চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি বানাচ্ছে আমেরিকা, নাসার মেগা প্রকল্পে ডাক ইসরোর! নেপথ্যে চিনা-জুজু?
নয়াদিল্লি: চাঁদে স্থায়ী মানব-বসতি ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চলেছে আমেরিকা। আর সেই অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘মুন বেস’ (Moon Base) প্রকল্পে এ বার ভারতকে পাশে চাইল নাসা…
নয়াদিল্লি: চাঁদে স্থায়ী মানব-বসতি ও পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চলেছে আমেরিকা। আর সেই অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘মুন বেস’ (Moon Base) প্রকল্পে এ বার ভারতকে পাশে চাইল নাসা (NASA)। গত ৫ এবং ৬ অগস্ট বেঙ্গালুরুতে ইসরোর (ISRO) সদর দফতরে আয়োজিত ভারত-আমেরিকা অসামরিক মহাকাশ সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের নবম বৈঠকে ভারতকে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এই পদক্ষেপের ফলে মহাকাশ গবেষণায় ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই ‘ইগনিশন’ (Ignition) উদ্যোগের অধীনে এই মুন বেস প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিল নাসা। ষাটের দশকের অ্যাপোলো মিশনের মতো শুধু চাঁদে পা রাখাই নয়, নাসার বর্তমান লক্ষ্য হলো চাঁদের বুকে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা। বিশেষ করে চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে ঘিরেই এই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। কারণ বিজ্ঞানীদের ধারণা, ওই অঞ্চলের চির-অন্ধকারাচ্ছন্ন খাদগুলিতে বরফ আকারে জলের অস্তিত্ব রয়েছে। ওই জল প্রক্রিয়াজাত করে ভবিষ্যতে পানীয় জল, অক্সিজেন এবং রকেটের জ্বালানি (হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন প্রপেলান্ট) তৈরি করা সম্ভব। এই বিপুল কর্মযজ্ঞে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের যুক্ত করতে শুরু করেছে নাসা।
তবে আমেরিকার মতো মহাকাশ গবেষণায় প্রথম সারির দেশ হঠাৎ ভারতকে কেন এই প্রকল্পে চাইল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ইসরোর ধারাবাহিক সাফল্য এবং স্বল্প খরচে নিখুঁত মহাকাশ অভিযানের দক্ষতা। ২০২৩ সালে চন্দ্রযান-৩-এর মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে সফল ভাবে ‘সফট ল্যান্ডিং’ করে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ভারত। চাঁদের ওই দুর্গম পরিবেশে মহাকাশযান নামানো এবং তা পরিচালনা করার যে বাস্তব অভিজ্ঞতা ইসরোর ঝুলিতে রয়েছে, তা নাসার আগামী প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। এ ছাড়াও, গগনযান প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের নিজস্ব মানব-মহাকাশযান (Human Spaceflight) তৈরির প্রস্তুতি এবং নিসার (NISAR)-এর মতো যৌথ উপগ্রহ প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমেরিকাকে ভরসা জুগিয়েছে। বিশাল বাজেটের মার্কিন পরিকাঠামোয় ভারতের স্বল্প খরচে তৈরি সেন্সর, বৈজ্ঞানিক পেলোড এবং রোবোটিক্স প্রযুক্তি এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।
নাসার এই প্রস্তাবের নেপথ্যে চিনের এক প্রচ্ছন্ন প্রভাব রয়েছে বলেও মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। চিন বর্তমানে মহাকাশ গবেষণায় অত্যন্ত আগ্রাসী নীতি নিয়ে চলছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের সন্ধানে ‘চ্যাং-ই ৭’ মিশন পাঠাতে চলেছে বেজিং। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রাও রয়েছে তাদের। পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে চিন ‘ইন্টারন্যাশনাল লুনার রিসার্চ স্টেশন’ (ILRS) তৈরি করছে, যেখানে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছে একাধিক দেশ। ফলে চাঁদের দখল এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকার ‘আর্টেমিস’ (Artemis) জোট ও চিনের মহাকাশ জোটের মধ্যে এক ধরনের ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে।
এই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের নিজস্ব এক স্বাধীন ও শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এ বার নাসার মুন বেস প্রকল্পে ভারত যুক্ত হলে, আমেরিকা যেমন এক নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ সঙ্গী পাবে, তেমনই ভারতের সামনেও খুলে যাবে এক নতুন দিগন্ত। উন্নত প্রযুক্তি, মানব-মহাকাশ অভিযান এবং মহাকাশ গবেষণার আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে নয়াদিল্লি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণায় ভারত যে নিছক কোনও দর্শক নয়, বরং ভবিষ্যৎ ‘লুনার ইকোনমি’-র অন্যতম প্রধান অংশীদার হতে চলেছে, নাসার এই আমন্ত্রণ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,