ডেটা সেন্টার-পরমাণু বিদ্যুতে ভরসা! ২৬.৭৫ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা মোদী সরকারের
নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব (India investment )থাকলেও ভারতে বিনিয়োগের আগ্রহে বড়সড় ভাটা দেখা যায়নি। বরং চলতি অর্থবর্ষের শুরুতেই বিপুল…
নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব (India investment )থাকলেও ভারতে বিনিয়োগের আগ্রহে বড়সড় ভাটা দেখা যায়নি। বরং চলতি অর্থবর্ষের শুরুতেই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা সামনে এসেছে। ব্যাঙ্ক অফ বরোদার অর্থনৈতিক গবেষণা বিভাগের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১ এপ্রিল থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভারতে মোট ২৬.৭৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা হয়েছে।
তবে এই বিপুল বিনিয়োগের বড় অংশই কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এবং পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পই বিনিয়োগের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ঘোষিত বিনিয়োগের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর পরিষেবা বা ITeS খাতের অংশই সবচেয়ে বেশি।
আরও দেখুনঃ
এই খাতে প্রায় ১৪.৯৮ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা হয়েছে, যা মোট ঘোষিত বিনিয়োগের প্রায় ৫৬ শতাংশ। তবে এই খাতের বিনিয়োগের চরিত্রও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ITeS-এর প্রায় ৯৯ শতাংশ বিনিয়োগই ডেটা সেন্টার এবং AI-সংক্রান্ত প্রকল্পে যাওয়ার কথা। মোট ১৩টি সংস্থা এই ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। (India investment)AI পরিষেবা চালাতে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং ডেটা সংরক্ষণের পরিকাঠামো প্রয়োজন। ফলে বড় ডেটা সেন্টার তৈরির প্রয়োজনও বাড়ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই ভারতে এই ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে মনে করছে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার গবেষণা বিভাগ। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, নির্মাণ, প্রযুক্তি এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
আরও দেখুনঃ
তবে এই বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর কেন্দ্রীভূত চরিত্র। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত বিনিয়োগের ঢেউ ভোক্তানির্ভর শিল্পগুলিতে সেভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। গাড়ি-সহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য খাতে ঘোষিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২,০০০ কোটি টাকারও কম। অর্থাৎ দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিমাণ বিপুল হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শিল্পগুলিতে তার প্রভাব এখনও সীমিত।
ইলেকট্রনিক্সের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা হয়েছে (India investment)। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিনিয়োগ সৌর সেল এবং ব্যাটারি তৈরির প্রকল্পে যাওয়ার কথা। উৎপাদন-সংযুক্ত উৎসাহ প্রকল্প বা PLI স্কিমের সুবিধাও এই বিনিয়োগে কিছুটা ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছে রিপোর্টটি। এর ফলে দেশে সৌরশক্তি ও ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকাঠামো আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আরও দেখুনঃ
নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের ঘোষণা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার। এর বড় অংশই সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত প্রকল্পে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো নির্মাণের চাহিদা বাড়ায় অ্যালুমিনিয়াম এবং ইস্পাত শিল্পেও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দেশের রাস্তা, সেতু, রেল এবং অন্যান্য পরিকাঠামো প্রকল্পের গতি বাড়লে এই শিল্পগুলিতে কাঁচামালের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।