সমালোচনাই আমাকে আরও বড় উচ্চতায় পৌঁছতে অনুপ্রাণিত করে: বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ
কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে কী আলোচনা চলছে, তা চোখ এড়ায়নি ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের। তবে সমালোচনা বা কটাক্ষে ভেঙে না পড়ে বরং…
কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে কী আলোচনা চলছে, তা চোখ এড়ায়নি ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের। তবে সমালোচনা বা কটাক্ষে ভেঙে না পড়ে বরং সেগুলিকেই নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কোচ হিসেবে তাঁর নিয়োগ সোমবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) নিশ্চিত করার পর নিজের মনোভাবের কথা জানালেন বিবিয়ানো।
প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার আলোচনা চলছিল ‘বিবিয়ানো বনাম রণজিৎ বাজাজ’ নিয়ে। মিনার্ভা অ্যাকাডেমির মালিক রণজিৎ বাজাজ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এবং এআইএফএফের টেকনিক্যাল কমিটির সামনে বিস্তারিত পরিকল্পনাও পেশ করেছিলেন। বাজাজের দলগুলি বয়সভিত্তিক ফুটবলে একাধিক সাফল্য পেয়েছে। ফলে তাঁর সমর্থকদের একাংশ বিবিয়ানোর যোগ্যতা, কোচিংয়ের ধরন এবং সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মন্তব্য ছিল তীব্র, কিছু আবার ছিল যথেষ্ট অসম্মানজনক।
তবে এসব নিয়ে বিশেষ বিচলিত নন বিবিয়ানো।
টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার এই আওয়াজ আমাকে একেবারেই প্রভাবিত করেনি। কখনও কখনও অনলাইনে যা দেখেছি, তা দেখে আমার হাসি পেয়েছে। আমি সমালোচনাকে নিজের মতো করে নিই, এটা কাজেরই একটা অংশ। বরং সমালোচনাই আমাকে আরও বড় উচ্চতায় পৌঁছতে অনুপ্রাণিত করে।”
বয়সভিত্তিক ফুটবলে ভারতের অন্যতম সফল কোচ
যুব ফুটবলে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে বিবিয়ানোর সাফল্যের তালিকা যথেষ্ট দীর্ঘ। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্বে থাকার সময়ে তাঁর কোচিংয়ে ভারত চারবার এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এছাড়াও ভারত তাঁর সময়ে বয়সভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি শিরোপা জিতেছে। ঘরের মাঠে শক্তিশালী ইরানের বিরুদ্ধেও জয় পেয়েছে ভারত।
২০১৮ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে প্রায় টপকে যাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ভারতীয় দল। এবার বিবিয়ানোর সামনে একেবারে নতুন চ্যালেঞ্জ। আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
৮ জনের ফুটবল, তবুও কোচিংয়ের মূলনীতি একই
অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফরম্যাট সাধারণ আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার থেকে আলাদা। এখানে ১১ জনের পরিবর্তে প্রতি দলে আটজন করে ফুটবলার মাঠে নামবেন। বিবিয়ানো অবশ্য মনে করেন, ফরম্যাট বদলালেও কোচিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলি বদলায় না।
তিনি বলেন, “অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ৮ জনের ফরম্যাটে হবে, কিন্তু কোচিংয়ের মূল বিষয়গুলি একই থাকবে। কিছুই বদলায় না। প্রতিটি কোচিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রেই আপনাকে বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে কোচরা সব ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে শেখেন।”
প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যাল ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর আজারবাইজানে হওয়ার কথা। এটি প্রচলিত অর্থে শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং একটি ফুটবল উৎসবের ধাঁচে আয়োজন করা হচ্ছে। ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ম্যাচ হবে ৮ বনাম ৮। প্রতিটি অর্ধের সময় ২০ মিনিট। থাকবে রোলিং সাবস্টিটিউশন বা চলমান বদলির সুযোগ। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি দলকে অন্তত পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে। এই পর্বে ৩২টি গ্রুপে ছয় থেকে সাতটি করে দল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নজরে থাকবে ভবিষ্যতের তারকারা
বিবিয়ানোর কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য এমন প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করা, যারা ভবিষ্যতে ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করতে পারে।
তিনি বলেন, “আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা এমন সেরা ছেলেদের খুঁজে বের করার দিকে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যাদের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই দলটির জন্য এটি খুব ভালো অভিজ্ঞতা হবে, কারণ আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলব। প্রতিযোগিতা শেষ হলে আমরা বুঝতে পারব আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।”
তবে শুধু ফুটবলারদেরই পরীক্ষা হবে না। আজারবাইজানে দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কোচ হিসেবে বিবিয়ানোর কাজও থাকবে গভীর পর্যবেক্ষণে। তিনি জানেন, প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন। তবে চাপকেও ইতিবাচকভাবেই দেখছেন গোয়ার এই কোচ।
“চাপ এড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু সেটিই বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। চাপ আমাকে প্রভাবিত করে না। আমি জানি, ফেডারেশনের পূর্ণ সমর্থন আমার সঙ্গে রয়েছে। আজারবাইজানে ফলাফল যাই হোক না কেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিতে পারি যে আমি নিজের সেরাটা দেব এবং ছেলেরাও নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে,” বলেন বিবিয়ানো।