ফাইবার বাড়িয়ে পেট ফাঁপছে? এই ৫ ভুল এড়ানোর পরামর্শ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের - 24 Ghanta Bangla News
Home

ফাইবার বাড়িয়ে পেট ফাঁপছে? এই ৫ ভুল এড়ানোর পরামর্শ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের

Spread the love

কলকাতা: ফাইবার শরীরের (Fiber Diet) জন্য উপকারী। খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকলে হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে খাবারে ফাইবারের…

কলকাতা: ফাইবার শরীরের (Fiber Diet) জন্য উপকারী। খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকলে হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে খাবারে ফাইবারের পরিমাণ অনেকটা বাড়িয়ে দিলে উল্টো পেট ফাঁপা, গ্যাস বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, ফাইবার বাড়ানোর সময় কয়েকটি সাধারণ ভুল এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ও হেপাটোলজিতে ডাবল বোর্ড-সার্টিফায়েড এবং এআইআইএমএস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

ডা. শেঠির একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট অনুযায়ী, মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ফাইবারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেন। অধিকাংশ মানুষ দিনে প্রায় ১৫ গ্রাম ফাইবার খান, যেখানে সুপারিশ করা পরিমাণ প্রায় ২৫-৩৮ গ্রাম। তাই ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতে হলে একদিনে অনেকটা বাড়িয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করা ভালো।

১. পর্যাপ্ত জল না খেয়ে বেশি ফাইবার খাওয়া

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর হলেও তার সঙ্গে পর্যাপ্ত জল পান না করলে সমস্যা হতে পারে। ডা. শেঠির মতে, পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ফাইবার জল শোষণ করে। শরীরে পর্যাপ্ত তরল না থাকলে এই প্রক্রিয়া উল্টো পেট ফাঁপা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ খাবারে ফাইবার বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের দিকেও নজর দিতে হবে।

২. খুব দ্রুত ফাইবারের পরিমাণ বাড়ানো

কম ফাইবারযুক্ত খাবারে অভ্যস্ত থাকার পর হঠাৎ একদিনে অনেক বেশি ফাইবার খাওয়া আরেকটি সাধারণ ভুল। কারণ অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলির নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। আচমকা পরিবর্তন করলে গ্যাস এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডা. শেঠি কয়েক দিন অন্তর সর্বোচ্চ প্রায় ৫ গ্রাম করে ফাইবার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১৫ গ্রাম ফাইবার খাওয়া কেউ হঠাৎ করে একদিনে ৩৫ গ্রাম ফাইবার খাওয়া শুরু না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে পারেন।

৩. একবারে পুরো দিনের ফাইবার খেয়ে নেওয়া

শুধু মোট কতটা ফাইবার খাচ্ছেন তা নয়, দিনের কোন সময়ে কীভাবে তা খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একবারে বিপুল পরিমাণ ফাইবার খাওয়ার পরিবর্তে দিনের বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়া ভালো। এতে পরিপাকতন্ত্রকে একসঙ্গে অনেকটা ফাইবার সামলাতে হয় না। সকালের খাবার, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবারে পরিমাণ ভাগ করে নিলে হজমতন্ত্রের উপর চাপ তুলনামূলকভাবে কম পড়তে পারে।

৪. উপসর্গ অনুযায়ী ভুল ধরনের ফাইবার বেছে নেওয়া

সব ধরনের ফাইবার শরীরে একইভাবে কাজ করে না। তাই কোন ধরনের ফাইবার খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দ্রবণীয় ফাইবার ওটস এবং ইসবগুলের মতো খাবারে পাওয়া যায়। এটি জলে দ্রবীভূত হয়ে হজমের গতি ধীর করতে সাহায্য করে। ডা. শেঠির মতে, ডায়রিয়া এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের মতো ক্ষেত্রে এই ধরনের ফাইবার উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, অদ্রবণীয় ফাইবার গমের ভুসি এবং বিভিন্ন সবজির খোসার মতো খাবারে পাওয়া যায়। এটি মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে নিজের উপসর্গের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে ভুল ধরনের ফাইবার বেছে নিলে সমস্যা কমার পরিবর্তে আরও বাড়তে পারে।

৫. পেটের সমস্যা বাড়লেও জোর করে একই খাবার চালিয়ে যাওয়া

ফাইবার বাড়ানোর পর যদি পেটের সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে সেটিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। ডা. শেঠির মতে, উপসর্গ খারাপ হওয়া মানেই শরীরকে আরও বেশি ফাইবারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য জোর করে একই নিয়ম চালিয়ে যেতে হবে, এমন নয়। বরং এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে আপনার পরিপাকতন্ত্রের জন্য অন্য ধরনের পদ্ধতি প্রয়োজন। বিশেষ করে ফাইবার বাড়ানোর পর পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা অন্যান্য হজমের সমস্যা যদি ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ফাইবার বাড়াবেন, তবে ধীরে

খাবারে ফাইবার বাড়ানো উপকারী হতে পারে, কিন্তু বেশি ফাইবার মানেই সবসময় বেশি উপকার, এমন নয়। ফাইবারের পরিমাণ ধীরে বাড়ানো, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং দিনের বিভিন্ন খাবারের মধ্যে ফাইবার ভাগ করে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
একইসঙ্গে নিজের উপসর্গ অনুযায়ী দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবারের পার্থক্য বোঝাও জরুরি। আর ফাইবার বাড়ানোর পর হজমের সমস্যা যদি ক্রমশ খারাপ হতে থাকে, তাহলে সেটিকে শুধু নতুন খাদ্যাভ্যাসের স্বাভাবিক অংশ ধরে নিয়ে উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *