ফাতাহ-৩ পরীক্ষার প্রস্তুতি? ৭৫০ কিমি আকাশসীমা বন্ধ পাকিস্তানের
ইসলামাবাদ: সাম্প্রতিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একদিকে, পাকিস্তান একটি বিশাল আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের নোটিশ জারি করেছে, যা…
ইসলামাবাদ: সাম্প্রতিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সামরিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একদিকে, পাকিস্তান একটি বিশাল আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের নোটিশ জারি করেছে, যা নতুন মিসাইল পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে; অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জেরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের তীব্র কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পাকিস্তান ১৯-২০ আগস্টের জন্য প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ আকাশসীমা জুড়ে একটি ‘নোটিশ টু এয়ারমেন’ (NOTAM) জারি করেছে। এত বড় এলাকা জুড়ে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এটিকে পাকিস্তানের উন্নত রকেট ও মিসাইল ভাণ্ডারের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তানের মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের (MLRS) ফাতাহ (Fatah) সিরিজ
কৌশলগত উদ্দেশ্য
ফাতাহ সিস্টেমগুলো মূলত পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথাগত দূরপাল্লার সমরাস্ত্র। শুধুমাত্র যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভর না করে, দূরপাল্লার সুনির্দিষ্ট নিশানায় আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতেই পাকিস্তান আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ডের (ARFC) অধীনে এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমান অস্ত্রভাণ্ডার
বর্তমানে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী স্বল্প-পাল্লার ‘ফাতাহ-১’ এবং তুলনামূলক বেশি পাল্লার ‘ফাতাহ-২’ সিস্টেম ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ‘ফাতাহ-৪’ সিস্টেমেরও খবর পাওয়া গেছে।
ভবিষ্যৎ সংস্করণ
‘ফাতাহ-৩’ এবং ‘ফাতাহ-৫’ তৈরির কথা ঘোষণা করা হলেও, এগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য বা আভিযানিক সক্ষমতা এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ৭৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জারি করা এই ‘নোটাম’ মূলত ‘ফাতাহ-৩’ বা আরও উন্নত কোনো সংস্করণের পরীক্ষার জন্যই হতে পারে।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ও পাকিস্তানের ক্ষোভ
সম্ভাব্য এই সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জল্পনার মাঝেই ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সম্প্রতি প্রথমবার শ্রীনগর সফরে গিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে “ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ” হিসেবে বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এই জায়গার সৌন্দর্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্যটি পাকিস্তান ভালোভাবে নেয়নি। এর প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন ‘চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স’-কে তলব করে একটি কড়া ‘ডিমার্শ’ (আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ) জারি করেছে।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্যকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের দাবি, এই মন্তব্যটি জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের (UN Charter) পরিপন্থী।
এই জোড়া ঘটনা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রায়শই সমান্তরালভাবে অবস্থান করে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে ঘুচুক জট! কর ও নীতিতে স্থিরতার বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
পাকিস্তানকে ফের রক্তাক্ত করল BLA! শেষ ৮ দিনে শেষ ২৬ পাক সেনা