L&T-র চাকরি ছেড়ে ফুল চাষে সাফল্য সঞ্জীবের, বছরে ৬৫ লক্ষের বেশি টার্নওভার - 24 Ghanta Bangla News
Home

L&T-র চাকরি ছেড়ে ফুল চাষে সাফল্য সঞ্জীবের, বছরে ৬৫ লক্ষের বেশি টার্নওভার

Spread the love

ভুবনেশ্বর: নিরাপদ চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু ওড়িশার এ সঞ্জীব রেড্ডির কাছে কর্পোরেট চাকরি ছিল নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি ধাপ (Success Story)।  লার্সেন অ্যান্ড  টুব্রো (L&T)-তে কাজ করার সময় বছরের পর বছর টাকা সঞ্চয় করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই সঞ্চয়কে পুঁজি করে চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় নামেন। পথে একাধিক ব্যর্থতা এলেও থামেননি সঞ্জীব। আজ তাঁর ফুলের ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার ৬৫ লক্ষ টাকারও বেশি।

সঞ্জীবের ব্যবসা এখন ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলে ফুল সরবরাহের পাশাপাশি দেশের একাধিক শহরের বাজারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সংস্থা Happy Dukan সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করে এবং নিজস্ব খামারে উৎপাদিত ফুলও বাজারজাত করে।

১৯৯৫ সালে L&T-তে চাকরি

ওড়িশার গঞ্জাম জেলার কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব বিজ্ঞানে স্নাতক। ১৯৯৫ সালে তিনি L&T-র ECC Division-এ Planning Assistant হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তখন তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৯৬,০০০ টাকা।

চাকরির পাশাপাশি Gurugram-এর ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল থেকে ডাকযোগে business administration-এ ডিপ্লোমা করেন। নিজের ব্যবসা শুরু করার ইচ্ছা থেকেই চাকরির সময় আয়ের বড় অংশ সঞ্চয় করতেন।

সঞ্জীব 30Stades-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি সারাজীবন বেতনের চাকরি করে যেতে চাননি। L&T-তে কাজ করার সময় সঞ্চয় করা প্রতিটি টাকা নিজের ব্যবসা শুরু করার স্বপ্নের জন্য রেখেছিলেন।

পাঁচ বছর পর চাকরি ছেড়ে ব্যবসায়

প্রায় পাঁচ বছর L&T-তে কাজ করার পর ২০০০ সালে চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটেন সঞ্জীব। কিন্তু প্রথম থেকেই সাফল্য আসেনি।
২০০১ সালে তিনি ২,০০০ বর্গফুটের একটি খড়-মাশরুম উৎপাদন ইউনিট দিয়ে কৃষিক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। শুরুটা ভালো হলেও ২০০৫ সালে অনুপযুক্ত শীতের সময়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত তাঁকে বড় ক্ষতির মুখে ফেলে।

এরপর কিছুদিন সেলস অফিসাপ হিসেবে কাজ করেন। ২০১৩ সালে আবার কৃষিতে ফেরেন। এবার ১০,০০০ বর্গফুটের বড় ইউনিটে oyster এবং খড়-মাশরুমের চাষ শুরু করেন।

ঘূর্ণিঝড়ে নষ্ট হল বছরের পরিশ্রম

২০১৯ সালে ফের বড় ধাক্কা আসে। Cyclone Hudhud তাঁর mushroom infrastructure পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। বহু বছরের পরিশ্রম কার্যত এক রাতেই শেষ হয়ে যায়।

তবে এই ক্ষতিই তাঁকে ব্যবসার নতুন দিক খুঁজতে সাহায্য করে। ২০২০ সালে মাশরুম চাষ থেকে সরে floriculture বা ফুল চাষে মন দেন তিনি।

‘Namoh-108’ পদ্মে নতুন শুরু

২০২০ সালে Lucknow-এর NBRI-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে ১০৮-পাপড়ির ‘Namoh-108’ lotus চাষ শুরু করেন সঞ্জীব। এই উদ্যোগে তিনি ১.০৮ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। NBRI তাঁকে seedlings এবং seeds সরবরাহ করে।

সঞ্জীবের ধারণা ছিল, premium flowers-এর বাজারে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। ধর্মীয় কাজে ফুলের চাহিদা বেশি হলেও এই ধরনের বিশেষ ফুলের উৎপাদন তুলনামূলকভাবে সীমিত।

পদ্ম চাষ বাড়াতে Makarajhola Panchayat-এ চারটি গ্রামের জলাশয় বছরে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে lease নেন তিনি। এরপর তামিলনাড়ুর Nagercoil থেকে আরও ১০,০০০টি sapling সংগ্রহ করেন।

চারা লাগানোর ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই ফুল আসতে শুরু করে। বর্তমানে বছরে ৩০,০০০-এর বেশি পদ্ম উৎপাদন করতে পারেন তিনি। এই ফুল দেশের বিভিন্ন বড় শহরের ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

গাঁদা চাষেও সাফল্য

পদ্ম চাষে সাফল্যের পর ২০২৩ সালে African marigold চাষ শুরু করেন সঞ্জীব। Karatali গ্রামে চার একর জমি lease নিয়ে শুরু করেন চাষ।

প্রথমে কলকাতা থেকে ৫৫০ টাকা দিয়ে ১,০০০টি sapling কেনেন। পরে সেই plantation বেড়ে প্রায় ৭,০০০টি গাছে পৌঁছয়।
প্রতি একরে প্রায় ৮ থেকে ১০ টন ফুল উৎপাদন হয়। বিশেষ মরসুমে ফুলের দামও বেড়ে যায়।

রাসায়নিক কমিয়ে প্রাকৃতিক চাষে জোর

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্জীব প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতিতেও জোর দিয়েছেন। তিনি Jeevamruta এবং Bijamruta-এর মতো organic input ব্যবহার করেন। পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে Agniastra ব্যবহার করেন। একইসঙ্গে অন্য কৃষকদেরও রাসায়নিক ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর জন্য উৎসাহিত করেন।

এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ফুলের সরবরাহ

ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জয়শ্রী রেড্ডির নামে নিবন্ধিত Happy Dukan-কে ফুল সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবসা হিসেবে গড়ে তোলেন।

সংস্থাটি এখন একাধিক রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করে। পাশাপাশি নিজেদের খামারে উৎপাদিত ফুলও বিক্রি করে।
Happy Dukan-এর flower sourcing-এর মধ্যে রয়েছে:
• তামিলনাড়ু থেকে পদ্ম
• ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে গাঁদা
• কর্ণাটক, ছত্তীসগঢ় ও মহারাষ্ট্র থেকে গোলাপ
• কর্ণাটক ও ছত্তীসগঢ় থেকে gerbera
বর্তমানে ব্যবসাটি প্রায় ২৫ ধরনের ফুল নিয়ে কাজ করে।

বেশি লাভ নয়, স্থায়ী ক্রেতাই লক্ষ্য

সঞ্জীবের ব্যবসায়িক কৌশলও কিছুটা আলাদা। তিনি সর্বোচ্চ profit margin-এর বদলে repeat customer তৈরির উপর বেশি গুরুত্ব দেন।
তাঁর মতে, ক্রেতা যদি ফুলের গুণমান এবং দাম নিয়ে বিশ্বাস পান, তাহলে তাঁরা বারবার ফিরে আসবেন। দীর্ঘমেয়াদে সেটিই ব্যবসাকে স্থায়ী করে।
দূরবর্তী জায়গা থেকে ফুল সংগ্রহের পর freshness ধরে রাখতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। Berhampur-এর Regulated Market Committee বা RMC cold storage facility-তে ফুল সংরক্ষণ করা হয়।

বছরে ৬৫ লক্ষের বেশি টার্নওভার

একাধিক ব্যর্থতা পেরিয়ে Happy Dukan এখন দক্ষিণ ওড়িশার একটি পরিচিত ফুলের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সংস্থার বার্ষিক টার্নওভার ৬৫ লক্ষ টাকার বেশি।

ব্যবসায় বর্তমানে ১২ জন স্থায়ী কর্মী রয়েছেন। ফুলের চাহিদা বাড়লে peak season-এ অতিরিক্ত শ্রমিকও নিয়োগ করা হয়। ব্যবসার financial ও administrative operations পরিচালনায় সঞ্জীবকে সাহায্য করেন তাঁর স্ত্রী জয়শ্রী।

আরও বড় ফুলের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা

সঞ্জীব এখন ব্যবসাকে আরও বড় করার পরিকল্পনা করছেন।  কান্ধামাল জেলার গাগাদাপাদার গ্রামে পাঁচ একর জমি লিজ নিয়ে সেখানে ক্রিসান্থেমাম, জুঁই, রজনীগন্ধা, স্টার রোজ এবং শোভাবর্ধক উদ্ভিদ চাষের পরিকল্পনা করেছেন। এর পাশাপাশি Rayagada-য় প্রায় ৩৫০ একর জমিতে উৎপাদিত marigold বাজারজাত করছেন তিনি।

সঞ্জীবের লক্ষ্য শুধু নিজের খামারে ফুল উৎপাদন করা নয়। কৃষক, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ক্রেতাদের একসঙ্গে যুক্ত করে একটি integrated flower network তৈরি করতে চান তিনি।

একটি কর্পোরেট চাকরি দিয়ে শুরু হওয়া কর্মজীবন থেকে নিজের ব্যবসায় আসার এই যাত্রায় একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন সঞ্জীব। mushroom farming-এর ক্ষতি থেকে Cyclone Hudhud-এর ধাক্কা, প্রতিটি বাধার পর ব্যবসার মডেল বদলে নতুন করে শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিক চেষ্টার ফলেই আজ তাঁর ফুলের ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার ৬৫ লক্ষ টাকার বেশি।

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *