পেনাল্টি শুটআউটে জামশেদপুরকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে Mohun Bagan - 24 Ghanta Bangla News
Home

পেনাল্টি শুটআউটে জামশেদপুরকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে Mohun Bagan

Spread the love

কলকাতা: নাটকীয় এক কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৯-৮ গোলে হারিয়ে ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্ট। সোমবার…

কলকাতা: নাটকীয় এক কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৯-৮ গোলে হারিয়ে ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্ট। সোমবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ পেনাল্টি লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় সবুজ-মেরুন শিবির।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান। দ্বিতীয় মিনিটেই সাহাল আবদুল সামাদের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। প্রণয় হালদারের পাস রাশিথোই মেইতেই ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বল পেয়ে যান সাহাল। এরপর বক্সে ঢুকে নিচু শটে জামশেদপুরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

Read Emglish: Mohun Bagan Survive Marathon Shootout to Beat Jamshedpur and Reach Durand Cup Semi-Finals

গোল পাওয়ার পর প্রথম দিকে মোহনবাগান আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়ে দেয়। টেকচাম অভিষেক সিং এবং শুভাশিস বসু দুই প্রান্ত দিয়ে বারবার উঠে এসে জামশেদপুরের রক্ষণকে চাপে রাখছিলেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে জামশেদপুর। ১৫ মিনিটের পর থেকে বলের দখলও বাড়িয়ে নেয় তারা।

১৭ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল জামশেদপুর। লালরিয়াতপুইয়া চাওংথু আমান সিকে বক্সের মধ্যে নিখুঁত থ্রু পাস দেন। বাঁ দিকের সরু কোণ থেকে আমানের শট অবশ্য দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ।

২৫ মিনিটে ফের সুযোগ আসে জামশেদপুরের সামনে। ফ্রি-কিক থেকে চাওংথুর বল দূরের পোস্টে প্রাতিক চৌধুরীর কাছে পৌঁছলেও তাঁর শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় মোহনবাগান। ২৭ মিনিটে সাহাল ও লিস্টন কোলাকোর সম্মিলিত আক্রমণ থেকে দূরের পোস্টে ক্রস পেয়ে যান দেজান দ্রাজিচ। কিন্তু কাছ থেকে তাঁর হেড লক্ষ্যে থাকেনি। ছয় মিনিট পর অভিষেকের ক্রস থেকেও ভলিতে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন দ্রাজিচ, কিন্তু এবারও ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি।

মোহনবাগান দ্বিতীয় গোলের জন্য চাপ বাড়াতে থাকে। ৩৭ মিনিটে সাহালের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে লালেংমাওইয়া রালতের শটও অবশ্য ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরায় জামশেদপুর। রাশিথোই বক্সের বাইরে বল পেয়ে দূরপাল্লার শট নেন। বিশাল কাইথ বলটি পুরোপুরি আটকাতে না পারায় ফিরতি বলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেবেন্দ্র কাছ থেকে গোল করে ম্যাচ ১-১ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জামশেদপুরই তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। আমান সি কে বারবার মোহনবাগানের রক্ষণে সমস্যা তৈরি করছিলেন। ৪৯ মিনিটে অবশ্য আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় মোহনবাগান। পরিবর্ত হিসেবে নামা সামির জেলজকোভিচ দুর্দান্তভাবে সাহালের কাছে বল বাড়িয়ে দেন। সাহাল ভেতরে ঢুকে বাঁকানো শট নিলেও তা ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।

এরপর ৫১ মিনিটে কর্নার থেকে আলবার্তো রদ্রিগেজ হেডে গোল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬১ মিনিটে জেলজকোভিচ নিজেও বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেন, তবে তা জামশেদপুরের গোলরক্ষক আলবিনো গোমেসকে সমস্যায় ফেলতে পারেনি।

৬৩ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম বড় সুযোগ নষ্ট করে মোহনবাগান। গোলের বাইরে বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন আলবিনো। সাহাল তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে লিস্টন কোলাকোর দিকে বাড়িয়ে দেন। সামনে তখন কার্যত ফাঁকা গোল। কিন্তু লিস্টন বলটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া হয়।

দুই মিনিট পর জামশেদপুরও পাল্টা আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করে। আমান আবারও মোহনবাগানের রক্ষণ ভেঙে সানান মহম্মদের দিকে বল বাড়ান। তাঁর প্রথম শট অবশ্য অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়।

শেষ দিকে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭৯ মিনিটে পরিবর্ত খেলোয়াড় সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁ দিক দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে নিচু ক্রস বাড়ান জেমি ম্যাকলারেনের দিকে। তবে ম্যাকলারেন সেই বলে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি।

নির্ধারিত সময়ের শেষে ম্যাচের ফল ১-১ থাকায় পেনাল্টি শুটআউটের দিকে যেতে হয়। সেখানেও সহজে মীমাংসা হয়নি। শুটআউট গড়ায় সাডেন ডেথে এবং প্রথম ১৬টি পেনাল্টিই জালে জড়ায়।

শেষ পর্যন্ত সাডেন ডেথের চতুর্থ কিকে লমসাংজুয়ালা শট নিলে সেটি দুর্দান্তভাবে আটকে দেন বিশাল কাইথ। এরপর মোহনবাগানের হয়ে টেকচাম অভিষেক সিং স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন। তিনি ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে মোহনবাগানের ৯-৮ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের ফলে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে শিলং লাজং এফসি এবং নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির মধ্যে জয়ী দল। আগামী ২০ আগস্ট শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সেই সেমিফাইনাল।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *