E20 Petrol দূষণ নিয়ে আগেই উদ্বেগ, গাড়ি সংস্থার পরীক্ষায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
কলকাতা: ভারতে E20 Petrol নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে এল। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একাধিক অভ্যন্তরীণ ই-মেল ও নথি অনুযায়ী, গাড়ি নির্মাতাদের একটি অংশ E20…
কলকাতা: ভারতে E20 Petrol নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে এল। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একাধিক অভ্যন্তরীণ ই-মেল ও নথি অনুযায়ী, গাড়ি নির্মাতাদের একটি অংশ E20 জ্বালানিতে ক্লোরাইড ও আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়েছিল। মারুতি সুজুকি, টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রার আধিকারিকরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনও নেই। সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স বা সিয়াম জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তথ্য ছিল অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও যাচাইয়ের জন্য। পরে সংগঠনটি সেই যোগাযোগ প্রত্যাহার করে নেয়, কারণ নমুনার সংখ্যা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
২১ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ২৫০-র বেশি নমুনা
রয়টার্সের পর্যালোচনা করা তথ্য অনুযায়ী, তিনটি গাড়ি নির্মাতা সংস্থা এক বছরের মধ্যে দেশের ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে পেট্রোল পাম্পের ২৫০-র বেশি E20 জ্বালানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছিল। এই পরীক্ষায় ১৮টি রাজ্য থেকে সংগৃহীত একাধিক নমুনায় বেশি ক্লোরাইডের মাত্রা পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে কিছু নমুনায় আর্দ্রতার মাত্রাও নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল।

তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানে ক্লোরাইডের মাত্রা ৬ থেকে ৫৭০ পিপিএম, দিল্লি-এনসিআরে ১.৪ থেকে ৪২০ পিপিএম এবং মহারাষ্ট্রে ১০ থেকে ৩৫৭ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নির্ধারিত অনুমোদিত সীমা ৩ পিপিএম।
আর্দ্রতার মাত্রাও নির্ধারিত সীমার উপরে
ক্লোরাইডের পাশাপাশি কিছু নমুনায় জ্বালানিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশে আর্দ্রতার মাত্রা সর্বোচ্চ ১৩,০০০ পিপিএম এবং উত্তরপ্রদেশে ১২,৫০০ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া যায়। সরকারের নির্ধারিত সীমা যেখানে ৩,০০০ পিপিএম। এই দূষণের সঠিক কারণ কী, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সিয়ামের আগে প্রত্যাহার করা চিঠিতে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পেট্রোল পাম্পের ভূগর্ভস্থ স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
ক্লোরাইড নিয়ে গাড়ি সংস্থার উদ্বেগ
রয়টার্সের দেখা একটি ২৬ জুলাইয়ের ই-মেলে মারুতি সুজুকির এক প্রবীণ আধিকারিক E20 জ্বালানিতে ক্লোরাইডের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান জ্বালানি ইনজেক্টর সর্বোচ্চ ১ পিপিএম ক্লোরাইড সহ্য করতে পারে। E20 জ্বালানিতে ক্লোরাইডের মাত্রা ১ পিপিএমের নিচে রাখা আন্তর্জাতিক মান এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
মাহিন্দ্রার এক প্রবীণ আধিকারিকও ই-মেলে জ্বালানিতে অর্গানিক ক্লোরাইডের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এই ধরনের দূষণ দ্রুত গাড়ি বিকল হওয়ার কারণ হতে পারে এবং মাত্র ২০০ কিলোমিটার চলার মধ্যেই ইঞ্জিনের ক্ষতি করতে পারে। তবে পরে মাহিন্দ্রা এই ই-মেলের ভিত্তিতে তৈরি সিদ্ধান্তকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল” বলে জানিয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, শিল্পক্ষেত্রের তথ্য সীমিত এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ছিল এবং তারা E20 নিয়ে কোনও সমস্যা দেখতে পায়নি।
সিয়ামের অবস্থান কী?
সিয়াম জানিয়েছে, যে তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা অভ্যন্তরীণভাবে প্রচার, আলোচনা এবং যাচাইয়ের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংগঠনটির বক্তব্য, খুব অল্প সংখ্যক গাড়ি নির্মাতা এই তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সিয়াম আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার ভিত্তি এবং নমুনার সংখ্যা দৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই চিঠি ভুল করে পাঠানো হয়েছিল বলেও সংগঠনটি জানিয়েছে।
এখন সিয়াম একটি যথাযথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা করার পরিকল্পনা করছে।
সরকার ও তেল সংস্থাগুলির বক্তব্য
E20 পেট্রোলে ব্যাপক দূষণের অভিযোগ অবশ্য রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি বা ওএমসিগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশজুড়ে পরীক্ষা চালানোর পর তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও কারণ পাওয়া যায়নি। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। তবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, সিয়ামের চিঠি পাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই ওএমসিগুলি পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির দূষণ পরীক্ষা শুরু করেছিল। পুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পরীক্ষায় এখনও পর্যন্ত মাত্র চারটি দূষণের ঘটনা পাওয়া গিয়েছে।
ফলে E20 নিয়ে পরিস্থিতি এখন দুই ধরনের তথ্য সামনে আনছে। একদিকে, গাড়ি নির্মাতাদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় কিছু নমুনায় ক্লোরাইড ও আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, ওএমসিগুলির দেশজুড়ে পরীক্ষায় ব্যাপক দূষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে E20 জ্বালানির মান নিয়ে আরও বিস্তৃত ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাই বিতর্কের প্রকৃত উত্তর দিতে পারে।
Also Read | NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব