ট্রেকে গেলেই এ বার সংগ্রহ করতে হবে প্লাস্টিক-বর্জ্য, নয়া নির্দেশ জারি হিমাচলের বন দপ্তরের

প্রতি বছরেই বর্ষায় ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে ভয়াবহ ধস নামে। সিকিম, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের একাধিক পাহাড়ি শহরে হয় হড়পা বানও। বিভিন্ন সময়ে ভারতের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ধস, বন্যার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, প্লাস্টিকের অতি ব্যবহারের কারণে একাধিক সময়ে বিপর্যয় হয়েছে এলাকায়।

সম্প্রতি এই পরিস্থিতিতে একটি নতুন নিয়ম জারি করেছে হিমাচল প্রদেশের বন দপ্তর। বন দপ্তরের তরফে জারি করা এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এ বার থেকে ধরমশালা সার্কলে ট্রেকিং করতে গেলে পর্যটকদের নিজেদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক এবং প্লাস্টিকজাত বর্জ্য পদার্থ নিজেদেরই কুড়িয়ে আনতে হবে। আপাতত ট্রাইউন্ড ট্রেকের পথে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

বন দপ্তরের নির্দেশে জানানো হয়েছে, ট্রেক শুরু করার আগে বন দপ্তরের চেক পোস্টে প্রত্যেককে পুনর্ব্যবহারযোগ্য গারবেজ ব্যাগ দেওয়া হবে। সেই ব্যাগের মধ্যেই প্লাস্টিক বর্জ্য পদার্থ নিয়ে আসতে হবে ট্রেকারদের।

এর পাশাপাশি, পর্যটকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে সিকিওরিটি ডিপোজ়িটও নেওয়া হবে। এই সিকিউরিটি ডিপোজ়িট ট্রেক শেষে ফিরিয়েও দেওয়া হবে। তবে, রয়েছে শর্তও। প্রত্যেক পর্যটককেই তাঁদের গারবেজ ব্যাগের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।

বন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থা ১১ অগস্ট থেকে চালু করা হয়েছে। আপাতত, কেবল মাত্র ট্রাইউন্ড ট্রেকের পথেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, এই রাজ্যের অন্যান্য ট্রেকিং রুটেও এই নিয়ম কার্যকর করার চিন্তা ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে বন দপ্তর।

এ বিষয়ে বন দপ্তরের আধিকারিক অমিত শর্মা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের নেপথ্যে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্য নেই। বরং পর্যটকরা যাতে নিজেদের অভ্যাস পরিবর্তন করেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে সরকার এই ট্রেকিং রুট বন্ধ করে দিতে পারে। সেই কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, অর্থনৈতিক তছরুপ এড়াতে প্রিন্টেড রিসিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট এবং অজৈব বর্জ্য পদার্থের পরিমাণ কমবে বলেই আশা বন দপ্তরের। পাশাপাশি, হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে পরিষ্কার ট্যুরিজ়ম মডেল তৈরি করা যাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ধরমশালা ফরেস্ট সার্কলটি তিনটি রেঞ্জে বিভক্ত। ধরমশালা, নুরপুর এবং পালামপুর। ট্রাইউন্ড ছাড়াও, রয়েছে কারেরি, চান্দ্রেলা, হিমানি চামুন্ডা, কুঞ্জর মহাদেব এবং পুল্লানচক ট্রেকিং রুট। তবে, এর মধ্যে ট্রাইউন্ড রুটটিই সবথেকে জনপ্রিয়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই পথে ৭৭,০০০ পর্যটক এসেছিলেন। এ বছরের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ৩৩,০০০ ভারতীয় এবং ৬০০ বিদেশি পর্যটক এই পথে ট্রেকিংয়ে এসেছেন।