ছাত্রবিক্ষোভে AK-47 থেকে গুলি, কনস্টেবলের ভুলে ওয়েটিং লিস্টে IPS অফিসার
ছাত্রবিক্ষোভের সময়ে এক কনস্টেবল একে-৪৭ থেকে গুলি চালিয়ে দেওয়ায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে বিহার পুলিশ। যে জেলায় ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই সিওয়ান জেলার পুলিশ সুপার পূরণ কুমার ঝাকে বদলি করা হলো এ বার। যদিও তাঁকে এখনও নতুন কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আপাতত তাঁকে ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে। সিওয়ানের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে IPS ভারত সোনিকে।
বিতর্কের মাঝে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিহার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা ওই কনস্টেবলকে ঘিরে ফেলেছিলেন। তাঁদের হাত থেকে বাঁচতেই একে-৪৭ থেকে শূন্যে গুলি চালিয়ে দেন পুলিশকর্মী। যদিও ওই ঘটনায় কেউই আহত হননি। সুুপ্রিম কোর্টে বিহার সরকার এ কথা জানানোর পরেই পুলিশে এই রদবদল প্রকাশ্যে এল।
দিল্লিতে ছাত্রবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ব্যবহার নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার পরেই বিহারে একে-৪৭ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। বিহারের সিওয়ানের সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতে হলফনামা জমা দেয় পুলিশ। তাতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে বিহারের পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতেই হয়। পুলিশ এ-ও জানিয়েছে, হাতিচকে বিক্ষোভকারী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর তাঁর ৯ এমএম পিস্তল থেকে দু’রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন। তাতে তিন বিক্ষোভকারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন। কিন্তু যেখানে একে-৪৭ ব্যবহার করা হয়, সেখানে কিছুই ঘটেনি।
বিহার সরকার জানিয়েছে, ঘটনার পরে অভিযুক্ত কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের ডিজি একে-৪৭ ব্যবহারের বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন। সিওয়ান জেলা প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর, ওই কনস্টেবলকে কোনও ভাবেই গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
বিহারে মোট ১৭ জন পুলিশকর্তার রদবদল হয়েছে। ভোজপুর জেলার পুলিশ সুপার রাজকেও বদলি করে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবধেশ দীক্ষিতকে। নালন্দার নতুন পুলিশ সুপার করা হয়েছে হৃদয় কান্তকে।