স্ত্রীকে মাঝরাস্তায় ফেলে ছুরির কোপ! হাড়হিম করা ঘটনা পুরুলিয়ায়
মাঝ রাস্তায় স্ত্রীকে কোপানোর অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার পুরুলিয়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মাহাতোপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে হাড়হিম করা সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে। আক্রান্ত মহিলা দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে আইসিইউয়ে ভর্তি। আটক করা হয়েছে আক্রান্ত মহিলার স্বামী বীরু লোহারকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই মহিলার নাম মৌসুমী লোহার ওরফে ঝুমা। বয়স ৩৫-৩৬ বছর। তাঁর শ্বশুরবাড়ি পুরুলিয়ার ঝালদা থানা এলাকায়। অভিযোগ, দাম্পত্য কলহের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি বাপেরবাড়িতে থাকছিলেন। বাপেরবাড়ি পুরুলিয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শিমুলঘুটা এলাকায়। খরচ চালাতে গত তিন মাস ধরে একটি আটাকলে কাজও নেন মৌসুমী।
অভিযোগ, সোমবার রাতে বীরু তাঁদের মেয়েকে ফোন করে নাতিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। বাবার এই কথা শুনে আতঙ্কিত মেয়ে ছেলেকে নিয়ে মামারবাড়ি থেকে অন্যত্র লুকিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার মেয়ে, নাতিকে না পেয়ে স্ত্রীর কাজের জায়গায় গিয়ে হাজির হন বীরু। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীকে দিয়ে স্ত্রীকে বাইরে ডেকে পাঠান।
অভিযোগ, মৌসুমী বাইরে আসতেই আচমকা পকেট থেকে ছুরি বের করে তাঁর উপরে এলোপাথাড়ি কোপ বসাতে শুরু করেন বীরু। সেই সময়ে এক যুবক এগিয়ে আসেন। তাঁর জন্যই প্রাণে বাঁচেন মৌসুমী। চিৎকার শুনে নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করেই বীরুর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। বীরুকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে এলাকার লোকজনও জড়ো হয়ে যান। বীরুকে আটকে থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ আসার আগেই একটি টোটোয় চাপিয়ে রক্তাক্ত মৌসুমীকে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। আইসিইউয়ে আছেন মৌসুমী। এখনও বিপদ কাটেনি বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।