নেতাজিকে অবমাননা করলেই আইনি পদক্ষেপ নেবেন শুভেন্দু
কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য, আপত্তিকর মিম (Shubhendu Adhikari)বা অপপ্রচার ছড়ানো হলে আর কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি অভিযুক্ত…
কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য, আপত্তিকর মিম (Shubhendu Adhikari)বা অপপ্রচার ছড়ানো হলে আর কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি বা সাংসদ হলেও তাঁর বিরুদ্ধে একইভাবে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, নেতাজিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন পোস্টের বিষয়ে সাইবার সেলকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকারের তরফে দাবি, স্বাধীনতা আন্দোলন ও নেতাজির মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার বরদাস্ত করা হবে না।
আরও দেখুনঃ ডিসেম্বরে হাসিনা ফিরলে তাকে পূর্ন নিরাপত্তা দেওয়া হবে! দাবি তারেক রহমানের উপদেষ্টার
নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গের কয়েকজন বিধায়ক ও মন্ত্রী তাঁর কাছে নেতাজিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার সেলকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি নেতাজিকে নিয়ে অপপ্রচার করেন বা আপত্তিকর মিম তৈরি করে তা ছড়ান, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী (Shubhendu Adhikari)আরও স্পষ্ট করে দেন, আইনের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। অর্থাৎ অভিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণ নাগরিক হোন কিংবা জনপ্রতিনিধি বা সাংসদ অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে একই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে তাঁকে আনা হবে। পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
আরও দেখুনঃ প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বেড়ে ১০ হাজার! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
নেতাজিকে (Shubhendu Adhikari)নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক একটি রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের একটি মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। জলপাইগুড়ির ফুলবাড়িতে একটি সভায় তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কোনও অবদান নেই। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের সমালোচনা করে। নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে এমন মন্তব্যকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলেও অভিযোগ ওঠে। মঙ্গলবার শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করে ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে সরব হন তিনি।
এর মধ্যেই সরকারের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বাড়ানোর বার্তা সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, কারও ভাবমূর্তি নষ্ট করা বা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।