হংকং-প্যারিস, নিউ ইয়র্ককে পিছনে ফেলে সময়ানুবর্তীতায় ইতিহাস গড়ল দিল্লি মেট্রো
নয়াদিল্লি: দিল্লি মেট্রো এখন বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মেট্রো ব্যবস্থা (Delhi Metro)হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ইতিহাস তৈরী করেছে। ২০২৬ সালে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) ৯৯.৯৫…
নয়াদিল্লি: দিল্লি মেট্রো এখন বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মেট্রো ব্যবস্থা (Delhi Metro)হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ইতিহাস তৈরী করেছে। ২০২৬ সালে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) ৯৯.৯৫ শতাংশ সময়ানুবর্তিতা অর্জন করেছে। এই সাফল্য হংকং, প্যারিস ও নিউ ইয়র্ক সাবওয়ের মতো প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।
বিশেষ করে যেখানে অনেক আন্তর্জাতিক মেট্রো কয়েক মিনিট দেরিকেও স্বাভাবিক ধরে নেয়, সেখানে দিল্লি মেট্রো মাত্র ৫৯ সেকেন্ড দেরিকেই বিলম্ব হিসেবে গণ্য করে। তবুও এই কঠোর মানদণ্ডে তারা প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।ডিএমআরসি জানিয়েছে, ২০০৩ সালে সময়ানুবর্তিতা ছিল ৯৮.২৭ শতাংশ। মাত্র দুই বছরের মধ্যে ২০০৫ সালে তা বেড়ে ৯৯.৬৪ শতাংশে পৌঁছায়।
আরও দেখুনঃ
এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ বজায় রেখে চলেছে। নেটওয়ার্ক ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও এই মান অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এখন ব্যস্ততম করিডোরে ট্রেনের ব্যবধান কমে এসেছে মাত্র ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। আগে যা ছিল সাত মিনিট।নির্ভরযোগ্যতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো মিন ডিসট্যান্স বিটুইন ফেলিউরস বা এমডিবিএফ। দিল্লি মেট্রোর এটি ২.৭২ মিলিয়ন কার-কিলোমিটার। অর্থাৎ গড়ে এত দূরত্ব চলার পর কোনো সেবা ব্যাহতকারী ত্রুটি দেখা দেয়।
কমিউনিটি অব মেট্রোস বা কমেট নামের আন্তর্জাতিক (Delhi Metro)বেঞ্চমার্কিং সংস্থার মূল্যায়নে দিল্লি মেট্রো ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মেট্রো ব্যবস্থার মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এই মূল্যায়ন দুই মিনিটের দেরির মানদণ্ডে করা হয়।দিল্লি মেট্রোর আরেকটি গর্বের বিষয় হলো ড্রাইভারলেস অপারেশন। নেটওয়ার্কের প্রায় ২৯ শতাংশ এখন আনঅ্যাটেন্ডেড ট্রেন অপারেশনে চলে।
পিঙ্ক লাইন বা লাইন-৭, যা ৭১.৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪৫টি স্টেশন নিয়ে গঠিত, বিশ্বের দীর্ঘতম ড্রাইভারলেস মেট্রো লাইন। এটি বৃত্তাকার লাইন হিসেবেও অন্যতম দীর্ঘ। এই লাইন অন্য প্রায় সব করিডোরের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে যাত্রীদের সময় বাঁচায় এবং সংকটকালে বিকল্প পথ দেয়।২০০২ সালের ২৫ ডিসেম্বর মাত্র ৮.৪ কিলোমিটার পথে যাত্রা শুরু করা দিল্লি মেট্রো এখন ৪১৬.৫ কিলোমিটার বিস্তৃত, ৩০৩টি স্টেশন ও ১২টি লাইন নিয়ে ভারতের বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্ক।
আরও দেখুনঃ
প্রতিদিন গড়ে ৬৪ লাখেরও বেশি যাত্রী এতে ভ্রমণ করেন। এই বিশাল আকার সত্ত্বেও সময়ানুবর্তিতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা সত্যিই প্রশংসনীয়। (Delhi Metro)এই সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এটি দিল্লির লাখ লাখ যাত্রীর দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে।
ট্রেন সময়মতো এলে অফিস, স্কুল বা অন্যান্য কাজে দেরি হয় না। প্রযুক্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের দক্ষতার সমন্বয়ে এই মান অর্জিত হয়েছে। অনেক সময় ভারতের পরিকাঠামো নিয়ে সমালোচনা শোনা যায়, কিন্তু দিল্লি মেট্রোর এই অর্জন দেখায় যে সঠিক পরিকল্পনা ও নিরন্তর প্রচেষ্টায় বিশ্বমানের সেবা দেওয়া সম্ভব।