প্রকল্পের ফাঁদ, শহরের হোটেলে বসে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১
এই সময়: সরকারি প্রকল্পের টোপে প্রতারণা! অ্যাপের মাধ্যমে ভুয়ো লিঙ্ক পাঠিয়ে প্রতারকরা প্রথমে সাধারণ মানুষের মোবাইলের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিত। তার পরে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করত অভিযুক্তরা। কলকাতায় হোটেলের রুম ভাড়া নিয়ে বেআইনি কারবার চালাচ্ছিল তারা। বিষয়টি জানতে পেরে নিউ মার্কেট থানা এলাকার হোটেলে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করল পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে অধিকাংশই বিহারের জামুই জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। জামতাড়া গ্যাংয়ের সঙ্গে তাদের যোগ ছিল বলেও সূত্রের দাবি। কত দিন ধরে, কী ভাবে এই প্রতারণা চক্রটি কলকাতায় বসে অপারেশন চালাচ্ছিল—তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে নিউ মার্কেটের ওই হোটেলে হানা দিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন-সহ নানা ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের সরকারি আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনার আদলে একটি ভুয়ো প্রকল্পের প্রলোভন দিত। সেই প্রকল্পের লিঙ্ক পাঠানো হতে গ্রাহকদের হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামে। ওই লিঙ্কে ক্লিক করলেই গ্রাহকদের মোবাইল সঙ্গে সঙ্গে প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। তখনই আধার-সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিত তারা। এর পরে ওই তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণার কারবার শুরু হতো।
ধৃতদের অধিকাংশের বাড়ি বিহারের জামুই জেলায়, বাকিরা ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, চক্রটির সঙ্গে জামতাড়া-জামুই এলাকার সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কের যোগাযোগ থাকতে পারে। জামতাড়া গ্যাংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। কত দিন ধরে কলকাতার হোটেলে ঘাঁটি তৈরি করে এই কারবার চালানো হচ্ছিল এবং এর পিছনে আর কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।