মেটার সামনে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের আইনি ঝুঁকি, বদলাতে পারে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম - 24 Ghanta Bangla News
Home

মেটার সামনে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের আইনি ঝুঁকি, বদলাতে পারে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

Spread the love

ওয়াশিংটন: তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা মেটা (Meta)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের করা মামলায় অভিযোগ উঠেছে, মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পরিচিত ফিচার শিশু ও কিশোরদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার মতো করে তৈরি করা হয়েছে। মামলায় মেটার বিরুদ্ধে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অভিভাবকের যথাযথ সম্মতি ছাড়াই তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।

২০২৩ সালে দায়ের হওয়া এই মামলা এবার ক্যালিফোর্নিয়ায় বিচারপর্বে গড়িয়েছে। মামলায় আর্থিক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ বাস্তবে আদায় হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তবে মামলার গুরুত্ব শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণে সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের সিদ্ধান্ত মেটার প্ল্যাটফর্মগুলির নকশা এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

কোন কোন ফিচার বদলে যেতে পারে?

মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বেশ কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার নিয়ে আপত্তি তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে পোস্টের লাইক সংখ্যা, অনন্ত স্ক্রলিং, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, সাময়িকভাবে দেখা যায় এমন কনটেন্ট, পুশ নোটিফিকেশন, একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুবিধা এবং চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টার।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এই ধরনের ফিচার কিশোর-কিশোরীদের প্ল্যাটফর্মে আরও বেশি সময় কাটাতে উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করার প্রবণতাও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে অনন্ত স্ক্রলিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর সামনে কোনও স্পষ্ট শেষ বিন্দু থাকে না। একটি পোস্ট দেখার পরেই আরও পোস্ট সামনে আসতে থাকে। ফলে কখন থামবেন, তা ব্যবহারকারীর পক্ষে নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।
একইভাবে স্বয়ংক্রিয় ভিডিও চালু হওয়ার কারণে একটি ভিডিও শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে আলাদা করে আরেকটি ভিডিও বেছে নিতে হয় না। পরবর্তী কনটেন্ট সহজেই সামনে চলে আসে।

লাইক সংখ্যাও মামলার কেন্দ্রে

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অন্যতম পরিচিত ফিচার লাইক সংখ্যাও আইনি বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। অঙ্গরাজ্যগুলির অভিযোগ, একটি পোস্ট কতগুলি লাইক পেয়েছে তা প্রকাশ্যে দেখা গেলে তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সামাজিক তুলনার প্রবণতা বাড়তে পারে। আদালতের নথিতে মেটার নিজস্ব গবেষণা এবং প্রজেক্ট ডেইজি-র কথাও উঠে এসেছে। এই পরীক্ষায় লাইক সংখ্যা গোপন করলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে নেতিবাচক সামাজিক তুলনা কমে কি না, তা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিও প্রশ্নের মুখে

মামলায় ইনস্টাগ্রামের সাময়িক কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মতো কনটেন্ট নির্দিষ্ট সময় পরে অদৃশ্য হয়ে যায়। অঙ্গরাজ্যগুলির দাবি, এই ধরনের বৈশিষ্ট্য ব্যবহারকারীদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসতে উৎসাহিত করতে পারে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ কোনও পোস্ট বা আপডেট মিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

নিউ মেক্সিকো মামলাতেও বড় ধাক্কা

ক্যালিফোর্নিয়ার মামলার আগে নিউ মেক্সিকোতে মেটা আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাক্কা খেয়েছে। মার্চ মাসে একটি জুরি সংস্থাটিকে রাজ্যের অন্যায্য ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সংক্রান্ত আইনের অধীনে শিশুদের নিরাপত্তা বিপন্ন করার জন্য দায়ী করে। সেখানে মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরবর্তী পর্যায়ে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কি না এবং আরও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তা নিয়ে শুনানি হয়। সেই পর্যায়ে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার আর্থিক দায় চাপানো হয়। ফলে নিউ মেক্সিকো মামলায় মোট দায় দাঁড়ায় ৯৪২ মিলিয়ন ডলার। মেটা জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার মামলাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

নতুন মামলায় মোট ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল যুক্ত থাকলেও প্রথম বিচারপর্বে চারটি অঙ্গরাজ্য অংশ নিচ্ছে। এগুলি হল ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি এবং নিউ জার্সি। ওকল্যান্ডে মামলাটির শুনানি করছেন মার্কিন জেলা বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্স। মামলায় আট সদস্যের একটি পরামর্শদাতা জুরি রয়েছে। তবে এই জুরির সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হবে না। তারা প্রমাণ ও যুক্তি পর্যালোচনা করে বিচারককে মতামত দেবে। শেষ সিদ্ধান্ত বিচারকই নেবেন।

শিশুদের তথ্য সংগ্রহ নিয়েও অভিযোগ

অঙ্গরাজ্যগুলির অভিযোগের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মেটা প্রয়োজনীয় অভিভাবকীয় নোটিশ দেয়নি, সম্মতি নেয়নি এবং অভিভাবকদের সন্তানদের তথ্য পর্যালোচনার যথাযথ সুযোগও দেয়নি।

মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার বক্তব্য, তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বহু বছর ধরে বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করছে।

মেটা কিশোর ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে বয়স যাচাই প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে বলেও জানিয়েছে। বয়স কম বলে মনে হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিশোরদের জন্য নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এখন ক্যালিফোর্নিয়ার এই মামলার রায়ই ঠিক করবে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পরিচিত ফিচারগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে। রায় যদি অভিযোগকারীদের পক্ষে যায়, তাহলে তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য মেটার প্ল্যাটফর্মের নকশা, নোটিফিকেশন এবং কনটেন্ট ব্যবহারের পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Also Read |  NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?

Also Read |  পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *