স্বাধীনতা দিবসে Mahindra-এর বড় চমক, ২০১৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত লঞ্চের রোমাঞ্চকর গল্প - 24 Ghanta Bangla News
Home

স্বাধীনতা দিবসে Mahindra-এর বড় চমক, ২০১৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত লঞ্চের রোমাঞ্চকর গল্প

Spread the love

গুরুগাঁও: ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে নতুন গাড়ি বা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি উন্মোচন করার একটি আলাদা ধারা তৈরি করেছে মাহিন্দ্রা ( Mahindra)। প্রতি বছরই অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে সংস্থার কোনও না কোনও বড় চমক সামনে আসে। কখনও নতুন এসইউভি, কখনও বৈদ্যুতিক গাড়ির প্ল্যাটফর্ম, আবার কখনও ভবিষ্যতের গাড়ির কনসেপ্ট।

ফলে মাহিন্দ্রার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দিবসের সময়টা এখন শুধু জাতীয় উদযাপনের সময় নয়, গাড়িপ্রেমীদের কাছেও প্রতীক্ষার সময়। ২০১৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত কী কী বড় ঘোষণা বা উন্মোচন করেছে মাহিন্দ্রা, আর ২০২৬ সালে কী আসতে চলেছে, দেখে নেওয়া যাক।

২০১৬: টিইউভি ৩০০ ইন্ডিপেন্ডেন্স এডিশন

স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে মাহিন্দ্রার বিশেষ আয়োজনের গল্প শুরু করা যায় ২০১৬ সালের টিইউভি ৩০০ ইন্ডিপেন্ডেন্স এডিশন দিয়ে। ৭০তম স্বাধীনতা দিবসে মাহিন্দ্রা ল্যাডার-অন-ফ্রেম এসইউভি টিইউভি ৩০০-এর একটি বিশেষ সংস্করণ নিয়ে আসে। এই গাড়িটিই পরবর্তীতে বিবর্তিত হয়ে বর্তমানে পরিচিত বোলেরো নিও-র ভিত্তি তৈরি করে। বিশেষ সংস্করণটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্রোঞ্জ গ্রিন রঙ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা গাড়ির সঙ্গে এই রঙের মিল রয়েছে। বিশেষ সংস্করণটির মাধ্যমে মাহিন্দ্রা দেশের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে তুলে ধরেছিল।

২০২০: দ্বিতীয় প্রজন্মের থার

এরপর মাহিন্দ্রার স্বাধীনতা দিবসের বড় চমকের তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামগুলির একটি হল দ্বিতীয় প্রজন্মের থার। প্রথম প্রজন্মের থার ছিল মূলত একটি রাগড অফ-রোডার। সেটির রাইড কিছুটা বাউন্সি ছিল এবং ব্যবহারিক এসইউভি হিসেবে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। দ্বিতীয় প্রজন্মে মাহিন্দ্রা সেই ধারণাই বদলে দেয়। নতুন থার আরও আরামদায়ক এবং বহুমুখী লাইফস্টাইল এসইউভিতে পরিণত হয়। পাশাপাশি থারের মূল বৈশিষ্ট্য, অর্থাৎ ফোর-হুইল-ড্রাইভ সক্ষমতাও বজায় রাখা হয়। গাড়িটি তিনটি ট্রিম এবং মোট ১০টি ভ্যারিয়েন্টে বাজারে আসে। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ছিল ২-লিটার টার্বো-পেট্রল এবং ২.২-লিটার ডিজেল। দুই ইঞ্জিনের সঙ্গেই ৬-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৬-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্সের বিকল্প ছিল। নতুন থার অফ-রোডপ্রেমীদের পাশাপাশি দীর্ঘ সফর এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্রেতাদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

২০২১: এক্সইউভি ৭০০

থারের পর মাহিন্দ্রার পরবর্তী বড় চমক ছিল এক্সইউভি ৭০০। ২০২১ সালে স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিনে মাহিন্দ্রা বিশ্ববাজারের সামনে নতুন এসইউভিটি উন্মোচন করে। এটি শুধু এক্সইউভি ৫০০-এর উত্তরসূরি ছিল না। ডিজাইন, প্রযুক্তি, আরাম এবং ফিচারের দিক থেকে এটি মাহিন্দ্রার জন্য একটি বড় পরিবর্তন ছিল।

