Suvendu Adhikari: আশিসের পরিবারের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর, 'ব্ল্যাকমেলিং' খতিয়ে দেখতে পুলিশকে ফোন দিতে অনুরোধ শুভেন্দুর | Asish Banerjee Death: CM Suvendu Adhikari Says No FIR or Police Summons Against Former Deputy Speaker - 24 Ghanta Bangla News
Home

Suvendu Adhikari: আশিসের পরিবারের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘ব্ল্যাকমেলিং’ খতিয়ে দেখতে পুলিশকে ফোন দিতে অনুরোধ শুভেন্দুর | Asish Banerjee Death: CM Suvendu Adhikari Says No FIR or Police Summons Against Former Deputy Speaker

Spread the love

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?Image Credit: TV9 Bangla

কলকাতা: একসময় তাঁরা একই দলের সদস্য ছিলেন। পরে রাজনীতির পথ আলাদা হলেও তাঁদের মধ্যে বৈরিতা ছিল না। আজ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর শোক প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আশিসের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার আসার পর আশিসের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয়নি। প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারকে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের তরফে তলবও করা হয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও লোক তাঁকে ভয় দেখিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে তাঁর ব্যবহৃত ফোনগুলি দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।”

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে। সেখানে নানা কথা লিখেছেন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার। এই নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সুইসাইড নোট ফরেনসিকে যাবে। তাঁর হাতের লেখা কি না এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে। একজন রাজনৈতিক নেতা কিংবা বিরোধী নেতা হিসেবে অনেক কথা বলতে পারতাম। কিন্তু, এখন ওই সুইসাইড নোটের উপর আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সুইসাইড নোট পরীক্ষা নিরীক্ষার পর একজন পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমার বলা উচিত। পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।”

এরপরই তিনি বলেন, “সকালেই খবরটা শুনেছি। খুবই দুঃখের। আমরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। ২০০৬ সালে গুটিকয়েক বিরোধী বিধায়ক ছিলেন। তার মধ্যে উনিও ছিলেন, আমিও ছিলাম। স্বাভাবিকভাবে আমার কাছে বেদনার। তারপর পুলিশকে যা বলার বলেছি। জেলাশাসককে বলেছি। ময়নাতদন্ত সুষ্ঠুভাবে করার জন্য বলেছি। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বলেছি পুলিশকে। স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহার কাছে জানার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় সাংসদ অসিত মাল আমায় ফোন করেছিলেন। উনি পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। আমি বললাম, ভিডিয়ো কল করছি। ভিডিয়ো কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। সমবেদনা জানিয়েছি। পাশে থাকার কথা জানিয়েছি। আমি তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেউ উত্ত্যক্ত করেছেন কি না। এর মধ্যে অর্থাৎ আমাদের এই ১০০ দিনে কিছু ঘটেছে কি না। তাঁরা বললেন, কোনও কিছু ঘটেনি। বরং ধ্রুব সাহা বাড়িতে এসে প্রণাম করে গিয়েছেন।”

তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (TRDA)-র চেয়ারম্যান ছিলেন আশিস। সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, TRDA কিংবা পুলিশ প্রশাসনের তরফে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারকে কোনও চিঠি পাঠানো হয়নি। তলবও করা হয়নি। বলেন, “ওঁকে কেউ ডাকেনি। উনি শান্তিপূর্ণভাবে ছিলেন। উনি সবার সঙ্গে মিশতেন। আশিসবাবুর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয়েছে বলে আমার জানা নেই। পরিবারও জানিয়েছে, আমাদের কাছে পুলিশের তরফে কোনও ফোন আসেনি।”

আশিসের ব্যবহৃত মোবাইল পুলিশকে দিতে অনুরোধ-

পরিবারের সদস্যদের পুলিশকে সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বলেছি, একটু পুলিশকে সহযোগিতা করুন। উনি যে মোবাইলগুলো ব্যবহার করতেন, সেগুলো যদি পুলিশকে দেন, তাহলে তারা তদন্ত করে দেখবে। দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও লোকজন তাঁকে ভয় দেখিয়েছেন কি না।” এরপরই তিনি বলেন, “তৃণমূলের যে অংশটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে, তার সঙ্গে তো তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কমিটি গড়েছিলেন, তা থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। এবং তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে কেউ ব্ল্যাকমেলিং করে থাকতে পারে। এগুলো পুলিশ দেখবে। যদি কিছু পাওয়া যায়।”

আশিসের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ঘটনাটি বেদনাদায়ক। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় একজন শিক্ষাবিদ। সজ্জন রাজনীতিবিদ। তবে তাঁর ফলোয়ারদের নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। রামপুরহাটে তাঁর সহযোগীদের তো আমি শংসাপত্র দিতে পারব না। কিন্তু, ব্যক্তিগতভাবে উনি শিক্ষাবিদ, সজ্জন, সৎ মানুষ। সেজন্য বিজেপি প্রার্থী জয়ের পর তাঁর বাড়িতে গিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিয়েছেন।”

পুলিশ প্রশাসনের তরফে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করা হয়নি জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি পরিবারকে জিজ্ঞাসা করেছি, পুলিশ কখনও ফোন করেছে কি না। থানায় ডেকেছে কি না। তাঁরা জানিয়েছেন, ডাকেনি। তাঁর চলে যাওয়াটা দুঃখজনক। উনি থাকলে ভালোই হত। উনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মমতাপন্থী তৃণমূলের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। বলেছিলাম, কলকাতায় এলে সচিবালয়ে আসবেন। প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় আসবেন। সবমিলিয়ে বেদনাদায়ক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *