মালাপ্পুরাম বিস্ফোরণ মামলায় ১০ জনকে চার্জশিট দিল NIA
কেরল: জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ মালাপ্পুরম অবৈধ বিস্ফোরক (Malappuram)মামলায় আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। হারিস টিএ নামের এই ব্যক্তিকে শনিবার মালাপ্পুরম জেলার মঞ্জেরি…
কেরল: জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ মালাপ্পুরম অবৈধ বিস্ফোরক (Malappuram)মামলায় আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। হারিস টিএ নামের এই ব্যক্তিকে শনিবার মালাপ্পুরম জেলার মঞ্জেরি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এখন পর্যন্ত এই মামলায় মোট দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হারিসকে মামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি অবৈধভাবে বিস্ফোরক সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এই মামলাটি আরসি-০১/২০২৬/এনআইএ/কেওসি নম্বর দিয়ে নথিভুক্ত। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেরলের মালাপ্পুরমে চেম্মাদ-থালাপ্পারা রোডে ফারহা হলো ব্রিকস কোম্পানির চত্বরে পার্ক করা একটি লরি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে ৮৯ হাজার ৬০০টি বিস্ফোরক স্টিক এবং ১০ হাজার ৫০০টি শক টিউব বা নোনেল উদ্ধার হয়। লরিটির নিবন্ধন নম্বর ছিল কেএল ১০ বিএফ ৮৩৯৫।
আরও দেখুনঃ সুইগি-জোম্যাটো, জেপ্টোর মত প্লাটফর্মের জন্য ইলেকট্রিক যানবাহন বাধ্যতামূলক করছে মহারাষ্ট্র সরকার
কেরল পুলিশ এই লরি আটক করে এবং এর সঙ্গে যুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে। (Malappuram)অভিযুক্তদের কাছে বিস্ফোরক পরিবহন বা রাখার কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতি ছিল না।এনআইএ পরে এই মামলাটি পুনরায় নথিভুক্ত করে তদন্তভার নিজের হাতে তুলে নেয়। তদন্তের সময় সংস্থাটি তিনটি রাজ্যের ১৯টি স্থানে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে সন্দেহজনক বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করা হয় এবং ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়।
হারিসের গ্রেফতারের একদিন আগে ৭ আগস্ট কর্ণাটকের বিজয়পুরা থেকে আরও তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এখন মোট দশজন গ্রেফতারের তালিকায় রয়েছেন।এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, হারিস অবৈধ বিস্ফোরক সংগ্রহের মূল পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঞ্জেরি থেকে তাকে গ্রেফতার করার পর তদন্তকারীরা তার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। এর আগে কেরল পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল, তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এনআইএ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়।
আরও দেখুনঃ তিরুবন্নামালাইয়ে অমিত শাহের সফরের আগেই চাঞ্চল্য! পুলিশের জালে ক্যামেরা চশমা পরিহিত দুই যুবক
পরে বিভিন্ন রাজ্যে তল্লাশি চালিয়ে আরও সংযোগ উদঘাটন করা হয়। (Malappuram)কর্ণাটক থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করার পর এখন হারিসকে আটকের মধ্য দিয়ে তদন্ত আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।মালাপ্পুরমে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের পরিমাণ দেখে তদন্তকারীরা এর পেছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের আভাস পান। লরিটি যেভাবে পার্ক করা ছিল এবং অভিযুক্তদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বিষয়টি গুরুতর হয়ে ওঠে।
এনআইএ তদন্তভার নেওয়ার পর তিনটি রাজ্যজুড়ে ১৯টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন নথি ও সামগ্রী সংগ্রহ করে। সেই সব তথ্যের ভিত্তিতেই অতিরিক্ত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। হারিসের ভূমিকা ছিল বিস্ফোরক অবৈধভাবে সংগ্রহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।এখন পর্যন্ত দশজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।
অবৈধভাবে বিস্ফোরক সংগ্রহ এবং পরিবহনের পেছনের বৃহত্তর ষড়যন্ত্র উদঘাটনের কাজ চলছে। এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসতে পারে। মালাপ্পুরমের এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। কেরল পুলিশ প্রাথমিকভাবে অভিযান চালালেও পরে এনআইএ তদন্তভার নেয়।