ভারতে Real Estate বিনিয়োগে লাভ, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা জানুন - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারতে Real Estate বিনিয়োগে লাভ, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা জানুন

Spread the love

মুম্বই: ভারতে রিয়েল এস্টেট (Real Estate) বরাবরই বিনিয়োগকারীদের কাছে জনপ্রিয়। এখনও দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরি এবং আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার অন্যতম পরিচিত মাধ্যম হিসেবে রিয়েল এস্টেটকে গুরুত্ব দেন বহু ভারতীয়।  বাড়ি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক জায়গা কিংবা জমি, বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তিতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

শহরাঞ্চলে দ্রুত নগরায়ন, উন্নত পরিকাঠামো, বাড়তে থাকা কর্মসংস্থান এবং আবাসনের চাহিদা রিয়েল এস্টেটের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। শুধু নিজের থাকার জন্য নয়, ভাড়া থেকে আয় এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পত্তির দাম বাড়ার সম্ভাবনার কারণেও এই খাত বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করে।

কেন এখনও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন শহর এবং উন্নয়নশীল এলাকায় সম্পত্তির দাম দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির হারকেও ছাড়িয়েছে।

রিয়েল এস্টেটের চাহিদা ধরে রাখার পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। ভারতের শহরগুলিতে জনসংখ্যা বাড়ছে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে এবং মানুষ কাজের জন্য শহর ও শহরতলিতে আসছেন। একই সঙ্গে ভালো জায়গায় জমির পরিমাণ সীমিত। মানুষের আয় এবং উন্নত জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা বাড়ার সঙ্গেও আবাসনের চাহিদা বাড়ছে।. ফলে রিয়েল এস্টেট শুধুমাত্র কেনাবেচার সম্পদ নয়। বহু ভারতীয় পরিবারের কাছে এটি ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ভারতে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের ধরন

বিনিয়োগকারীরা নিজেদের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের রিয়েল এস্টেট বেছে নিতে পারেন।

  • আবাসিক সম্পত্তি: নিজের থাকার জন্য কিংবা ভাড়ায় দেওয়ার জন্য ফ্ল্যাট এবং ভিলা কেনা যায়।
  • বাণিজ্যিক সম্পত্তি: অফিস, দোকান এবং শোরুম ব্যবসায়িক ভাড়াটেদের জন্য ব্যবহার করা যায়।
  • জমি: ভবিষ্যতে বাড়ি তৈরি করা কিংবা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে জমিতে বিনিয়োগ করা যায়।
  • আরইআইটি: রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট বা আরইআইটি-র মাধ্যমে সরাসরি সম্পত্তি না কিনেও অফিস ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া যায়।

প্রতিটি বিকল্পের খরচ, ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য রিটার্ন আলাদা। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী বিকল্প বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

রিয়েল এস্টেটের বড় সুবিধা কী?

রিয়েল এস্টেটের অন্যতম বড় সুবিধা হল এটি একটি দৃশ্যমান বা বাস্তব সম্পদ। সম্পত্তি দেখা যায়, ব্যবহার করা যায়, প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত করা যায় এবং ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরও করা যায়। অনেক ভারতীয় পরিবারের কাছে এই বাস্তব সম্পদের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ার বা ফান্ডের মতো কাগজে থাকা বিনিয়োগের তুলনায় সম্পত্তিকে অনেকে বেশি স্থিতিশীল মনে করেন।

দাম বাড়া এবং ভাড়া, দুই দিক থেকে আয়

রিয়েল এস্টেট থেকে সাধারণত দুটি পথে আয় হতে পারে। প্রথমত, সময়ের সঙ্গে সম্পত্তির দাম বাড়লে মূলধনী লাভ বা ক্যাপিটাল অ্যাপ্রিসিয়েশন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সম্পত্তি ভাড়ায় দিলে নিয়মিত ভাড়া পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদে সম্পত্তির দাম এবং ভাড়া মিলিয়ে মোট রিটার্ন ৮–১৩ শতাংশ-এর মধ্যে হতে পারে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত রিটার্ন জায়গা এবং সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা

মুদ্রাস্ফীতির কারণে সময়ের সঙ্গে নগদ টাকা এবং নির্দিষ্ট সুদের বিনিয়োগের প্রকৃত মূল্য কমতে পারে। অন্যদিকে, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সম্পত্তির দাম এবং ভাড়াও বাড়তে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব সামলাতে সাহায্য করতে পারে। ভালো জায়গায় সম্পত্তির দাম বাড়ার পাশাপাশি ভাড়াও বাড়লে বিনিয়োগকারীর মোট রিটার্ন আরও বাড়তে পারে।

ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগে লিভারেজের সুবিধা

রিয়েল এস্টেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হোম লোনের মাধ্যমে লিভারেজ ব্যবহার করার সুযোগ। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্তির ৭৫–৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ হোম লোনের মাধ্যমে অর্থায়ন করা যেতে পারে।