এক্সইউভি ৭০০-তে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি এডিএএস-এর মতো উন্নত সুরক্ষা প্রযুক্তি যোগ করা হয়। প্রিমিয়াম কেবিন এবং বিভিন্ন আধুনিক ফিচারের কারণে গাড়িটি পরিবারকেন্দ্রিক এসইউভি হিসেবেও জনপ্রিয় হয়। পরবর্তীতে গাড়িটিতে ডিজাইন এবং ফিচারের পরিবর্তন আনা হয় এবং এর নতুন নাম দেওয়া হয় এক্সইউভি ৭এক্সও।

২০২২: ইনগ্লো প্ল্যাটফর্ম ও বর্ন ইলেকট্রিক কনসেপ্ট

২০২২ সালে মাহিন্দ্রা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আরও বড় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা সামনে আনে। সংস্থাটি উন্মোচন করে ইনগ্লো প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত মাহিন্দ্রার ভবিষ্যৎ বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। এই আর্কিটেকচারে ৬০ কিলোওয়াট-আওয়ার অথবা ৮০ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি প্যাক ব্যবহারের সক্ষমতা ছিল। সেই সময় মাহিন্দ্রা এই প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে পাঁচটি এসইউভির কথা জানিয়েছিল:
• বিই.০৭
• বিই.০৫
• বিই.০৯
• এক্সইউভি.ই৯
• এক্সইউভি.ই৮
পরবর্তীতে এই কনসেপ্টগুলির ধারাবাহিকতায় এক্সইভি ৯এস, এক্সইভি ৯ই এবং বিই ৬-এর মতো উৎপাদন মডেল সামনে আসে। মাহিন্দ্রার বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবসায় এই মডেলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করে।

২০২৩: গ্লোবাল পিকআপ ও ভিশন থার.ই

২০২৩ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মাহিন্দ্রা ভারতের বাইরে, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ কনসেপ্ট উন্মোচন করে। একটি ছিল গ্লোবাল পিকআপ, অন্যটি ভিশন থার.ই। গ্লোবাল পিকআপের ডিজাইনে স্করপিও এন-এর ছাপ থাকলেও এটিকে আরও রাগড এবং অ্যাডভেঞ্চার-কেন্দ্রিক চেহারা দেওয়া হয়েছিল। মাহিন্দ্রার পিকআপের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরনো। সংস্থার স্করপিও গেটঅ্যাওয়ে একসময় এই ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রে পরিচিত নাম ছিল। এমনকি বর্তমানে স্করপিও ক্লাসিকের পিকআপ সংস্করণও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হয়। অন্যদিকে ভিশন থার.ই ছিল একটি ৫-দরজার বৈদ্যুতিক এসইউভি কনসেপ্ট। এতে ক্লোজড-অফ গ্রিল এবং আলোকিত থার.ই লোগো ছিল। গাড়িটি কাস্টমাইজড ইনগ্লো পি১ প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।

২০২৪: থার রক্স

২০২৪ সালে স্বাধীনতা দিবসের চমকের তালিকায় যুক্ত হয় থার রক্স। এটি ছিল থারের ৫-দরজার সংস্করণ। তিন-দরজার থারের অফ-রোড সক্ষমতা বজায় রেখেও নতুন মডেলে আরও বেশি ব্যবহারিক সুবিধা যোগ করা হয়।
থার রক্সে ছিল:
• দুটি ১০.২৫-ইঞ্চি ডিসপ্লে
• ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে
• সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার
• প্যানোরামিক সানরুফ
• অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল
• ওয়্যারলেস চার্জার
• চাবি ছাড়াই প্রবেশের সুবিধা
• পুশ-বাটন স্টার্ট/স্টপ
থার রক্সের মাধ্যমে মাহিন্দ্রা থারের রাগড চরিত্রের সঙ্গে একটি পরিবারকেন্দ্রিক এসইউভির ব্যবহারিকতা যুক্ত করে।

২০২৫: নতুন মনোকক প্ল্যাটফর্ম ও এনইউ_আইকিউ কনসেপ্ট

২০২৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে মাহিন্দ্রা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। সংস্থাটি একটি নতুন মনোকক প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করে, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের মডেল এবং পাওয়ারট্রেন তৈরির সুযোগ দেবে। এই আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে ভিশন এস, ভিশন এক্স, ভিশন টি এবং ভিশন এসএক্সটি-র মতো এসইউভি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মাহিন্দ্রার দাবি, এই আর্কিটেকচার গ্লোবাল এনক্যাপ এবং ইউরো এনক্যাপে ৫-স্টার নিরাপত্তা রেটিং পাওয়ার সক্ষমতা রাখে। এই প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মডেলগুলির মধ্যে রয়েছে ভিশন এস-এর উৎপাদন সংস্করণ। পরীক্ষামূলক গাড়ি একাধিকবার রাস্তায় দেখা যাওয়ায় বছরের শেষ দিকে বা পরের বছরের শুরুতে সেটি বাজারে আসার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।

২০২৬: এবার আসছে স্করপিও এন পিকআপ

এবার ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে মাহিন্দ্রা ইতিমধ্যেই বড় ঘোষণা করেছে। ১৪ অগস্ট স্করপিও এন-ভিত্তিক পিকআপ উন্মোচন করবে মাহিন্দ্রা। অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিনই সামনে আসবে বহু প্রতীক্ষিত নতুন পিকআপ। গাড়িটির টিজার ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। স্করপিও এন-এর সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও পিকআপ সংস্করণে আরও রাগড এবং ব্যবহারিক চরিত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

কী কী ফিচার থাকতে পারে?

স্করপিও এন পিকআপে স্করপিও এন-এর বেশ কিছু আধুনিক ফিচার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মধ্যে থাকতে পারে:
• ১০.২৫-ইঞ্চি ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার
• ওয়্যারলেস ফোন চার্জার
• ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট
• ১২-স্পিকার সনি সাউন্ড সিস্টেম
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গাড়িটি শক্তিশালী প্যাকেজ নিয়ে আসতে পারে। স্করপিও এন গ্লোবাল এনক্যাপ পরীক্ষায় ৫-স্টার নিরাপত্তা রেটিং পেয়েছে। নতুন পিকআপেও সেই নিরাপত্তার মান ধরে রাখার প্রত্যাশা রয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম, ৫৪০-ডিগ্রি ক্যামেরা, সামনে ও পিছনে পার্কিং সেন্সর, হিল ডিসেন্ট কন্ট্রোল এবং চারটি চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক।

একই ইঞ্জিনের বিকল্প থাকতে পারে

পাওয়ারট্রেনের ক্ষেত্রে স্করপিও এন-এর সঙ্গে মিল থাকতে পারে নতুন পিকআপের। এতে ২-লিটার টার্বো-পেট্রল এবং ২.২-লিটার ডিজেল ইঞ্জিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন এবং অন্যান্য তথ্য মাহিন্দ্রার আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের পরই নিশ্চিত হবে।

১৫ অগস্টে আরও চমক?

স্করপিও এন পিকআপের পাশাপাশি মাহিন্দ্রা বিই ৬ স্পোর্টেক-এরও টিজার প্রকাশ করেছে। নতুন সংস্করণে ট্যান রঙের ইন্টেরিয়র এবং তিনটি স্ক্রিনের ড্যাশবোর্ড থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও বিই ৬ ফর্মুলা ই এডিশন-এর আপডেটেড সংস্করণও ১৫ অগস্টে সামনে আসতে পারে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহেও মাহিন্দ্রার কাছ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নতুন মডেল ও সংস্করণ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১৬ সালের টিইউভি ৩০০ ইন্ডিপেন্ডেন্স এডিশন থেকে শুরু করে থার, এক্সইউভি ৭০০, ইনগ্লো, গ্লোবাল পিকআপ, থার রক্স এবং নতুন বৈদ্যুতিক প্ল্যাটফর্ম, মাহিন্দ্রা স্বাধীনতা দিবসকে নিজেদের নতুন অধ্যায় শুরুর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০২৬ সালে স্করপিও এন পিকআপের আত্মপ্রকাশ সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চলেছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *