Aston Martin Valen রাজপথে! ৮৫০ হর্সপাওয়ারে সংস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী GT
কলকাতা: ২০২৬ মন্টেরি কার উইকে অ্যাস্টন মার্টিন ভ্যালেন (Aston Martin Valen) উন্মোচন করেছে। এটি সংস্থার এখনও পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রন্ট-ইঞ্জিনযুক্ত প্রোডাকশন গাড়ি। ভ্যানকুইশ থেকে…
কলকাতা: ২০২৬ মন্টেরি কার উইকে অ্যাস্টন মার্টিন ভ্যালেন (Aston Martin Valen) উন্মোচন করেছে। এটি সংস্থার এখনও পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রন্ট-ইঞ্জিনযুক্ত প্রোডাকশন গাড়ি। ভ্যানকুইশ থেকে নেওয়া ৫.২-লিটারের টুইন-টার্বো ভি১২ ইঞ্জিন এই জিটি গাড়িটিকে চালিত করে এবং সর্বোচ্চ ৮৫০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপন্ন করে।
অ্যাস্টন মার্টিনের ‘কিউ’ পার্সোনালাইজেশন বিভাগ মাত্র ১৫০টি ভ্যালেন তৈরি করবে। গাড়িটির ডেলিভারি শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে। গাড়িটি তৈরিতে কার্বন ফাইবার, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটি ভ্যানকুইশের তুলনায় প্রায় ১১০ কেজি হালকা।
অ্যাস্টন মার্টিন ভ্যালেনের ডিজাইন
ভ্যালেনের ডিজাইনে অ্যাস্টন মার্টিন প্রচলিত নকশা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে। সংস্থার চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার মারেক রাইখম্যান জানিয়েছেন, আগের ডিজাইন ভাষা থেকে সরে এসে আরও আক্রমণাত্মক চেহারা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নকশা তৈরি করা হয়েছে। সামনের দিকে রয়েছে আরও ধারালো নোজ, ভাস্কর্যের মতো নকশার বনেট এবং ইঞ্জিনে বাতাস পৌঁছানোর জন্য কার্যকর এয়ার ভেন্ট। অ্যাস্টন মার্টিনের পরিচিত গ্রিল সামনের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে।
সরু অনুভূমিক এলইডি হেডল্যাম্প এবং ডিআরএল গাড়িটির চেহারাকে আরও আক্রমণাত্মক করেছে। সামনের দিকে একটি বড় স্প্লিটারও রয়েছে, যা গাড়ির অ্যারোডায়নামিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাতাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভ্যালেনে হালকা ম্যাগনেশিয়াম চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বিশেষভাবে তৈরি পিরেলি পি জিরো আর টায়ার। সামনে টায়ারের মাপ ২৭৫/৩৫ জেডআর২১ এবং পিছনে ৩২৫/৩০ জেডআর২১। গাড়িটিতে পিরেলির সাইবার টায়ার প্রযুক্তিও রয়েছে। এর মাধ্যমে টায়ার সংক্রান্ত লাইভ তথ্য গাড়ির ইলেকট্রনিক ডায়নামিক্স ব্যবস্থায় পাঠানো যায়।
পাশের নকশাতেও বড় পরিবর্তন
অ্যাস্টন মার্টিনের প্রচলিত সাইড স্ট্রেকের পরিবর্তে ভ্যালেনে বড় কার্যকর এয়ার ভেন্ট দেওয়া হয়েছে। এগুলি সামনের চাকার চারপাশের বাতাস বের করে পিছনের দিকে পাঠায়। এর ফলে গাড়ির অ্যারোডায়নামিক পারফরম্যান্স উন্নত হয়। পিছনের নকশাতেও রয়েছে বড় পরিবর্তন। প্রচলিত রিয়ার উইন্ডস্ক্রিনের পরিবর্তে ভ্যালেনে একটি শক্ত টেলগেট ব্যবহার করা হয়েছে। এটি খুললে ১৭০ লিটার লাগেজ স্পেস পাওয়া যায়।

টেলগেটের সঙ্গে যুক্ত একটি অ্যারোডায়নামিক উপাদান গার্নি ফ্ল্যাপের মতো কাজ করে। এর ফলে বড় রিয়ার উইংয়ের মতো অতিরিক্ত ড্র্যাগ তৈরি না করেই ডাউনফোর্স বাড়ানো সম্ভব হয়। পিছনে রয়েছে সরু এলইডি টেল-লাইট স্ট্রিপ। এক্সহস্ট ব্যবস্থায় রয়েছে চারটি থ্রিডি-প্রিন্টেড টাইটানিয়াম আউটলেট। এগুলি দুইটি উপরে এবং দুইটি নিচে সাজানো। উপরের দুটি আউটলেট সবসময় সক্রিয় থাকে। নিচের দুটি গাড়ির আরও পারফরম্যান্স-কেন্দ্রিক ড্রাইভিং মোড চালু হলে সক্রিয় হয়। ক্রেতারা চাইলে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত কার্বন-ফাইবার বডিও বেছে নিতে পারবেন। অ্যাস্টন মার্টিনের কিউ বিভাগ সাটিন এবং গ্লস, দুই ধরনের ফিনিশ দিচ্ছে।
কেবিনে আধুনিক প্রযুক্তি
ভ্যালেনের কেবিনে ভ্যানকুইশের প্রভাব রয়েছে। তুলনামূলক পরিষ্কার ড্যাশবোর্ডের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এতে রয়েছে:
- ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার
- তিন-স্পোক স্টিয়ারিং হুইল
- ১০.২৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা
- ১৫-স্পিকারের বোয়ার্স অ্যান্ড উইলকিন্স অডিও সিস্টেম
- ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা
- ডিজিটাল ইন্টেরিয়র রিয়ার-ভিউ মিরর
- বৈদ্যুতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত স্টিয়ারিং কলাম
- ওয়্যারলেস স্মার্টফোন চার্জিং
সেন্টার কনসোলটি থ্রিডি-প্রিন্টেড। এর ফলে যেসব জায়গায় চালক ও যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন, সেখানে আরও নিখুঁত পৃষ্ঠ এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কার্বন ফাইবারে তৈরি এই কনসোলে রয়েছে পুশ-বাটন ইগনিশন এবং বিমানের ককপিট থেকে অনুপ্রাণিত ড্রাইভ-মোড সিলেক্টর। সামনের আসনের জন্য দুটি বিকল্প রয়েছে। স্পোর্ট প্লাস সিট দীর্ঘ দূরত্বের আরাম এবং কর্নারিংয়ের সময় শরীরকে ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। অন্যদিকে কার্বন-ফাইবার পারফরম্যান্স সিট আরও স্পোর্টি ড্রাইভিংয়ের জন্য তৈরি।
৮৫০ হর্সপাওয়ার ভি১২ ইঞ্জিন
অ্যাস্টন মার্টিন ভ্যালেনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ৫.২-লিটারের টুইন-টার্বো ভি১২ ইঞ্জিন। ভ্যানকুইশে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের ভিত্তিতেই তৈরি এই ইউনিট ভ্যালেনে আরও বেশি শক্তি উৎপন্ন করে। ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৮৫০ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১,০০০ এনএম টর্ক তৈরি করে। এর সঙ্গে রয়েছে ৮-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্স। এই গিয়ারবক্সের সফটওয়্যার জিটি৪ রেসকারের সফটওয়্যার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন ড্রাইভিং মোডে আরও দ্রুত এবং আকর্ষণীয় গিয়ার পরিবর্তন পাওয়া যায়। শক্তি যায় পিছনের চাকায়। অ্যাস্টন মার্টিনের দাবি অনুযায়ী, ভ্যালেন মাত্র ৩.১ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতে পারে। ভ্যানকুইশের তুলনায় এটি ০.২ সেকেন্ড দ্রুত। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিকভাবে ৩৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
ভ্যানকুইশের তুলনায় ১১০ কেজি হালকা
ভ্যালেনের ওজন কমানোর জন্য কার্বন ফাইবার, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে গাড়িটি ভ্যানকুইশের তুলনায় প্রায় ১১০ কেজি হালকা হয়েছে। কম ওজন এবং বেশি শক্তির সংমিশ্রণ গাড়িটির ত্বরণ, পরিচালনা এবং ট্র্যাক পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখবে। অ্যাস্টন মার্টিন ইএসপি, থ্রোটল, ব্রেকিং এবং স্টিয়ারিং ব্যবস্থার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ক্যালিব্রেশনেও বড় পরিবর্তন করেছে। সাসপেনশনে আরও শক্ত স্প্রিং ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে চালকের ইনপুটের সময় বডির রোল এবং পিচ কমানো যায়। সংস্থার লক্ষ্য, এর মাধ্যমে আরও দ্রুত এবং চটপটে পরিচালনা নিশ্চিত করা।
মাত্র ১৫০টি গাড়ি তৈরি এবং ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক থেকে ডেলিভারি শুরু হওয়ার কথা থাকায়, ভ্যালেন অ্যাস্টন মার্টিনের অত্যন্ত সীমিত এবং বিশেষায়িত জিটি মডেলগুলির অন্যতম হতে চলেছে।