Upper Primary Teacher Recruitment: ‘স্যর’- কেবল এই শব্দটা শুনতেই ওদের লেগে গেল একটা দশক! রাজপথে পড়ে থেকে আজ সোনার পাথর ছুলেন ওঁরা | 11 Year Legal Battle Ends: Upper Primary Job Aspirants Finally Get Appointment Letters
আন্দোলনকারী শিক্ষকরাImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: ঠিক কতটা পথ হাঁটলে পথিক বলা যায়? ঠিক কতদিন ধরনা দিলে শিক্ষক হওয়া যায়? আপার প্রাইমারির ক্ষেত্রে উত্তরটা ১৩২২!
১১ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই, মানসিক যন্ত্রণা আর ১৩২২ দিনের লাগাতর ধরনা—সব জট কাটিয়ে অবশেষে মুখে হাসি ফুটল আপার প্রাইমারির চাকরিপ্রার্থীদের। সোনার পাথর বাটির মতোই যা এতদিন অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল, আদালতের হস্তক্ষেপে তা-ই আজ বাস্তবে রূপ নিল। সমস্ত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হবু শিক্ষকরা অবশেষে হাতে পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র, যোগ দিয়েছেন স্কুলে।
‘চাকরিপ্রার্থী’ নামক দীর্ঘদিনের বিষণ্ণ তকমা মুছে ফেলে রোদ-ঝড়-জল মাথায় নিয়ে রাজপথে কাটানো আন্দোলনকারীরা আজ সত্যি-সত্যিই ‘স্যর’ আর ‘ম্যাডাম’। মাঝের ১০ টা বছর। অনেকটা পথ পেরিয়ে, অনেক কিছু হয়ে গিয়েছে মাঝে, অনেকটা লড়াই পেরিয়েছেন, জীবনের দশটা বছর কাটিয়েছেন ‘চাকরিপ্রার্থী’র তকমা নিয়েই। তৎকালীন প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিয়মের জাঁতাকলে যে নিয়োগ দীর্ঘ এক দশক আটকে ছিল, এবার আদালতের কড়া নজরদারিতেই সেই অচলাবস্থা ভাঙল। শ্রেণিকক্ষে ফেরানো গেল যোগ্য মেধাকে।
তবে শুধু নিজেদের চাকরি পাওয়ার মধ্য দিয়েই এই লড়াই থেমে থাকছে না। দীর্ঘ ১৩২২ দিনের রাজপথের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষা ও ভবিষ্যতের আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাঁরা গঠন করেছেন নিজস্ব শিক্ষক সংগঠন। অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার এই অদম্য লড়াই রাজ্য রাজনীতি ও শিক্ষা জগতের ইতিহাসে এক দৃষ্টান্তমূলক অধ্যায় হয়ে রইল।
স্বাধীনতা দিবসে স্কুলের তরফ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি গিয়েছিলাম। আজ, রবিবার। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে যোগ দেব। ১৬ অগস্ট, ২০১৫ সালে ঠিক আজকের দিনেই পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তারপর থেকে এক দশক আমরা রাজপথে। আজকের দিনেও আমাদের ধরনা মঞ্চ রয়েছে. ১৩২২ তম দিন। ১৪ হাজার ৫২ জনের নিয়োগ, সেটা সম্পূর্ণ হওয়ার পথে। আর কেবল ৬৪ জন রয়েছে, ২৮ অগাস্ট শুনানি রয়েছে। এটা আমাদের ঐতিহাসিক স্বার্থকতা।
আমরা চাই, আমাদের ছাত্ররা যেন ওই ইতিহাসটা না জানুক। আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়েই আমাদের জীবন থেকে ১১ টা বছর চলে গিয়েছে।