ধরা যাক, আপনি ১ কোটি টাকা দামের একটি বাড়ি কিনলেন। সেক্ষেত্রে আপনার ডাউন পেমেন্ট হতে পারে ২০–২৫ লাখ টাকা। পরে বাড়িটির দাম ১০ শতাংশ বেড়ে গেলে সেটির মূল্য হবে ১.১ কোটি টাকা।

অর্থাৎ সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধি হবে ১০ লাখ টাকা। এই লাভ হিসাব করা হচ্ছে আপনার ২০–২৫ লাখ টাকা নিজস্ব বিনিয়োগের তুলনায়। বাজার বাড়ার সময় এই ধরনের লিভারেজ রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের রিটার্ন বাড়াতে পারে। তবে ঋণের সুদ এবং অন্যান্য খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা জরুরি।

কর সুবিধার সুযোগ

ভারতে বাড়ি কেনা এবং হোম লোনের সঙ্গে কিছু কর সুবিধাও যুক্ত রয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধারা ৮০সি-এর অধীনে হোম লোনের মূলধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ধারা ২৪(বি) অনুযায়ী নিজের ব্যবহারের বাড়ির হোম লোনের সুদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভের ক্ষেত্রে ধারা ৫৪-এর অধীনে অন্য বাড়িতে পুনর্বিনিয়োগ করলে কর সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

তবে বিনিয়োগের আগে বর্তমান কর নিয়ম এবং নিজের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।

রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের ঝুঁকি

রিয়েল এস্টেটকে ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল লিকুইডিটি। প্রয়োজনের সময় সম্পত্তি দ্রুত বিক্রি করা সবসময় সম্ভব হয় না।

এছাড়া নিজের মোট সম্পদের বড় অংশ একটি সম্পত্তিতে আটকে গেলে বিনিয়োগে কনসেনট্রেশন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ভুল জায়গা, দুর্বল নির্মাতা বা খারাপ প্রকল্প বেছে নিলে সম্পত্তির দাম এবং ভাড়ার চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী নাও বাড়তে পারে। স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন, ব্রোকারেজ এবং করের মতো খরচও রিটার্ন কমিয়ে দিতে পারে। এই ঝুঁকি কমাতে কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার দিক থেকে শক্তিশালী এলাকায় সম্পত্তি বেছে নেওয়া, বিশ্বাসযোগ্য নির্মাতার প্রকল্প নেওয়া এবং অন্তত ৭–১০ বছর ধরে রাখার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

রিয়েল এস্টেট বনাম অন্যান্য বিনিয়োগ

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি রিটার্নের একটি তুলনামূলক চিত্র হল:

real-estate-investment-india-benefits-risks-long-term-potential

রিয়েল এস্টেট সবসময় শেয়ার বা ইক্যুইটিকে ছাড়িয়ে যাবে এমন নয়। তবে স্থিতিশীলতা, মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা, ঋণের সুবিধা এবং ভাড়া থেকে নিয়মিত আয়ের সম্ভাবনার কারণে এটি বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।

কীভাবে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ শুরু করবেন?

প্রথমে বিনিয়োগের লক্ষ্য ঠিক করা দরকার। আপনি নিজের থাকার জন্য বাড়ি কিনছেন, ভাড়া থেকে আয় করতে চাইছেন, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরি করতে চাইছেন, সেটি পরিষ্কার করুন।

এরপর বাজেট নির্ধারণ করুন। শুধু সম্পত্তির দাম নয়, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন, বাড়ি সাজানোর খরচ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও হিসাবের মধ্যে রাখুন।

লোকেশন বেছে নেওয়ার সময় কর্মসংস্থানের কেন্দ্র, স্কুল, হাসপাতাল, মেট্রো এবং ভবিষ্যৎ পরিকাঠামোর দিকে নজর দিন। নির্মাতার বিশ্বাসযোগ্যতা, রেরা রেজিস্ট্রেশন এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথিও যাচাই করুন। হোম লোন নিলে বিভিন্ন ব্যাংকের সুদের হার, ইএমআই এবং কর সুবিধা তুলনা করা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত সম্পত্তি বিক্রির পরিবর্তে ৭–১৫ বছর ধরে রাখলে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুবিধা বেশি পাওয়া যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতে রিয়েল এস্টেট এখনও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সম্পত্তির দাম বাড়ার সম্ভাবনা, ভাড়া থেকে আয়, মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা এবং ঋণের সুবিধা একসঙ্গে এই বিনিয়োগকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

তবে শুধু দাম বাড়বে এই আশায় সম্পত্তি কেনা উচিত নয়। লোকেশন, নির্মাতা, প্রকল্পের অনুমোদন, মোট খরচ, সম্ভাব্য ভাড়া এবং ভবিষ্যতের চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করা জরুরি।

সঠিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে পারলে রিয়েল এস্টেট একটি পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *