরের ব্যারিকেড সরাল ভারত

তবে এই চুক্তিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করাও ভারতের পক্ষে কৌশলগত ভুল হতে পারে। পাকিস্তান যদি সৌদি অর্থ এবং তুরস্কের মাধ্যমে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আরও সহজে প্রবেশাধিকার পায়, তাহলে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার প্রভাব ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আঞ্চলিক দেশগুলি নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদার খুঁজছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *