ইউরিয়ার দাম কমল ১২%, ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটতেই বড় স্বস্তি ভারতে
মুম্বই: ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বিশ্ববাজারে সারের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ইউরিয়া আমদানির দর (Urea Price ) জুনের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে।…
মুম্বই: ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বিশ্ববাজারে সারের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ইউরিয়া আমদানির দর (Urea Price ) জুনের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের অন্যতম বড় ইউরিয়া আমদানিকারক ভারত সম্প্রতি যে দর পেয়েছে, তাতে ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক সারের বাজারের সরবরাহ-সংকট ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত মিলেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রাষ্ট্রীয় কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্টিলাইজার্স লিমিটেড বা আরসিএফ সরকারের হয়ে ইউরিয়া আমদানিও করে। পশ্চিম উপকূলের জন্য ১০ লক্ষ টন ইউরিয়া কেনার টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৩১ লক্ষ টন সরবরাহের প্রস্তাব জমা পড়েছে।
পশ্চিম উপকূলে কত দরে ইউরিয়ার প্রস্তাব?
বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম উপকূলের টেন্ডারে ইউরিয়ার জন্য প্রতি টনে ৩৯৩.৬৫ ডলার থেকে ৪৩৫ ডলার পর্যন্ত দর প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি পরিমাণ ইউরিয়ার জন্য সরবরাহকারীরা দর দিয়েছেন। বাণিজ্যিক তথ্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
পূর্ব উপকূলেও চাহিদার তুলনায় বেশি সরবরাহ প্রস্তাব
পূর্ব উপকূলের পরিস্থিতিও একই রকম। সেখানে ৭ লক্ষ টন ইউরিয়া প্রয়োজন ছিল। তার বিপরীতে প্রায় ২৪ লক্ষ টন সরবরাহের প্রস্তাব এসেছে। পূর্ব উপকূলের জন্য প্রস্তাবিত দাম প্রতি টনে ৩৯০.২৫ ডলার থেকে ৪৩৫.৫০ ডলার পর্যন্ত। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার জোগান পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে।
এপ্রিলের তুলনায় দামে বড় পতন
ইউরিয়ার আন্তর্জাতিক দামে গত কয়েক মাসে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গিয়েছে। এপ্রিল মাসে ভারতকে প্রতি টন ইউরিয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৯৫৯ ডলার পর্যন্ত দিতে হয়েছিল। এই দাম যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এরপর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় জুনের টেন্ডারে ইউরিয়ার দাম এপ্রিলের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে যায়। এবার জুনের কেনাকাটার দামের তুলনায় নতুন প্রস্তাবে আরও প্রায় ১২ শতাংশ পতন দেখা গেল।
হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের সার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম রয়েছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক সারের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়েছে। সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ইউরিয়ার মতো কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হওয়ায় বাজারে দামের চাপও কমছে। ভারতের সাম্প্রতিক ইউরিয়া টেন্ডারের দর সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
ভারতীয় কৃষকদের জন্য কী অর্থ?
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় ইউরিয়া আমদানিকারক। কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়ার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সরকারের আমদানি ব্যয়ের উপরও চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে প্রতি টনে ৯৫৯ ডলার পর্যন্ত দাম দেওয়ার পর বর্তমান দর অনেকটাই কম। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হলে ইউরিয়া আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য আর্থিক চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে এবং দুই পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান দাবি করছে।
ফলে আন্তর্জাতিক সারের বাজারে চাপ পুরোপুরি কেটে গিয়েছে, এমনটা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে ভারতের সর্বশেষ ইউরিয়া টেন্ডারে পাওয়া দর অবশ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সরবরাহ-সংকট ধীরে ধীরে কিছুটা কমছে।
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের