‘টুলু মণ্ডল তো ইন্দ্রজিৎ, মেঘের আড়ালে বসে সব লক্ষ্য রাখছেন’, আবেদন খারিজ করে বলল কোর্ট
বীরভূম-বর্ধমান জেলায় টুলু মণ্ডলের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে লাগাতার হানা দিচ্ছে জেলা পুলিশ। অথচ টুলুকে আর কোনও ভাবেই নাগালে পাচ্ছে না তারা। এরই মধ্যে সুরক্ষা পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহম্মদবাজারের এই পাথর ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের আদালতে সেই মামলার শুনানি ছিল বৃহস্পতিবার। কোর্টরুমে টুলুকে মেঘের আড়াল থেকে যুদ্ধ করা ইন্দ্রজিতের সঙ্গে তুলনা আদালতের।
টুলুর হদিশ আর কেউ পায় না!
টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সিউড়িতে টুলুর বাসস্থান—‘দলিলা ভবন’–এ হুলিয়া সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিউড়ি আদালতের এসিজেএম-এর নির্দেশে এই হুলিয়া জারি হয়েছে। কারণ, টুলু বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে খবর। টুলুর বিরুদ্ধে রয়েছে রেড কর্নার নোটিসও। তারপরেও টুলুর খোঁজ নেই। অথচ কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
আদালত কী বলল?
এ দিন আদালতে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখানে তো মামলাকারী রামায়ণের ইন্দ্রজিৎ। মেঘের আড়ালে বসে সব লক্ষ্য করছেন। তিনি দেশের বাইরে বসে। তিনি তো মুক্ত। তাঁকে কী সুরক্ষা দেবে কোর্ট?’ টুলুর হয়ে এ দিন আদালতে সওয়াল করতে আসা প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভের লাগাতার সওয়ালেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এখনই তদন্তে হস্তক্ষেপের কোনও কারণ দেখছে না আদালত।
বালি, পাথরের অবৈধ পাচার থেকে তোলাবাজি…
রাজ্যের দেওয়া মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট খুলে পড়ে বিচারপতির মন্তব্য, ‘অর্গানাইজড ক্রাইমের ধারা যথাযথ যুক্ত করা হয়েছে। বালি, পাথরের অবৈধ পাচার থেকে সংঘবদ্ধ ভাবে তোলাবাজি, জমি হাতানো যাবতীয় অভিযোগ আছে মামলাকারীর বিরুদ্ধে। জাল নথি দিয়ে টোল আদায়ের মতো ঘটনায় অভিযুক্ত। যার ফলে সরকারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’
দু’টো মামলায় চার্জশিটও জমা দিয়েছে পুলিশ
আদালতের পর্যবেক্ষণ, দু’টো মামলায় চার্জশিটও জমা দিয়েছে পুলিশ। কোর্ট কগনিজেন্স নিয়েছে। মহম্মদবাজারের দু’টো মামলা। এই অবস্থায় ঘটনার গভীরতা বুঝে হস্তক্ষেপ করতে নারাজ কোর্ট। কোর্টের নির্দেশ, পুলিশের যে রিপোর্ট এসেছে তাতে অর্গানাইজড ক্রাইমের পর্যাপ্ত অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্য রয়েছে। তার সঙ্গে মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকা ও সোনা নিয়ে তদন্ত যুক্ত হয়েছে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। এই অবস্থায় অভিযোগের গুরুত্ব ও পরিসর বুঝে তদন্তে হস্তক্ষেপ যথাযথ নয় বলে মনে করছে হাইকোর্ট।
পুলিশকে নির্দেশ, দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে। মামলাকারীর আগাম জামিনের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। তবে এই মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট। যদিও টুলুর দায়ের করা অন্য একটি আবেদনের শুনানি ২৭ অগস্ট হওয়ার কথা।