উৎসবের আগে চিনির দাম কমাতে ১০ লক্ষ টন শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি কেন্দ্রের
নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুমে দেশে চিনির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম (Sugar Price) নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিল ভারত সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রক…
নয়াদিল্লি: উৎসবের মরশুমে দেশে চিনির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম (Sugar Price) নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিল ভারত সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রক বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই শুল্কমুক্ত আমদানি করা যাবে।
দেশে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক মাসে দাম দ্রুত বেড়েছে। গত এক মাসেই ঘরোয়া বাজারে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত দুই মাসে দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ৪০ শতাংশ বলে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চিনি ব্যবহারকারী দেশ ভারত প্রায় এক দশক পর আবার চিনি আমদানির পথে হাঁটছে। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় তৈরি হওয়া ঘাটতি মেটানো এবং উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়ার আগে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য।
উৎসবের আগেই বাজারে বাড়বে চিনির সরবরাহ
আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়ার আগেই অতিরিক্ত চিনি দেশে ঢোকার সুযোগ পাবে।
সাধারণত অগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে চিনির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। গণেশ চতুর্থী, দশেরা এবং দীপাবলির মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে মিষ্টি, কেক ও অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাবারের ব্যবহার বাড়ে।
বিস্কুট এবং মিষ্টি তৈরির মতো বড় শিল্প সংস্থাগুলিও উৎসবের আগে বাড়তি মজুত তৈরি করে। ফলে এই সময়ে চাহিদা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরকারের লক্ষ্য, উৎসবের চাহিদা বাজারে আরও চাপ তৈরি করার আগেই সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা।
বড় ক্রেতাদের চিনির মজুতেও লাগাম
চিনি আমদানির পাশাপাশি বড় ক্রেতাদের মজুতের ওপরও নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী বড় ক্রেতারা ১৫ দিনের বেশি ব্যবহারের সমপরিমাণ চিনি মজুত রাখতে পারবেন না।
এর আগে গত মাসে চিনি ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ৩০ দিনের সরবরাহের সমপরিমাণ মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের লক্ষ্য হল, উৎসবের সময় অতিরিক্ত মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়া আটকানো এবং বাজারে উপলব্ধ চিনি দ্রুত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
খারাপ আবহাওয়ায় কমেছে আখের উৎপাদন
দেশে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিকূল আবহাওয়াকেও দেখা হচ্ছে। কোথাও অনিয়মিত বৃষ্টি, আবার কোথাও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আখের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আখ চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। ফলে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে চিনির সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। একই সময়ে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়তে চলায় দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের অনুমান, সরবরাহ কম থাকা এবং উৎসবের চাহিদা বাড়ার কারণে আগামী অন্তত তিন মাস চিনির দাম তুলনামূলকভাবে উঁচু থাকতে পারে।
বিশ্ববাজারেও পড়তে পারে ভারতের আমদানির প্রভাব
ভারত আবার বড় পরিমাণে চিনি আমদানি শুরু করায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিনি-ভোক্তা ভারতের বাড়তি চাহিদা আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছলে লন্ডন ও নিউইয়র্কের বেঞ্চমার্ক চিনির দামেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।
ভারতে চিনি একটি রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল পণ্য। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি উৎসবের সময় মিষ্টির চাহিদার কারণে এর দাম বৃদ্ধি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির ক্ষেত্রেও চিনির দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে পারে।
শুল্কমুক্ত আমদানি, মজুতের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং উৎসবের আগে সরবরাহ বাড়ানোর এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে সরকার এখন একইসঙ্গে বাজারে চিনির জোগান বাড়ানো এবং অতিরিক্ত মজুত রোধ করার চেষ্টা করছে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের