হাতি দিবস: ক্ষতি করলেও ওদের মঙ্গলই চায় জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা - 24 Ghanta Bangla News
Home

হাতি দিবস: ক্ষতি করলেও ওদের মঙ্গলই চায় জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা

Spread the love

বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম

ক্ষতি হয় ঠিকই, কিন্তু ওরা তো ঠাকুর। ভালো থাক ওরা—১২ অগস্ট হাতি দিবসে এমনই প্রার্থনা জঙ্গমলমহলবাসীর। প্রত্যেকদিনই হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ ঝাড়গ্রামের মানুষ। কখনও মাটির দেওয়াল ভেঙে চালের বস্তা টেনে নিচ্ছে। আবার কখনও শোনা যায় পাকা ফলস নষ্ট করে দিয়েছে। হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তবু গ্রামবাসী চান, ওরা ভালো থাকুক। কারণ ওরা অবুঝ। ওদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বন দপ্তরকেই, এটাই আর্জি গ্রামবাসীর।

মঙ্গলবার রাতেও খড়্গপুর বনবিভাগের বারডাঙা বিটের কেন্দুডাংরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালায় হাতির দল। অভিযোগ, স্কুলের লোহার দরজা ও মিড ডে মিলের শেডের একাংশ ভেঙে ফেলেছে হাতি। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের আঁধারিশোল আইসিডিএস কেন্দ্রের লোহার দরজা হাতি ধাক্কা দিয়ে বাঁকিয়ে দিয়েছে। তারপরেও হাসিমুখে জঙ্গলমহলের মানুষরা হাতির মঙ্গল কামনাই করছেন। তাঁদের কথায়, ‘হাতিরা নির্বোধ। বাসস্থান হারিয়ে ঠিকানার সন্ধানে এ দিক থেকে ও দিক ছুটে বেড়াচ্ছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। হাতির তাণ্ডবের সমস্যা সমাধানে বন দপ্তরকেই এগিয়ে আসতে হবে।’

ঝাড়গ্রাম, খড়্গপুর, মেদনীপুর এবং রূপনারায়ণ এই চারটি বন বিভাগ রয়েছে। চারটি বনবিভাগে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০টি হাতি ঘুরছে। হাতি এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে যাওয়ার পথে ফসলের ক্ষতি করছে। খাবারের সন্ধানে ভাঙছে ঘরবাড়িও। সন্ধ্যার পরে জঙ্গল পথে হাতির হানায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গবাদি পশু চরাতে গিয়ে হাতির আক্রমণে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। জমি থাকলেও হাতির জন্য চাষ করতে পারছেন না এলাকার মানুষ। সাঁকরাইল ও নয়াগ্রাম ব্লকে ব্যাপক পরিমাণে আখের চাষ হতো যা বর্তমানে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমনকী পড়ুয়ারাও হাতির ভয়ে অনেক সময়ে পড়তে যেতে পারছে না। কৃষিজীবী মানুষ হাতির ভয়ে চাষ ছেড়ে দিনমজুরি করছেন। সাঁকরাইলের আঙারনালি গ্রামের বাসিন্দা সুশীল মাহাতো বলেন, ‘পূর্বপুরুষ থেকে হাতিকে আমরা ঠাকুর বলে আসছি। গ্রামীণ পুজোর সময়ে দেবদেবীকে মাটির হাতি, ঘোড়া নিবেদন করা হয়। হাতিরা অবুঝ তারা তো ক্ষতি করবেই। বন দপ্তরের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

অন্য দিকে, হাতি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ১৯ মে গড় শালবনির নামে একটি রিসর্টের আমবাগানে আম খেতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির। অনেক সময়ে হাতির দলকে উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনাও সামনে আসে। হাতির দলকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া, পটকা ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। সেক্ষেত্রে গ্রামবাসীরা বলছেন, ‘হাতিকে উত্যক্ত করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। কিছু যুবক ভিডিয়ো বানানোর জন্য হাতিকে উত্যক্ত করে। বন দপ্তরের লোকজন সচেতন করলেও কথা শোনে না।’ চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এখনও পর্যন্ত হাতির হানায় প্রায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাতির সমস্যা সমাধানে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বন দপ্তরের দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। জঙ্গলে হাতিকে আটকে রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলের গাছ আম, কাঁঠাল, বেল, চালতা রোপণ করছে বন দপ্তর। জঙ্গলের মধ্যে তৈরি করা হচ্ছে বড় বড় জলাশয়। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের গিধনি রেঞ্জের ঝাড়খণ্ড বর্ডার লাগোয়া এলাকায় ১৫টি পুকুর খনন করেছে বন দপ্তর। স্কুলগুলিকে হাতির হাত থেকে রক্ষা করতে সৌর বিদ্যুৎচালিত পালস পাওয়ার ফেন্সিং বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অশোক মাহাতো বলেন, ‘কেন্দ্র সরকারের মধ্যস্থতায় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা তিন রাজ্যকে নিয়ে হাতির সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’ বন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘হাতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। হাতির প্রতি মুহূর্তের গতিবিধির উপরে নজর রাখা হয়।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *