Vande Mataram Row: 'ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি, ক্ষমা চাইতে হবে', বন্দে মাতরম বিতর্কে সনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র সুমিত্রর | Vande Mataram Row: BJP MLA Sumitro Chatterjee Writes to Sonia Gandhi, Demands Unconditional Apology - 24 Ghanta Bangla News
Home

Vande Mataram Row: ‘ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি, ক্ষমা চাইতে হবে’, বন্দে মাতরম বিতর্কে সনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র সুমিত্রর | Vande Mataram Row: BJP MLA Sumitro Chatterjee Writes to Sonia Gandhi, Demands Unconditional Apology

Spread the love

নয়া দিল্লি: ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গাইতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) বিরুদ্ধে। যা ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। সমালোচনার মুখে পড়েছেন কংগ্রেস নেত্রী। সনিয়ার নিন্দায় সরব বিজেপি। যদিও, অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। এবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সনিয়াকে চিঠি পাঠালেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক তথা বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। একইসঙ্গে দেশবাসী তথা পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে কী লিখেছেন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়?

বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র চিঠিতে লেখেন, “দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দিনে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং ‘ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি’।” নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক জানান, একজন সাধারণ নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সরাসরি বংশধর হিসেবে তিনি এই ঘটনায় গভীর যন্ত্রণা অনুভব করছেন।

শ্রী অরবিন্দের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন,”‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্র দেশকে ‘দেশপ্রেমের ধর্মে’ দীক্ষিত করেছিল। স্বাধীন ভারতের মাটিতে এই গান সম্পূর্ণভাবে গাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর মতো বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের প্রতি অপমান বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ভূমিকার কথাও চিঠিতে তুলে ধরেছেন বিজেপি বিধায়ক। উল্লেখ করেন, ১৯০৫ সালের বেনারস কংগ্রেস অধিবেশনে সরলা দেবী চৌধুরানির কণ্ঠে এই গান গাওয়া হয়েছিল। ১৯০৯ সালে বাল গঙ্গাধর তিলকের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানির সময় তাঁর সমর্থকরা ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েছিলেন। আবার ১৯৩৮ সালে হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজামের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী ছাত্ররা এই স্লোগানকে প্রতিবাদের হাতিয়ার করেছিলেন। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

কংগ্রেসের দ্বৈত নীতি নিয়ে সরব সুমিত্র

কংগ্রেসের ‘দ্বৈত নীতি’ নিয়েও সরব হন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই ধরনের অবস্থান নতুন নয়। ১৯৩৭ সালে মহম্মদ আলি জিন্নার আপত্তির কাছে কংগ্রেস ‘নতিস্বীকার’ করে ওই বছরের অক্টোবরে গানটির অংশবিশেষ বাদ দিয়েছিল। সেই ‘আপসের ছায়া’ ফের কংগ্রেসের আচরণে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় লেখেন, ‘বন্দে মাতরম’ কোনও একটি রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি দেশের যৌথ স্মৃতি, বঙ্কিমচন্দ্রের চিরন্তন উত্তরাধিকার এবং শহিদদের রক্ত ও আত্মত্যাগে অর্জিত একটি পবিত্র জাতীয় প্রতীক। এই গানকে সম্মান করা মানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে সম্মান করা। সতর্ক করে দিয়ে লেখেন, ‘ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।’ যে নেতৃত্ব নিজেদের স্বাধীনতার মন্ত্রকেই সম্মান করতে ব্যর্থ হয়, ইতিহাস একসময় তাদের ‘বিস্মৃতির অন্ধকারে’ ঠেলে দেয়।

এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগ গভীরভাবে আহত হয়েছে দাবি করেন সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। একইসঙ্গে, দেশবাসী বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বিজেপির তরফে কংগ্রেসের সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। দাবি করা হয় পুরো বন্দেমাতরম গান গাইতে বাধা দিচ্ছিলেন সনিয়া। তবে কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশের দাবি, সনিয়া গান্ধী ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধা দেননি। বরং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের জন্য একটি চেয়ার আনার কথা বলছিলেন। বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *