বিমানে কার্বন নির্গমন কমাতে হাইড্রিজেন ইঞ্জিন! দেশে ইতিহাস গড়ছে TCS-রোলস রয়েস
নয়া দিল্লি ১৫ আগস্ট: বিমান শিল্পে কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে এক বড় সাফল্য এসেছে (hydrogen engine)। ভারতের টিসিএস এবং ব্রিটিশ কোম্পানি রোলস-রয়েস একসঙ্গে হাইড্রোজেন চালিত…
নয়া দিল্লি ১৫ আগস্ট: বিমান শিল্পে কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে এক বড় সাফল্য এসেছে (hydrogen engine)। ভারতের টিসিএস এবং ব্রিটিশ কোম্পানি রোলস-রয়েস একসঙ্গে হাইড্রোজেন চালিত বিমান ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছে। পরিবর্তিত রোলস-রয়েস পার্ল ১৫ এ্যারো ইঞ্জিন শতভাগ হাইড্রোজেনে পুরো সিমুলেটেড ফ্লাইট সাইকেল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
এতে টেক -অফ, ক্রুজ এবং ল্যান্ডিং, সব পর্যায়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরীক্ষাটি হয়েছে আমেরিকার নাসা-র স্টেনিস স্পেস সেন্টারে।এই সাফল্য চার বছরের এক দীর্ঘ কর্মসূচির ফল। ২০২২ সালে রোলস-রয়েস এবং ইজিজেট এই হাইড্রোজেন প্রপালশন প্রোগ্রাম শুরু করেছিল। ২০২৪ সালে টিসিএস এতে যোগ দেয় ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি অংশীদার হিসেবে।
আরও দেখুনঃ ‘প্রোটোকল’ বিতর্কে লালকেল্লা বয়কট! স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গরহাজির রাহুল-খাড়গে
টিসিএস জ্বালানি ব্যবস্থা, ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইন্টিগ্রেশন, (hydrogen engine)হাইড্রোজেন কম্বাশন বিশ্লেষণ, টেস্ট প্রস্তুতি, ভ্যালিডেশন, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের সহায়তায়ই এই মাইলফলক দ্রুত অর্জিত হয়েছে।পার্ল ১৫ ইঞ্জিন সাধারণত বোমবার্ডিয়ার গ্লোবাল ৫৫০০ ও ৬৫০০ বিজনেস জেটে ব্যবহৃত হয়। এটি সর্বোচ্চ ১৫,২৫০ পাউন্ড থ্রাস্ট উৎপাদন করতে পারে।
এবার এই আধুনিক ইঞ্জিনকে পরিবর্তন করে শতভাগ গ্যাসীয় হাইড্রোজেনে চালানো হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইঞ্জিনটি নিরাপদে পুরো ফ্লাইট চক্র জুড়ে কাজ করতে সক্ষম। টেক -অফের সময় পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছানো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি সবচেয়ে চাপের পর্যায়গুলোর একটি।রোলস-রয়েসের হাইড্রোজেন ডেমোনস্ট্রেটর প্রোগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী অ্যাডাম নিউম্যান বলেছেন, “এই কর্মসূচি টেকসই বিমান চলাচলের পথে আমাদের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আরও দেখুনঃ কে ছিলেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া? জানুন ভারতের জাতীয় পতাকা তৈরির নেপথ্যের ইতিহাস
কঠোর ও ধাপে ধাপে পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পেরেছি আধুনিক এ্যারো গ্যাস টারবাইনে শতভাগ হাইড্রোজেন কীভাবে আচরণ করে। কম্বাশন, জ্বালানি ও কন্ট্রোল সিস্টেম প্রযুক্তি যাচাই করা হয়েছে (hydrogen engine)। টিসিএস এই পুরো যাত্রায় আমাদের বিশ্বস্ত অংশীদার ছিল।”টিসিএসের ম্যানুফ্যাকচারিং প্রেসিডেন্ট অনুপম সিঙ্ঘল জানিয়েছেন, “উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং গভীর সহযোগিতার মাধ্যমেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
হাইড্রোজেন প্রপালশনকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা গর্বিত।” এই পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, ভবিষ্যতের ন্যারোবডি বিমান এবং আল্ট্রাফ্যান ইঞ্জিনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে।হাইড্রোজেনকে বিমান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
আরও দেখুনঃ ইতিহাসে প্রথমবার! ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় গাওয়া হল ‘বন্দে মাতরম’
এটি পোড়ালে মূলত জলীয় বাষ্প উৎপন্ন হয়, কার্বন ডাই অক্সাইড নয়। (hydrogen engine)তাই বিমান শিল্পের নেট জিরো লক্ষ্য অর্জনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয় হাইড্রোজেনের সংরক্ষণ, বিতরণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই পরীক্ষা সেই সব বাধা অতিক্রম করার পথে আশা জাগিয়েছে।