আদালতের অনুমতি না নিয়েই স্থগিত SSC-র কাউন্সেলিং, আন্দোলনে প্রার্থীরা
এই সময়: শিক্ষক নিয়োগে অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সংরক্ষণের জটিলতায় একাদশ-দ্বাদশের কাউন্সেলিং–ও স্থগিত করল এসএসসি। উচ্চ মাধ্যমিকের নানা বিষয়ে ১৪ অগস্ট থেকে ১৫ হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাউন্সেলিং শুরুর ব্যাপারে আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বুধবার সল্টলেকের করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশে সামিল হন ওয়েস্ট বেঙ্গল আনটেনটেড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা (ডব্লিউবিইউটিএ)। তাঁদের অনেকের হাতেই নিয়োগের সুপারিশপত্র ছিল। ওই সংগঠনে ২০১৬–র ‘যোগ্য’দের পাশাপাশি ২০২৫–এর ফ্রেশার্স চাকরিপ্রার্থীরাও ছিলেন। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে আদালতের অনুমতি না নিয়েই নানা পদ্ধতি স্থগিত করা আদালত অবমাননার শামিল।
যাঁরা ইতিমধ্যে কমিশনের সুপারিশপত্র পেয়েছিলেন, তাঁদের পুলিশি নথি যাচাইয়ের কথা ছিল ১২, ১৩ ও ১৭ অগস্ট। সেই প্রক্রিয়াও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ স্থগিত করে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত নবম-দশমের ১৫ হাজার শিক্ষক পদপ্রার্থীর নথি যাচাইয়ের কাজ হয়েছে। কোনও বিষয়ে ইন্টারভিউ হয়নি। যদিও কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়াল মঙ্গলবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। ২০২৫–এর এসএসসির এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ নাকি ৭ শতাংশের ভিত্তিতে হবে, সে ব্যাপারে আইনি পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।’
যদিও এ দিন আন্দোলনকারীরা কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করলে তাঁদের বলা হয়, আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যোগ্যদের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হবে। আইনি পরামর্শ পেলে এসএসসি ৭% ওবিসি হিসেবে নতুন করে ফর্মফিলাপের এডিট অপশন দিতে পারে। যে ১০% নতুন করে ইনক্লুড হবে, তাদের আবার ইন্টারভিউ হবে। নবম–দশমের নথি যাচাই চলবে। পুজোর আগের গ্রুপ সি এবং ডি লিখিত পরীক্ষার ফলপ্রকাশ করা হবে।
এসএসসি–র ২০১৬–র শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৫–র ৩ এপ্রিল বাতিল করেছিল। সে সময়ে চাকরি হারান পৌনে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছিল, আনটেন্টেড বা যোগ্য’দের পরীক্ষা নিতে হবে। একজন যোগ্যর স্বার্থও যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা এসএসসি’কে নিশ্চিত করতে হবে।
এই পরিস্থি্তিতে নবম–দশমে যোগ্য শিক্ষক রাকেশ আলমের দাবি, ‘এসএসসি ২০২৫–এর নিয়োগের মাঝে ওবিসি সংরক্ষণ ১৭–এর বদলে ৭ শতাংশ করে, তা হলে বহু যোগ্য প্রার্থীই একাদশ–দ্বাদশের প্যানেল ও নবম–দশমের নথি যাচাই থেকেই বাদ পড়ে যাবেন। যা শীর্ষ আদালতের রায়ের পরিপন্থী।’ যোগ্য শিক্ষক মৃন্ময় মণ্ডলের কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্টই ২০২৫–র ৩১ ডিসেম্বর ও পরে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের সবেতন কাজ চালানোয় সম্মতি জানিয়েছিল। এই সময়সীমার মধ্যে রাজ্যকে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।’
এদিনের প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন অনেক নতুন পরীক্ষার্থীও। তাঁরা ২০২৫–এ প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, ওবিসি সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ ধরেই দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে হবে।
এদিকে, এসএসসির শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে খোলা চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের কথায়, প্রত্যেক যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের অবশ্য কর্তব্য। সেইসঙ্গে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে যাঁরা সফল হবে, তাঁদেরও চাকরি সুনিশ্চিতের প্রয়োজন রয়েছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন পবিত্র সরকার, চিন্ময় গুহরা।