‘টিকি রাখেন? আমিষ খান?’ রাম মন্দিরের ইন্টারভিউয়ে প্রশ্নের মুখে প্রাক্তন আইএএস-রা
অযোধ্যা: রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রথম পূর্ণ সময়ের সিইও (CEO) নির্বাচন পর্ব শুরু হয়েছে। তবে শুধু বাজেট পরিচালনা বা প্রশাসনিক দক্ষতাই নয়, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন,…
অযোধ্যা: রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রথম পূর্ণ সময়ের সিইও (CEO) নির্বাচন পর্ব শুরু হয়েছে। তবে শুধু বাজেট পরিচালনা বা প্রশাসনিক দক্ষতাই নয়, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন, খাদ্যাভ্যাস এবং ধর্মাচরণ নিয়ে করা হচ্ছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। “আপনি কি কট্টর হিন্দু?”, “আমিষ খান, না নিরামিষ?”, অযোধ্যার রাম মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগে এমনই সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে শর্টলিস্ট হওয়া ১৮ জন প্রার্থীকে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রার্থীদের একটি গুগল ফর্ম পূরণ করতে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি জানতে চাওয়া হয়। সাক্ষাৎকারের সময় সিভি (CV) ধরে ধরে তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ, আচার-আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করেন প্যানেলের সদস্যরা। প্রার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, “আপনি কি টিকি রাখেন?”, “পৈতে পরেন?” কিংবা “মদ্যপানের অভ্যাস রয়েছে কি না?” পাশাপাশি, ভগবান রামের প্রতি তাঁদের ভক্তি, মন্দিরের ধর্মীয় ও সামাজিক তাৎপর্য এবং বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভিড় সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ট্রাস্ট জানিয়েছে, দেশ জুড়ে ৫,৩০০ জনেরও বেশি আবেদনের ভিত্তিতে মাত্র ১৮ জনকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিন জন প্রাক্তন আইএএস (IAS) আধিকারিক, এক জন প্রাক্তন আইপিএস (IPS) এবং চার জন প্রাক্তন সেনা ও শিক্ষা আধিকারিক। ট্রাস্টের শর্ত অনুযায়ী, সিইও পদের প্রার্থীকে অবশ্যই ধর্মপ্রাণ হিন্দু হতে হবে, হিন্দু রীতিনীতি মেনে চলতে হবে এবং তাঁকে সম্পূর্ণ নিরামিষাশী ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। এই পদের জন্য বয়সসীমা ধার্য করা হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ বছর। মঙ্গলবার প্রথম দিন ১০ জন প্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়া হয় এবং বুধবার বাকিদের সাক্ষাৎকার পর্ব চলে। রাম মন্দির চত্বরের উত্তরাংশে একটি গ্রিনহাউসে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। বাছাই পর্বে রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী এবং শিরডি সাঁইবাবা ট্রাস্টের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বিজ্ঞানী সুরেশ হাওয়াড়ে।
কিন্তু হঠাৎ কেন পূর্ণ সময়ের সিইও নিয়োগের প্রয়োজন পড়ল? গত জুন মাসে রাম মন্দিরে অনুদানের টাকা, সোনাদানা এবং অন্যান্য প্রণামী লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। মন্দির কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধেই এই চুরির অভিযোগ ওঠে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে। আগামী মাসের মধ্যে তাদের চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা। এই ঘটনার পরই মন্দিরের প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং আনুষঙ্গিক কাজকর্ম কড়া হাতে পরিচালনার জন্য একজন যোগ্য সিইও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাস্ট।
পান মশলার প্লাস্টিকের মোড়ক নিষিদ্ধ! কড়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের
চাঁদে ঘাঁটি তৈরির মার্কিন পরিকল্পনায় ভারত! ISRO-কে NASA-র আমন্ত্রণ