স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে হোটেল-হোম স্টে হাউসফুল
বুদ্ধদেব বেরা, বেলপাহাড়ি
সবুজ শাল জঙ্গল, ঢেউ খেলানো পাহাড়, আঁকাবাঁকা রাস্তা, ছোট্ট জলপ্রপাত-এর টানেই সারা বছর কমবেশি পর্যটকরা আসেন। কিন্তু এ বার অন্য স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে যা ভিড় হয় তার থেকেও ভিড় বেশি হতে চলেছে বেলপাহাড়িতে। এমনটাই আশা বড়-ছোট ব্যবসায়ীদের। এর জেরে খুশি তাঁরা।
স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে পর্যটকদের এ বার সেরা ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে বেলপাহাড়ি। তার মধ্যে শুরু হয়েছে বেলপাহাড়ি-কলকাতার সরকারি বাসও। বেলপাহাড়ি নয়, ঝাড়গ্রাম জেলার প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রেই ভিড় বাড়বে এ বারের স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে। জেলার হোটেল, রিসোর্ট, হোম-স্টে গুলিতে কার্যত পর্যটকের বুকিং হয়ে গিয়েছে। সব এখন হাউসফুল।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক বছরের স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে যে পরিমাণে পর্যটক আসতেন, তার সমস্ত রেকর্ড এ বার ভেঙে যেতে চলেছে। পর্যটক আসা মানেই অর্থনীতিরও উন্নতি হয় ঝাড়গ্রামে। বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোড়ের ঢেউ খেলানো ট্রেকিং রুট, ঢাঙ্গিকুসুমের হদহদি জলপ্রপাত, ঘাগরা জলপ্রপাত, গাড়রাসিনী পাহাড়ে ট্রেকিং এবং কেতকি ঝর্নার মনোরম পরিবেশ ও খাঁদারানি লেক পর্যটকদের কাছে অতি পরিচিত। এই বর্ষার মরশুমে জলপ্রপাতগুলোর রূপ আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। আরও সবুজে ভরে ওঠে জঙ্গল। যার টানে বর্ষার মরশুম বেছে নেন অনেক পর্যটক।
বেলপাহাড়ির আগুইবিল, গহালবেড়া, বালিচুয়া, সাতবাঁকি, ঢাঙ্গিকুসুম, আমলাশোল, কাঁকড়াঝোড়-সহ জেলা জুড়ে হোম-স্টে রয়েছে ১০৩টি। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স, বন দপ্তরের প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্র মিলিয়ে পাঁচটি এবং হোটেল-রিসর্ট মিলিয়ে প্রায় ৩০টির ঊর্ধ্বে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বীকৃত ঝাড়গ্রাম ট্যুরিজমের কর্ণধার সুমিত দত্ত বলেন, ‘বর্ষাকালে বেলপাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য সাধারণত পর্যটকের ভিড় বাড়ে। এ বার স্বাধীনতা দিবস শনিবার পড়েছে। শুক্র-শনি-রবিবার সপ্তাহের এই তিনটি দিন পর্যটকের ভিড় বেশি থাকে। তবে এ বারের স্বাধীনতা দিবসে রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হতে চলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে জেলার হোম-স্টে, রিসর্ট, হোটেলগুলিতে বুকিং শেষের মুখে। জঙ্গল প্রকৃতির কোলে রাতযাপনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা হোম-স্টে, রিসর্টগুলিতে পর্যটকের বুকিংয়ে হাউসফুল।’ ঝাড়গ্রামে উপকণ্ঠে বান্দরভুলায় কলাবনির শাল জঙ্গলে মধ্যে বন দপ্তরের প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রের ম্যানজার অর্ণব বসু বলেন, ‘এ বছর ভালোই বুকিং হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি ২২ অগস্ট পর্যন্ত বুকিং রয়েছে।’
স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে দৈনিক গড়ে দু’হাজারের বেশি পর্যটক রাতযাপন করতে চলছে জেলা জুড়ে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডে-ভিজিটার পর্যটকের সংখ্যাও। পর্যটকের নিরাপত্তায় এবং সহযোগিতা বিশেষ জোর দিয়েছে জেলা পুলিশ। বেলপাহাড়ির পর্যটন স্থলগুলিতে টহলদারি চালাচ্ছে জেলা পুলিশের মহিলা পুলিশের উইনার্স টিম। জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের প্যাট্রোলিং, নাকা চেকিং পয়েন্ট রয়েছে।’