সাপ আদৌ কি দুধ খায়? | Nag panchami offering milk to snake danger facts
শ্রাবণ মাসে মন্দির থেকে রাজপথ— সর্বত্রই দেখা যায় সাপকে দুধ খাওয়ানোর ধুম। হিন্দু ধর্মে এটি ভক্তি ও পরম পুণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত হলেও, বিজ্ঞান এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে এটি কোনও পুণ্য নয়, বরং একটি অবলা প্রাণীর ওপর চরম অত্যাচার ও তার মৃত্যুর কারণ।
বিজ্ঞানীদের মতে, সাপ একটি সরীসৃপ প্রাণী, যা সম্পূর্ণভাবে মাংসাশী। সাপের পাচনতন্ত্রে দুগ্ধজাত শর্করা বা ল্যাকটোজ (Lactose) হজম করার মতো কোনও উৎসেচক থাকে না। প্রকৃতিতে সাপ কখনওই দুধ পান করে না; ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি বা ছোট পাখি খেয়েই তারা জীবনধারণ করে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, সাপ যদি দুধ না-ই খায়, তবে পুজোর দিনগুলোতে পাত্রের দুধ পান করে কেন? বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে সাপুড়েদের এক অত্যন্ত নির্মম কারসাজি। উৎসবের অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন আগে জঙ্গল থেকে সাপ ধরে এনে সেগুলির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিষগ্রন্থি উপড়ে ফেলা হয়। এরপর সপ্তাহ খানেক ধরে সাপগুলোকে কোনও খাবার বা এক ফোঁটা জলও দেওয়া হয় না। তীব্র নির্জলতায় সাপের শরীর যখন মারাত্মকভাবে ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য হয়ে পড়ে এবং তারা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন তাদের সামনে তরল হিসেবে দুধ ধরা হয়। তীব্র তৃষ্ণা মেটাতে ও বাঁচার তাগিদেই সাপ বাধ্য হয়ে দুধ পান করে।
তৃষ্ণার্ত অবস্থায় দুধ পানের পরিণতি সাপের জন্য অত্যন্ত করুণ হয়। ল্যাকটোজ হজম করতে না পারায় সাপের পেটে প্রচণ্ড সংক্রমণ ও অ্যালার্জি দেখা দেয়। অনেক সময় দুধ তাদের শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ঢুকে পড়ে মারাত্মক নিমোনিয়া তৈরি করে।