গতমাসে রেকর্ড বিক্রি Ultraviolette-এর, এক বছরে ৪০৬% বাড়ল বিক্রি
গুরুগাঁও: প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বাজারে ধীরে ধীরে জায়গা শক্ত করছে আল্ট্রাভায়োলেট (Ultraviolette) অটোমোটিভ। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত নিজেদের সর্বোচ্চ মাসিক বিক্রি নথিভুক্ত…
গুরুগাঁও: প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বাজারে ধীরে ধীরে জায়গা শক্ত করছে আল্ট্রাভায়োলেট (Ultraviolette) অটোমোটিভ। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত নিজেদের সর্বোচ্চ মাসিক বিক্রি নথিভুক্ত করেছে। বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের তুলনামূলকভাবে বেশি দাম সত্ত্বেও এই বিক্রির পরিসংখ্যান সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভাহান পোর্টালের খুচরো বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৬-এ আল্ট্রাভায়োলেট মোট ৬৯৪টি গাড়ি বিক্রি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বিক্রি ৪০৬ শতাংশ বেশি।
২০২৬-এ এখনও পর্যন্ত বিক্রি ৩২০০ ইউনিট
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আল্ট্রাভায়োলেটের মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩২০০টি গাড়ি। সংস্থার ২০২৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে কোনও বছরের এই পর্যায়ে এত বেশি গাড়ি বিক্রি হয়নি। বিক্রি বাড়ার পেছনে সংস্থার মডেল সংখ্যা বৃদ্ধির ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে আল্ট্রাভায়োলেটের বাজারে চারটি মোটরসাইকেল রয়েছে। এগুলি হল এফ৭৭ ম্যাক ২, এফ৭৭ সুপারস্ট্রিট, এক্স-৪৭ এবং এক্স-৪৭ ডেজার্ট উইং। তবে শুধু মডেল বাড়ার কারণেই এই বৃদ্ধি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।
প্রিমিয়াম দামের মধ্যেও বাড়ছে বিক্রি
আল্ট্রাভায়োলেটের মোটরসাইকেলগুলির দাম সাধারণত ২.৪৯ লক্ষ টাকা থেকে ৪.৫৯ লক্ষ টাকা-র মধ্যে। ফলে সংস্থাটি মূলত প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক দুই-চাকার বাজারে প্রতিযোগিতা করে। এই উচ্চ মূল্যসীমা দীর্ঘদিন ধরে বেশি বিক্রির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিক্রির পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, এই বাজারে সংস্থাটি ধীরে ধীরে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করছে। বিশেষ করে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এখনও স্কুটারের মতো ব্যাপক বাজার তৈরি হয়নি। তাই এই বিভাগে বিক্রির এমন বৃদ্ধি সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রেভল্ট ও ওবিনের পিছনে আল্ট্রাভায়োলেট
২০২৬ সালের মোট বিক্রির হিসাবে আল্ট্রাভায়োলেট বর্তমানে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল বিক্রি করা সংস্থাগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত রেভল্ট মোটরসের বিক্রি ৬৮৭৬টি ইউনিট, আর ওবিন ইলেকট্রিকের বিক্রি ৩৩৪৭টি ইউনিট। আল্ট্রাভায়োলেটের বিক্রি সেখানে ৩২০০ ইউনিট। তবে তিনটি সংস্থার ব্যবসার অবস্থান এক নয়। আল্ট্রাভায়োলেট রেভল্ট এবং ওবিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি প্রিমিয়াম দামের মোটরসাইকেল বিক্রি করে। ওলা, কেএলবি কোমাকি, ম্যাটার মোটর ওয়ার্কস, ওকায়া ইভি এবং ওয়ার্ডউইজার্ড ইনোভেশনসের মতো সংস্থার কাছেও ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল রয়েছে। সম্প্রতি রয়্যাল এনফিল্ডও ফ্লাইং ফ্লি ব্র্যান্ডের মাধ্যমে এই বাজারে প্রবেশ করেছে।
ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস কি সাহায্য করছে?
আল্ট্রাভায়োলেটের বিক্রি বাড়ার পেছনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ থাকতে পারে। তার মধ্যে একটি হল সংস্থার ব্যাটারি-অ্যাস-এ-সার্ভিস বা বিএএএস বিকল্প। এই ব্যবস্থার ফলে গাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিকল্প ক্রেতাদের কাছে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে কিছুটা সহজ করতে পারে। এর পাশাপাশি পেট্রলচালিত গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও ইলেকট্রিক গাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে।
সামনে আসছে নতুন স্কুটার ও অফ-রোডার
আল্ট্রাভায়োলেটের পরিকল্পনা শুধু মোটরসাইকেলেই সীমাবদ্ধ নয়। সংস্থাটি তাদের প্রথম ইলেকট্রিক স্কুটার টেসের্যাক্ট এবং একটি অফ-রোডার শকওয়েভ বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শকওয়েভের দাম ১.৭৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হতে পারে। শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি ছোট অ্যাডভেঞ্চার রাইডের জন্যও মডেলটি তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে টেসের্যাক্টের প্রত্যাশিত দাম ১.৪৫ লক্ষ টাকা। সংস্থার দাবি করা ইডিসি রেঞ্জ ২৬১ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। শকওয়েভের ডেলিভারি আগে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন তৃতীয় ত্রৈমাসিক চলছে। টেসের্যাক্টের ডেলিভারি আবার পিছিয়ে ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে যাওয়ার কথা।
১০০টি জায়গায় পৌঁছতে চাইছে সংস্থা
আল্ট্রাভায়োলেট বর্তমানে ভারতে ৪০টি জায়গায় উপস্থিত। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম শোরুমও খুলেছে সংস্থা। মিজোরামের আইজলে সেই শোরুম চালু হয়েছে। বিক্রয় ও ডিলার নেটওয়ার্কের এই সম্প্রসারণ আগামী উৎসবের মরসুমে সংস্থার বিক্রিকে আরও বাড়াতে পারে।
ইউরোপেও বাড়ছে উপস্থিতি
আল্ট্রাভায়োলেট ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে। সংস্থার সিইও নারায়ণ সুব্রামণিয়ামের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপ তাদের আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এফ৭৭ ইতিমধ্যেই ইউরোপে বিক্রির জন্য সার্টিফিকেশন পেয়েছে। এক্স-৪৭-এর সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি বছরেই ইউরোপের বাজারে মোটরসাইকেলটি পৌঁছতে পারে।
সংস্থার উপস্থিতি বর্তমানে ইউরোপের প্রায় ১০টি দেশে, যার মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম এবং ইতালি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জুলাইয়ের ৬৯৪ ইউনিট বিক্রি এবং ৪০৬ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি আল্ট্রাভায়োলেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। সামনে টেসের্যাক্ট, শকওয়েভ, নতুন বাজার এবং আরও বড় ডিলার নেটওয়ার্ক যুক্ত হলে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের পাশাপাশি বৃহত্তর ইলেকট্রিক দুই-চাকার বাজারেও সংস্থার অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে।