বাড়িতে ঢোকেনি জল, তবু পাইপে ফাটল! - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাড়িতে ঢোকেনি জল, তবু পাইপে ফাটল!

Spread the love

এই সময়, শ্যামপুর: বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে হাওড়ার উলুবেড়িয়া, শ্যামপুর, বাগনান বিধানসভা এলাকায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হুগলি নদীর জলকে শোধন করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পাঠানো হবে। তার জন্য মেন পাইপ লাইন বসে গেলেও গ্রামের ভিতরে পাইপ লাইন এবং রিজ়ার্ভার তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় কারও বাড়িতে এখনও জল পৌঁছায়নি। এরই মধ্যে একাধিক জায়গায় জলের পাইপ লাইনে ফাটল ধরা পড়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছে প্রশাসন। অভিযোগ উঠছে, নিম্নমানের পাইপ বসানোর ফলেই বার বার পাইপ ফেটে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকের একাধিক জায়গায় জলের পাইপ ফেটে গিয়েছে। কিছুদিন আগেই বাছরি গ্রাম পঞ্চায়েতের দেওড়া ও রাউতাড়া গ্রামের কাছে মাটির নীচে পাইপ ফেটে আশপাশের এলাকায় জল জমে গিয়েছিল। পরে সেই পাইপ মেরামত করে দেয় ঠিকাদার সংস্থা। তার রেশ কাটতে না কাটতে গত শুক্রবার বিকেলে নাকোল গ্রাম পঞ্চায়েতের নাউল বাজারের সামনে পাইপ ফেটে প্রবল বেগে জল বেরোতে থাকে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে তিন জায়গায় একই ঘটনা ঘটায় পাইপের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক তথা শ্যামপুরের বাসিন্দা কৌশিক চক্রবর্তী এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘জল জীবন মিশন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি জল সরবরাহ করার জন্য মাটির নীচ দিয়ে পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। এখনও সর্বত্র জল সরবরাহের কাজ শুরু হয়নি। তার মধ্যেই মাটির নীচে পাইপ ফেটে গিয়ে কোথাও কোথাও এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাচ্ছে। সেই কারণেই পাইপের গুনমান নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই সন্দেহ একেবারে অমূলক নয়। আমরা বিষয়টির উপরে নজর রাখছি। দরকার হলে আমরা তদন্তের দাবি জানাব।’

বাছরি অঞ্চলের বিজেপি নেতা মিহির প্রামাণিক বলেন, ‘দেওড়া, রাউতাড়া ও নাউলে পাইপলাইন ফেটে গিয়েছিল। সেগুলি সারানোর কাজ শুরু হয়েছে।’ শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লক কংগ্রেসের নেতা আতিয়ার রহমান খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশন প্রকল্পে শ্যামপুরের বিভিন্ন এলাকায় জলের পাইপ বসানোর কাজ চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এখনও কারও বাড়িতে জল ঢোকেনি। তার আগেই যদি পাইপ ফেটে যায়, তা হলে জল সরবরাহ শুরু হলে কী হবে?’ তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনা প্রমাণ করছে, জল জীবন মিশন প্রকল্পে খুবই নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামে জলের পাইপ লাইন বসানোর কাজের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের অধীনস্থ ‘রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই’ বিভাগ। তার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যখনই কোথাও পাইপ লাইন ফাটছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে পাইপ ফাটতে পারে। যেহেতু পাইপগুলো সদ্য বসানো হয়েছে, তাই উপরের মাটি এখনও দুর্বল রয়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির জল জমে থাকছে। এর ফলে পাইপের উপরিভাগে মাটি বসে যাচ্ছে। তার উপর দিয়ে যখন কোনও গাড়ি যাচ্ছে তখন নরম মাটি চাপে বসে যাচ্ছে। তার কারণেও পাইপ ফেটে যেতে পারে। পাইপে জয়েনিং থাকলেও অতিরিক্ত জলের প্রেসারে ফেটে যেতে পারে। তবে নিম্নমানের পাইপ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও ফোন তোলেননি।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *