১০০% মার্কিন শুল্ক-মুসলিম ন্যাটোর চাপেই FCRA নিয়ে সুর নরম মোদীসরকারের ?
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে তার সুর নরম করেছে। (FCRA)বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার…
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে তার সুর নরম করেছে। (FCRA)বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, সরকার এই বিল দ্রুত পাস করানোর কোনো তাড়াহুড়োয় নেই। বরং বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
মোদী সরকারের এই সাম্প্রতিক অবস্থানেই ফের রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি চাপে পড়েই FCRA নিয়ে সুর নরম করল কেন্দ্র। কারণ একদিকে মার্কিন সেনেটে পাস হওয়া ১০০% শুল্কের চাপ। যেখানে বলা হয়েছে রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক আরোপ করবে আমেরিকা। আবার অন্য দিকে পাকিস্তান, সৌদি এবং তুরস্কের মুসলিম ন্যাটোর চাপ। সুতরাং এমত পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে চটানো যাবে না বলেই FCRA নিয়ে সুর নরম করেছে মোদী সরকার।
আরও দেখুনঃ মাঝআকাশে বিপত্তি! কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের জরুরি অবতরণ
বিদেশি অবদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল ২০২৬ মার্চ মাসে লোকসভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। এরপর থেকেই বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এর বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে খ্রিস্টান সংগঠনগুলো বিলটির কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁরা বলছেন, এতে বিদেশি অর্থে গড়ে ওঠা সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।
বিরোধীরা দাবি করেছে, বিলটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।সরকারপক্ষ অবশ্য বলছে, বিলটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। (FCRA)এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, এফসিআরএ তহবিলের ১৭ শতাংশেরও কম খ্রিস্টান সংগঠনগুলো পায়। তবুও অভিযোগের বেশিরভাগই তাঁদের কাছ থেকে এসেছে। সরকার মনে করে, বিলটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধ করবে।
তবে সমালোচনাগুলো আমলে নিয়ে সরকার এখন ধীরগতির পথ বেছে নিয়েছে।লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কংগ্রেস নেতা কে সি ভেণুগোপালের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। সরকার যৌথ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও কংগ্রেস সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিই বজায় রেখেছে। সংসদে চলতি বাদল অধিবেশনে বিলটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিরোধীরা অন্যান্য ইস্যুতেও প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন ব্যাহত করছে।
আরও দেখুনঃ চিনের বিরুদ্ধে ‘ম্যাপ-স্ট্রাইক’! অরুণাচলে কী করল ভারত, কেন ফুঁসছে বেজিং?
রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, এতে ছোট ছোট দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনের ওপর চাপ বাড়বে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজ্যে খ্রিস্টান মিশন পরিচালিত স্কুল-হাসপাতালগুলো বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে উদ্বেগ বেশি।মণিপুর, মিজোরামসহ কয়েকটি রাজ্যের নেতারাও কেন্দ্রের কাছে আপত্তি জানিয়েছেন।
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা হোম মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে কিছু পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, বিলটি পূর্ববর্তী সময়ের ওপর প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ পুরনো সম্পত্তি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
আরও দেখুনঃ ছাত্রদের বিধানসভা অভিযানে লাঠি! আজ ঝাড়খণ্ড বনধের ডাক বিজেপির