শ্রাবণের সোমবারে মর্মান্তিক পরিণতি! বিহারের অশোক ধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ জনের মৃত্যু
লখিসরাই: শ্রাবণ মাসের পুণ্যলগ্নে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিহারের লখিসরাইয়ের অশোক ধাম মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৭ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হল। এই ঘটনায় আরও…
লখিসরাই: শ্রাবণ মাসের পুণ্যলগ্নে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিহারের লখিসরাইয়ের অশোক ধাম মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ৭ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হল। এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে লখিসরাইয়ের বিখ্যাত অশোক ধাম মন্দিরে (যা শ্রী ইন্দ্রদমনেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত) ভগবান শিবের মাথায় জল ঢালতে এদিন সকাল থেকেই উপচে পড়েছিল ভিড়। সূত্রের খবর, ভিড়ের চাপে প্রায় ৫০ হাজার পুণ্যার্থী এদিন মন্দিরে উপস্থিত হয়েছিলেন। আর এই বিপুল ভিড়ের চাপেই ঘটে যায় বিপত্তি।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে জোড়া তত্ত্ব
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে লখিসরাইয়ের এসডিপিও (SDPO) শিবম কুমার সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান, “এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শোনা যাচ্ছে, একটি ইলেকট্রিক পোল ভেঙে পড়ার পর মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন বলে গুজব ছড়ায়, আর তা থেকেই হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে বিস্তারিত তদন্তের পরই আমরা সঠিক কারণ জানাতে পারব।”
অন্যদিকে লখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সোমবার রাত ৩টে থেকেই তিনি নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন। কিন্তু সকাল ৬:৩০ থেকে ৬:৪৫-এর মধ্যে পরপর দুটি ট্রেন আসায় ভিড় কল্পনাতীতভাবে বেড়ে যায়। প্রচণ্ড চাপে একদিকের ব্যারিকেড ভেঙে পুণ্যার্থীরা একে অপরের ওপর পড়ে যান।
উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনের তৎপরতা
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং মেডিক্যাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জেলাশাসক জানিয়েছেন, ভিড়ের নিচে চাপা পড়া অন্তত ১০-১৫ জনকে দ্রুত উদ্ধার করা হয়। মন্দিরের বাইরে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা অ্যাম্বুল্যান্সের সাহায্যে আহতদের তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “লখিসরাইয়ের অশোক ধামের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈশ্বর বিদেহী আত্মাদের শান্তি দিন এবং আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।”
ঘটনার খবর পেয়েই লখিসরাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিহারের মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা। শীর্ষ আধিকারিকদেরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্দে মাতরমে সোনিয়ার অভব্য আচরণ! ক্ষমা চাইতে বললেন বঙ্কিমের বংশধর নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক