ইলেকট্রিক বাইক-স্কুটারে ভর্তুকি ২০২৮ পর্যন্ত, কমল সরকারি সুবিধার পরিমাণ
নয়াদিল্লি: ভারতে ইলেকট্রিক বাইক ও ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকির মেয়াদ আরও বাড়ানো হল। পিএম ই-ড্রাইভ (PM E Drive ) ভর্তুকি প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক দু’চাকার…
নয়াদিল্লি: ভারতে ইলেকট্রিক বাইক ও ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার ক্ষেত্রে ভর্তুকির মেয়াদ আরও বাড়ানো হল। পিএম ই-ড্রাইভ (PM E Drive ) ভর্তুকি প্রকল্পের আওতায় বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির জন্য আর্থিক সুবিধা এবার ৩১ মার্চ, ২০২৮ পর্যন্ত চালু থাকবে। কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রক এই মেয়াদ বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তবে মেয়াদ বাড়লেও বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণ আগের তুলনায় কমেছে। নতুন নিয়মে ব্যাটারির ক্ষমতা অনুযায়ী ভর্তুকি দেওয়া হবে, কিন্তু তার সর্বোচ্চ সীমাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ারে ভর্তুকি কত?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ার ইনস্টলড ব্যাটারি ক্ষমতার জন্য ২,৫০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০০ টাকা। আবার গাড়িটির এক্স-ফ্যাক্টরি দামের ১৫ শতাংশ যদি ৫,০০০ টাকার কম হয়, তাহলে সেই কম পরিমাণই ভর্তুকি হিসেবে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ভর্তুকি হিসাব করার সময় ২,৫০০ টাকা প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ার, সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা অথবা এক্স-ফ্যাক্টরি দামের ১৫ শতাংশ, এই দুই সীমার মধ্যে যেটি কম হবে সেটিই কার্যকর হবে।
কোন ইলেকট্রিক বাইক-স্কুটার ভর্তুকি পাবে?
এই ভর্তুকি সব বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির জন্য প্রযোজ্য নয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা এক্স-ফ্যাক্টরি দাম-এর বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়িই এই সুবিধার আওতায় আসবে। ফলে ১.৫ লক্ষ টাকার বেশি এক্স-ফ্যাক্টরি দামের ইলেকট্রিক বাইক বা স্কুটার এই ভর্তুকির আওতায় থাকবে না।
আগের তুলনায় কতটা কমল ভর্তুকি?
২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর নিয়মে বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির জন্য প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি ক্ষমতায় ৫,০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হত। এর সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১০,০০০ টাকা। নতুন নিয়মে প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ারে ভর্তুকি অর্ধেক হয়ে ২,৫০০ টাকা হয়েছে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ ভর্তুকির পরিমাণও ১০,০০০ টাকা থেকে কমে ৫,০০০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ, ইলেকট্রিক বাইক ও স্কুটার কিনতে সরকারের আর্থিক সহায়তা দীর্ঘদিনের জন্য বজায় থাকলেও আগের তুলনায় সুবিধার পরিমাণ কমেছে।
মাঝের সময়ে কী হয়েছিল?
আগের ভর্তুকি সংক্রান্ত নিয়মের মেয়াদ ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হয়ে যায়। এরপর নতুন নীতি কার্যকর করার আগে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা ৩১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর ছিল। সেই সময় যে নতুন নিয়ম ও শর্তগুলি চালু করা হয়েছিল, সেগুলিই এবার দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারিত প্রকল্পের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইলেকট্রিক দু’চাকার গাড়ির ভর্তুকি ব্যবস্থা আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে চলে এল।
ভর্তুকির জন্য বাড়ল সরকারি বরাদ্দ
শুধু প্রকল্পের মেয়াদই বাড়ানো হয়নি, এর জন্য বরাদ্দ অর্থের পরিমাণও বাড়িয়েছে কেন্দ্র। ইলেকট্রিক দু’চাকার গাড়ির ভর্তুকির জন্য মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ২,৭৬৭ কোটি টাকা। আগের বরাদ্দের তুলনায় এটি ১,০০০ কোটি টাকা বেশি। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই মোট বরাদ্দের মাধ্যমে সর্বাধিক ৪৫,৭৯,১২০টি বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়িকে ভর্তুকির আওতায় আনা সম্ভব হবে।
ক্রেতাদের জন্য এর অর্থ কী?
নতুন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, ইলেকট্রিক বাইক বা স্কুটার কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকির ব্যবস্থা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। বরং ৩১ মার্চ, ২০২৮ পর্যন্ত এই সুবিধা চালু থাকবে।
তবে আগের তুলনায় ভর্তুকির অঙ্ক কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের সরাসরি আর্থিক সুবিধা কিছুটা কম হবে। বিশেষ করে বড় ব্যাটারির ইলেকট্রিক স্কুটার বা বাইকের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট-আওয়ার হিসাবে সুবিধা বাড়বে না, কারণ সর্বোচ্চ ভর্তুকি ৫,০০০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ।
অন্যদিকে, ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এক্স-ফ্যাক্টরি দামের বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির ক্রেতারা আগামী কয়েক বছর এই সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পিএম ই-ড্রাইভ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে কেন্দ্র বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ির বাজারে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নতুন কাঠামোয় ভর্তুকির মেয়াদ বেড়েছে, কিন্তু প্রতি গাড়িতে ভর্তুকির পরিমাণ কমেছে। আগামী দিনে এই পরিবর্তন ইলেকট্রিক বাইক ও স্কুটারের চূড়ান্ত দামে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের