এআইয়ের দৌড়ে ভারত পিছিয়ে নেই, ৮০% নতুন স্টার্টআপই এআই-ভিত্তিক: বৈষ্ণব
নয়াদিল্লি: এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে ভারত (India AI) পিছিয়ে রয়েছে, এমন দাবি খারিজ করে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী…
নয়াদিল্লি: এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে ভারত (India AI) পিছিয়ে রয়েছে, এমন দাবি খারিজ করে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের শক্তি যথেষ্ট বেশি। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার, ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চিপ ডিজাইনে দক্ষ মানবসম্পদ ভারতের অন্যতম বড় শক্তি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মর্গ্যান স্ট্যানলির ভারতীয় গবেষণা বিভাগের প্রধান এবং প্রধান ভারতীয় ইকুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট ঋদ্ধম দেশাইয়ের সঙ্গে এক আলোচনায় বৈষ্ণব বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি রয়েছে অ্যাপ্লিকেশন স্তরে। তাঁর মতে, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজন বুঝে তাদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করতে সক্ষম।বৈষ্ণব বলেন, “এখন যে স্টার্টআপগুলি তৈরি হচ্ছে, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই মূলত এআই-ভিত্তিক সমাধান দিচ্ছে।”
ডেটা সেন্টারেও জোর দিচ্ছে ভারত
এআই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান বৈষ্ণব। তিনি বলেন, দেশের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন শিল্প গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। সেই একই মডেল এখন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। বৈষ্ণবের দাবি, বর্তমানে বিশ্বের মোট চিপ ডিজাইন কর্মীদের প্রায় ২০ শতাংশই ভারতে রয়েছেন। তিনি আরও জানান, ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি এখন পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎস থেকে আসে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে উৎপন্ন হচ্ছে।
মোবাইল উৎপাদন থেকে সেমিকন্ডাক্টর
ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে মোবাইল ফোনের কথা তুলে ধরেন বৈষ্ণব। তাঁর বক্তব্য, এক দশক আগে মোবাইল ফোন ভারতের রফতানি তালিকায় ১৬৮ নম্বরে ছিল। বর্তমানে সেটিই দেশের এক নম্বর রফতানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। বৈষ্ণবের মতে, এই একই ধাপে ধাপে এগোনোর কৌশল সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রথমে তৈরি পণ্য সংযোজনের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এরপর মডিউল, সাব-মডিউল এবং বর্তমানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির পর্যায়েও ভারত পৌঁছে গিয়েছে। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিগতভাবে তৈরি করা গোটা পরিকাঠামোর ফলে গত এক দশকে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পেরেছে।
চিপ ডিজাইনে ভারতের বড় শক্তি
চিপ ডিজাইনের ক্ষেত্রেও ভারতের দক্ষতার কথা তুলে ধরেছেন বৈষ্ণব। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াররা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য নানা ধরনের পণ্য ডিজাইন করছেন।এই দক্ষতাকেই সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে বিশ্বের চিপ ডিজাইন কর্মীদের প্রায় ২০ শতাংশ ভারতে থাকলেও সরকার এই দক্ষ মানবসম্পদ আরও বাড়াতে চাইছে। দেশের ৩১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উন্নত চিপ ডিজাইন করার সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
পড়ুয়ারাই তৈরি করছেন চিপের নকশা
বৈষ্ণব জানান, সিনপসিস এবং ক্যাডেন্সের মতো সংস্থার উন্নত চিপ ডিজাইন সরঞ্জাম ব্যবহার করে পড়ুয়ারা চিপের নকশা তৈরি করছেন। শুধু নকশা তৈরিই নয়, সেই নকশা কীভাবে তৈরি, সংযোজন এবং পরীক্ষা করা হয়, তার বাস্তব অভিজ্ঞতাও তাঁরা পাচ্ছেন। ভারতের একটি সেমিকন্ডাক্টর গবেষণাগারে তাঁদের তৈরি নকশা উৎপাদন, সংযোজন এবং পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সরকারের লক্ষ্য, উন্নত প্রযুক্তির এই সুযোগ দেশের আরও বেশি পড়ুয়া ও তরুণ প্রতিভার কাছে পৌঁছে দেওয়া।
ভারতের মেধা ও প্রযুক্তির উপর আস্থা
ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি দেশের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ব্যবস্থার উপরও আন্তর্জাতিক আস্থা রয়েছে বলে দাবি করেছেন বৈষ্ণব। তিনি বলেন, ভারতের কপিরাইট এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী। তাঁর মতে, এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ভারতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা শুধু উৎপাদনের উপর নির্ভর করছে না, বরং গবেষণা, নকশা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার উপরও নির্ভরশীল।
বৈষ্ণবের বক্তব্য, এআইয়ের ক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি তৈরি করা নয়। বরং বিভিন্ন শিল্পে সেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো তৈরি করা এবং চিপ ডিজাইনের মতো উচ্চ দক্ষতার ক্ষেত্রে ভারতের মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি-পরিবেশ তৈরি করা।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের