বিদেশি লগ্নি-ইউপিআই চার্জ বিলে সই রাষ্ট্রপতির
এই সময়: দেশে বিদেশি বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি বৈদ্যুতিন পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং ডিজিটাল লেনদেনের জন্য আরও সুসংহত পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বদল কার্যকর করল কেন্দ্র। সম্প্রতি ২০২৬-এর ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ় (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট এবং ২০০৭-এর পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট সংশোধনের আইনে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
গত ১০ অগস্ট সংসদে পাশ হওয়া দুই বিলেই রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর মিলেছে ১৭ অগস্ট। আইন মন্ত্রকের প্রকাশিত গেজ়েট বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন আইনি কাঠামোর ফলে এক দিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কর সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমবে, অন্য দিকে দেশে বৈদ্যুতিন পণ্য ও যন্ত্রাংশ তৈরিতে বিদেশি সংস্থাগুলিকে আরও উৎসাহ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি, ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই এবং রুপে কার্ডের ক্ষেত্রে এত দিন যে ‘জি়রো মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা এমডিআর ব্যবস্থা চালু ছিল, ভবিষ্যতে সেই ব্যবস্থার বদলেও আইনি সুযোগ তৈরি হলো।
কর আইন সংশোধনের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফপিআই) ভারতে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। নতুন আইনটি গত ৫ জুন জারি হওয়া অর্ডিন্যান্সকে প্রতিস্থাপন করেছে। ওই অর্ডিন্যান্সে সরকারি ঋণপত্রে বিনিয়োগ থেকে এফপিআইগুলির সুদ ও মূলধনী লাভের উপরে আয়কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সংশোধিত আইনে ভারতে ফান্ড ম্যানেজারদের ব্যবসা স্থানান্তর বা ‘রিলোকেট’ করার পথও সহজ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এমন কিছু শর্ত ছাঁটাই করা হয়েছে, যেগুলি পূরণ না হলে ওই ফান্ডের আন্তর্জাতিক ব্যবসা থেকে আয়ও ভারতে করযোগ্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। সরকারের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের কাছে ভারত আরও আকর্ষক গন্তব্য হয়ে উঠবে এবং বিদেশি মূলধনের ফ্লো বাড়বে।
দেশের বৈদ্যুতিন উৎপাদন শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন আইনে দীর্ঘমেয়াদি নীতি নিশ্চয়তার বার্তা রয়েছে। ভারতে চুক্তির ভিত্তিতে বৈদ্যুতিন পণ্য উৎপাদন করানোর ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থাগুলি যে আয়কর ছাড় পেয়ে থাকে, তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৪০-৪১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির কাছে ভারতে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা কিংবা স্থানীয় নির্মাতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনে যে পণ্যগুলিকে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পার্সোনাল কম্পিউটার, ট্যাবলেট, সার্ভার এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী রয়েছে। বিদেশি সংস্থাগুলি কাস্টমস-নিয়ন্ত্রিত গুদামে যন্ত্রাংশ মজুত রেখে ভারতে চুক্তিবদ্ধ নির্মাতাদের সরবরাহ করলে তার থেকে যে আয় হবে, তার উপরে ১৫ বছরের জন্য, অর্থাৎ ২০৪০-৪১ পর্যন্ত আয়কর ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্য দিকে, পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭-এর সংশোধন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। সংশোধিত আইনে সরকারকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা বা লেনদেনকে এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।