India-China: ৮ বছরে ১৭ গুণ! সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের দ্রুত উত্থান ঘুম কেড়েছে চিনের? | India’s Solar Manufacturing Boom Puts Pressure on China? PV Capacity Surges 17 Fold Since 2018
নয়া দিল্লি: সৌরশক্তি বা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের দ্রুত উত্থান কি চিনের ঘুম কেড়ে নিয়েছে? চিনের বাজারেও কি বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে? সম্প্রতি, ভারতে সৌরশক্তি উৎপাদন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। চিনের নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ভারতের বাড়তে থাকা ফোটোভোলটাইক (PV) উৎপাদন ক্ষমতা চিনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
চিনের নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০১৮ সালের পর থেকে ভারতে সোলার কম্পোনেন্ট তৈরির পরিমাণ প্রায় ১৭ গুণ বেড়েছে। আর ভারতের এই দ্রুত উত্থান চিনের শীর্ষস্থানীয় সৌর সংস্থাগুলির উপর চাপ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। আরও দাবি, ভারতের বাজারে সৌরশক্তির উপাদানের উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে চিনা সংস্থাগুলি। এমনকি, অনেকের মন্তব্য, “ভিতর থেকেই চিনের ফোটোভোলটাইক দুর্গে ফাটল ধরিয়েছে ভারত।”
উল্লেখ্য, ভারতে সৌরবিদ্যুত উৎপাদনে উপাদানগুলি চিন থেকেই আসত। যেমন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সোলার সেল। এই সেলগুলি বেশিরভাগ চিন থেকেই আসত। কিন্তু, চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের অভ্যন্তরেই উপাদান ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। যা চিনের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করছেন সেদেশের একাংশ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালে ভারতে ফোটোভোলটাইক মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১০ গিগাওয়াটেরও কম। ২০২৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ১৭২ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আট বছরে ভারতের সৌর মডিউল উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর জেরে কয়েকটি বড় চিনা সোলার সেল বা ফোটোভোলটাইক সংস্থা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
আরও একটি পোস্টে ভারতের সৌর উৎপাদন ক্ষমতার উত্থানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,‘সৌর উৎপাদনে এটাই আমাদের স্ট্যালিনগ্রাদ।’ প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্ট্যালিনগ্রাদের যুদ্ধে জার্মান বাহিনী সোভিয়েত সেনার হাতে পরাজিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেই ভারতের সঙ্গে তুলনা করেছেন নেটিজেনরা।
এক্স হ্যান্ডেলে আরও এক নেটিজেনের দাবি, একসময় যেখানে চিনা সংবাদমাধ্যমে ভারতের উৎপাদন শিল্পকে কীভাবে চিন ধ্বংস করছে, সেই আলোচনা হত। এখন সেখানে ভারতের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে চিনা সংস্থাগুলির লোকসান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।