একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং স্থগিত, বাড়ল প্রার্থীদের অনিশ্চয়তা
কলকাতা: রাজ্যের সরকারি স্কুলে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং আপাতত স্থগিত করল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন বা WBSSC। দ্বিতীয় স্টেট…
কলকাতা: রাজ্যের সরকারি স্কুলে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং আপাতত স্থগিত করল ওয়েস্ট বেঙ্গল সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন বা WBSSC। দ্বিতীয় স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্ট বা এসএলএসটি-তে সফল হয়ে যাঁরা নিয়োগের জন্য প্যানেলভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
শুক্রবার থেকে এই নিয়োগের কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই মঙ্গলবার কমিশনের তরফে কাউন্সেলিং স্থগিত রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ফলে নিয়োগের শেষ সময়সীমা সামনে থাকলেও কবে থেকে ফের কাউন্সেলিং শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কেন কাউন্সেলিং থামল?
এসএসসি চেয়ারম্যান দুষ্যন্ত নারিয়ালা জানিয়েছেন, মূলত ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি জটিলতার কারণেই কাউন্সেলিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জটিলতার সূত্রপাত আগের এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের ওবিসি সংরক্ষণ নীতি নিয়ে অবস্থানের পার্থক্য থেকে। আগের সরকার ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। সেই সংরক্ষণ ব্যবস্থার ভিত্তিতে কয়েকজন প্রার্থীকে সুপারিশপত্রও দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে সংরক্ষণের হার কমিয়ে ৭ শতাংশ করে। এর ফলে আগের সংরক্ষণ নীতির ভিত্তিতে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আইনি পরামর্শ নিচ্ছে এসএসসি
সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও কোনও জটিলতা যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে এসএসসি আইনি পরামর্শ নিচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য নির্ধারিত ৩১ আগস্টের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন কমিশন কর্তৃপক্ষ।
অর্থাৎ, কাউন্সেলিং আপাতত বন্ধ থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিল হয়নি। বরং ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতার সমাধানের পথ খুঁজছে কমিশন।
কারা রয়েছেন প্যানেলে?
দ্বিতীয় এসএলএসটির মাধ্যমে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য তৈরি প্যানেলে রয়েছেন একাধিক যোগ্য প্রার্থী।
এই প্যানেলে এমন কিছু শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীও রয়েছেন, যাঁরা ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর চাকরি হারিয়েছিলেন। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের ফের চাকরিতে ফেরার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কাউন্সেলিং স্থগিত হওয়ায় সেই আশাতেও আপাতত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে বিক্ষোভ
কাউন্সেলিং স্থগিতের খবর সামনে আসার পর প্রার্থীদের একাংশ প্রতিবাদে নামেন। করুণাময়ীতে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী।
তাঁদের দাবি, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকার কারণে তাঁদের অনেকেই তীব্র আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলেও বিক্ষোভকারীরা জানান।
পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাই আর অপেক্ষা না করে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
৩১ আগস্টের সময়সীমা ঘিরে উদ্বেগ
একদিকে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য নির্ধারিত ৩১ আগস্টের সময়সীমা। ফলে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করতে চলেছে এসএসসি। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে সময়সীমা বাড়ায় কি না, তার উপরও পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
এখন মূল নজর ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি জটিলতার সমাধান এবং সুপ্রিম কোর্টে এসএসসির আবেদনের দিকে। কাউন্সেলিং কবে ফের শুরু হবে এবং প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের নিয়োগ শেষ পর্যন্ত কীভাবে সম্পন্ন হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত অনিশ্চিত।