সেনার তথ্য পাচার? রিষড়া থেকে STF-এর জালে পাক গুপ্তচর
কলকাতা/হুগলি: পাকিস্তানি গুপ্তচর রানা রউফকে সাহায্য করার অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতের নাম জাফর শামস। বুধবার রাত…
কলকাতা/হুগলি: পাকিস্তানি গুপ্তচর রানা রউফকে সাহায্য করার অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতের নাম জাফর শামস। বুধবার রাত প্রায় দুটো নাগাদ হুগলির রিষড়ার সন্ধ্যাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, এই জাফরই পাক গুপ্তচর রানাকে স্থানীয় এলাকায় লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল এবং হাওড়ার সালকিয়ার একটি কারখানায় তার কাজের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল।
STF সূত্রে খবর, সম্প্রতি পাকিস্তানি গুপ্তচর রানা রউফকে গ্রেফতারের পর একটি বড় গুপ্তচর চক্রের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই উঠে আসে জাফর শামসের নাম। অভিযোগ, রানাকে নিজের ‘বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে তার একটি ভুয়ো পরিচিতি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল জাফর। শুধু তাই নয়, সালকিয়ার কারখানায় রানাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পিছনেও তার হাত ছিল বলে দাবি তদন্তকারী আধিকারিকদের। জানা যাচ্ছে, ধৃত জাফরকে সানি নামেও চেনে অনেকে।
তদন্তকারীদের নজরে কী কী?
STF-এর দাবি, ভারতীয় সেনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সামরিক পরিকাঠামো সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছিল রানা রউফ। সেই তথ্য ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে পাচার করা হয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে, এই গোটা গুপ্তচর বৃত্তে জাফরের ভূমিকা ঠিক কতটা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। শুধুমাত্র বন্ধু হিসেবে চাকরি পাইয়ে দেওয়া ও থাকার বন্দোবস্ত করার মধ্যেই তার ভূমিকা সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি এর পিছনে বড় কোনও আর্থিক লেনদেন বা দেশবিরোধী সংগঠনের মদত রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে জাফরকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে STF।
এসটিএফের পরবর্তী পদক্ষেপ
গোয়েন্দাদের মতে, এই গ্রেফতারি জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একজন বিদেশি গুপ্তচর কীভাবে বাংলার বুকে এসে নির্বিঘ্নে স্থানীয় পরিচয় তৈরি করে থাকছিল এবং এই কাজে স্থানীয় আর কারা তাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে, সেই পুরো নেটওয়ার্কটির শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা করছে STF। রানার সঙ্গে জাফরের কতদিনের পরিচয় এবং এই চক্রের জাল রাজ্যের আর কোথায় কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে, তা জানতে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।
আগামী বছরেই নর্দার্ন সি রুট দিয়ে প্রথম কার্গো জাহাজ রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত
তেজস থেকে সুখোই: যন্ত্রাংশ দেশীয়করণে কেন এত জোর ভারতের?