কে ছিলেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া? জানুন ভারতের জাতীয় পতাকা তৈরির নেপথ্যের ইতিহাস - 24 Ghanta Bangla News
Home

কে ছিলেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া? জানুন ভারতের জাতীয় পতাকা তৈরির নেপথ্যের ইতিহাস

Spread the love

ভারতের আকাশে সগর্বে উড়ছে তেরঙ্গা। কিন্তু যে মানুষটির তুলির টানে এই জাতীয় পতাকার রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তিনি ইতিহাসের পাতায় অনেকটাই আড়ালে রয়ে গিয়েছেন। তিনি পিঙ্গলি…

ভারতের আকাশে সগর্বে উড়ছে তেরঙ্গা। কিন্তু যে মানুষটির তুলির টানে এই জাতীয় পতাকার রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তিনি ইতিহাসের পাতায় অনেকটাই আড়ালে রয়ে গিয়েছেন। তিনি পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া। আজ স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ দিনে, ভারতের জাতীয় পতাকার রূপকার সেই বিস্মৃত নায়ককে ফিরে দেখা যাক।

১৮৭৬ সালের ২ অগস্ট অন্ধ্রপ্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়া। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং ভারতের জাতীয় পতাকার নকশাকার। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ভেঙ্কাইয়ার হাত ধরেই ধাপে ধাপে বিবর্তিত হয়েছিল আমাদের বর্তমান তেরঙ্গা।

দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ

ব্রিটিশ ভারতীয় সেনার হয়ে কাজ করার সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘দ্বিতীয় বোয়র যুদ্ধ’-এর (Second Boer War) সময় মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয়। দুজনের মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙ্কাইয়া গান্ধীবাদী আদর্শের একজন একনিষ্ঠ অনুগামী হয়ে ওঠেন।

পতাকা নিয়ে গবেষণা ও বই প্রকাশ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা এবং তার তাৎপর্য নিয়ে ভেঙ্কাইয়ার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই ১৯১৬ সালে তিনি ‘আ ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ ফর ইন্ডিয়া’ (A National Flag for India) নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ভারতের নিজস্ব একটি জাতীয় প্রতীকের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পতাকার ২৪টি ভিন্ন নকশা উপস্থাপন করেছিলেন।

গান্ধীজির নির্দেশে পতাকার নকশা তৈরি

১৯২১ সালে বিজয়ওয়াড়ায় (তৎকালীন বেজওয়াড়া) জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে গান্ধীজির সামনে পতাকার একটি নকশা পেশ করেন ভেঙ্কাইয়া। সেই পতাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসেবে আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করা হয়েছিল এবং দেশের প্রগতির প্রতীক হিসেবে মাঝখানে রাখা হয়েছিল একটি চরকা।

সময়ের সঙ্গে তেরঙ্গার বিবর্তন

ভেঙ্কাইয়ার তৈরি করা সেই মূল নকশা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা পরিবর্তিত হয়। ১৯৩১ সালে জাতীয় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকার একটি সংশোধিত রূপ গ্রহণ করে। সেখানে লাল রঙের বদলে জায়গা করে নেয় গেরুয়া। পতাকায় গেরুয়া, সাদা ও সবুজের পাশাপাশি চরকাটিকে অপরিবর্তিত রাখা হয়।

চরকার বদলে এল অশোকচক্র

স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা হিসেবে এই নকশাই চূড়ান্ত হয় ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই। তবে গণপরিষদ পতাকার মাঝখানে থাকা চরকার বদলে সম্রাট অশোকের ‘ধর্মচক্র’ বা অশোকচক্রকে স্থান দেয়। এভাবেই জন্ম হয় স্বাধীন ভারতের বর্তমান জাতীয় পতাকার।

বিস্মৃত নায়কের সরকারি সম্মাননা

ভারত সরকারের তরফ থেকেও পিঙ্গলি ভেঙ্কাইয়াকে স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন ‘বিস্মৃত নায়ক’ (Unsung hero) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যাঁকে নিয়ে ইতিহাসে খুব একটা আলোচনা হয়নি। তাঁর অবদানকে সম্মান জানাতে ২০০৯ সালে ভারত সরকার একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এরপর ২০২২ সালে তাঁর ১৪৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক নয়াদিল্লিতে ‘তিরঙ্গা উৎসব’-এর আয়োজন করে। সেখানে নতুন স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ইতিহাসে প্রথমবার! ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় গাওয়া হল ‘বন্দে মাতরম’

সশস্ত্র নকশাল শেষ, বড় বিপদ ‘দিমাগি নকশালবাদ’! সতর্কবার্তা মোদীর

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *