ছবির গল্প নিয়ে ফোটোগ্রাফি দিবস পালন
এই সময়, মেদিনীপুর: ‘পিকচার টেলস অ্যা স্টোরি’-একটি ছবি যেন হাজার কথার সমান। সেই ছবির ভাষা, শিল্প ও সৃষ্টিশীলতাকে সামনে রেখে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেদিনীপুরে পালিত হলো বিশ্ব ফোটোগ্রাফি দিবস। ১৯ অগস্ট এই উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুর ফটোগ্রাফি ইউনাইটেড ফোরামের মেদিনীপুর টাউন ইউনিটের উদ্যোগে দিনটি উদযাপন করা হয়। বিশ্ব ফোটোগ্রাফি দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ফরাসি উদ্ভাবক লুই দাগেরের ‘দাগেরিওটাইপ’ পদ্ধতি ইতিহাস।
১৮৩৭-এ এই পদ্ধতির বিকাশ ঘটলেও ১৮৩৯-এর ১৯ অগস্ট ফরাসি সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রযুক্তি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে। সেই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণেই ১৯ অগস্ট বিশ্ব ফোটোগ্রাফি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে গত ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসে মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্র নিলয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল অঙ্কন প্রতিযোগিতার। বিভিন্ন বিভাগে অংশ নেয় ১৬২ জন শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী।
প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি সকল প্রতিযোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক। বুধবার, বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবসে শহরের বিদ্যাসাগর স্মৃতিমন্দিরে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর কুমার গুছাইত, মেদিনীপুর পুরপ্রধান সৌমেন খান প্রমুখ। বিকেলে কেক কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এরপর ফোটোগ্রাফি নিয়ে আলোচনা সভা, ফ্যাশন শো, মডেল শুট, মিউজ়িকের সঙ্গে যোগা, নৃত্য-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ফটোগ্রাফারদের উৎসাহিত করেন অতিথিরা। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনটি নানা ভাবে উদযাপিত হয়। ভারতেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফোটোগ্রাফি সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিনটি উদযাপন করে।
উদ্যোক্তাদের তরফে রাজীব গুহ, সোমনাথ দাস, গৌতম দে, ঝুমা কারক, দীপজ্যোতি মাহাতরা বলেন, ‘বর্তমানে ফটোগ্রাফি শুধু শখ নয়, বহু মানুষের পেশাও। কেউ ওয়েডিং, কেউ ফ্যাশন ফোটোগ্রাফি আবার কেউ ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফি করেন। আবার কেউ স্ট্রিট কিংবা প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালোবাসেন। একটি ভালো ছবি তোলার আনন্দ ও তৃপ্তি অন্য রকম। তাই আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রের ফোটোগ্রাফারদের এক ছাতার তলায় আনতে চাই।’