Independence Day Eve: অপারেশন সিঁদুর, প্রশ্ন ফাঁস থেকে সিন্ধু জল চুক্তি…স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতির উদ্দেশে বার্তা রাষ্ট্রপতির

নয়া দিল্লি: ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশ-বিদেশে থাকা সমস্ত ভারতীয়কে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি। তবে, ইতিহাসে এই প্রথম রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে বেজে ওঠে ‘বন্দে মাতরম’। তারপর পরিবেশিত হয় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’। এদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণে উঠে আসে দেশভাগের ক্ষত, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে নারী ও যুবসমাজের ভূমিকা। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কী, তাও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি।
স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী বলেন,”স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই জাতীয় উৎসবে আপনাদের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমাদের দেশ স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে পা দেবে।” এরপরই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “দেশে এবং বিদেশে থাকা ভারতীয়রা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালন করেন। তেরঙা দেশের স্বাধীনতার প্রতীক এবং গর্বের সঙ্গে তা উত্তোলন করা হয়।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ‘মাতৃভূমি পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছিল’। সেই সঙ্গে স্বাধীন ভারতের ভাগ্য নির্মাণের দায়িত্বও দেশের নাগরিকদের হাতেই এসেছিল। দেশের নাগরিকদের হাতে থাকা সুযোগগুলিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বপ্নপূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে ভারতকে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।” তাঁর কথায়,”এটাই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ।”
দেশ গঠনের কারিগরদের প্রশংসা
রাষ্ট্রপতি দেশের উন্নয়নে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়র, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, শ্রমিক এবং কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি খেলোয়াড়, কারিগর, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মী, জনপ্রতিনিধি, বিচার বিভাগের সদস্য, সরকারি আধিকারিক, বিনিয়োগকারী, সমাজকর্মী, স্বচ্ছতা অভিযানের কর্মী এবং সাফাইকর্মীদেরও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশেষভাবে তিন বাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং পুলিশের নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। বিদেশে থাকা ভারতীয়রা বিশ্বজুড়ে দেশের সম্মান ও মর্যাদা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দেশভাগের ক্ষত স্মরণ
১৪ অগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, “দেশভাগের সময় হিংসায় প্রাণ হারানো এবং ঘরছাড়া হওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষকে এই দিনে স্মরণ করা হয়।” ভারতের সংবিধান নাগরিকদের অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করে তৈরি।” রাষ্ট্রপতি জানান, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের একটি অনুপ্রেরণার দিক।
রাষ্ট্রপতি আইনসভা, বিচারবিভাগের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আইনসভায় মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে, অর্থের অভাবে যেন কোনও মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা
রাষ্ট্রপতি জানান, নারীদের শিক্ষায় দেশে নতুন নজির তৈরি হয়েছে। ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার মাধ্যমে ৮০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় বছরে সর্বাধিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা ৬০ কোটি মানুষকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের প্রসঙ্গে দ্রৌপদী মুর্মু বলেন,”কিষান সম্মান নিধি এবং কিষান ক্রেডিট কার্ড কৃষি, দুগ্ধ উৎপাদন, পোলট্রি, মৎস্যচাষ এবং মৌমাছি পালনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের সহায়তা করছে।”