Jadavpur University: এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যজ্ঞ, শুরু তরজা, কারণ কী? | Bharatiya Mazdoor Sangh organises a yajna at Jadavpur University without permission, triggering a fresh controversy
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যজ্ঞ ঘিরে বিতর্কImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: রাজ্যের প্রথম শ্রেণির উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নানা ইস্যুতে ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার মহাযজ্ঞ। তাও আবার বিনা অনুমতি বলে অভিযোগ। সেই যজ্ঞের আয়োজন করল ভারতীয় মজদুর সংঘ। যাদবপুরের মতো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই যজ্ঞ ঘিরে চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
কেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যজ্ঞের আয়োজন করল ভারতীয় মজদুর সংঘ?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী রেজিস্ট্রার নেই। শেষ স্থায়ী রেজিস্ট্রার ছিলেন স্নেহমঞ্জু বসু। তাঁর অবসরের পর অস্থায়ী রেজিস্ট্রার দিয়েই চলছে অফিস। ভোটের আগে সেই অস্থায়ী পদে আসেন তৎকালীন ওয়েবকুপা (টিএমসি-র অধ্যাপক সংগঠন) নেতা সেলিম বক্স মণ্ডল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। ৬ মাস এক্সটেনশন পেয়ে এখন তিনি অক্টোবর পর্যন্ত রেজিস্ট্রার পদে থাকতে পারবেন, কর্মসমিতির বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে সেলিমকে ওই পদে মেনে নিতে রাজি নন কর্মচারীদের একাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছেন ডানপন্থী কর্মচারীরা।
এই অবস্থায় শুক্রবার ক্লাস চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের একেবারে মূল ভবন অরবিন্দ ভবনের গাড়ি বারান্দায় হল হোম যজ্ঞ। আয়োজন করে ভারতীয় মজদুর সংঘ। এই সংগঠনই সেলিমের অপসারণের দাবিতে সরব। যেখানে যজ্ঞ হচ্ছে, সেখানে পোস্টারে লেখা, শুভবুদ্ধির উদয় হোক, যাদবপুরের মঙ্গল হোক। বুদ্ধিশুদ্ধি ও মঙ্গলকামনা যজ্ঞ। তাদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাপমুক্তির জন্য এই যজ্ঞ। এদিকে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই যজ্ঞের কোনও অনুমতি ছিল না। আবার যাঁরা যজ্ঞ করলেন, তাঁরা অনেকেই আগের সরকারের আমলে তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। হেরিটেজ বিল্ডিংয়ে আগুন জ্বালানো নিষেধ। তারপরও কীভাবে যজ্ঞ করা হল, সেই প্রশ্ন উঠছে। আদালতে না গিয়ে যজ্ঞ কেন? প্রশ্ন তুলল টিএমসিপিও।
যাদবপুরে পুজো আগেও হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে যাদবপুরে রামনবমী হয়। আগে থেকেই বিশ্বকর্মা পুজো, সরস্বতী পুজো ও দুর্গাপুজো হয়।ইফতারও হয়। তবে সবই হয় হেরিটেজ বিল্ডিং থেকে অনেক দূরে। মূলত রেসিডেন্সিয়াল সাইটে। এই প্রথব অরবিন্দ ভবনে যজ্ঞ হল।
যাদবপুরের ভাইস চ্যান্সেলর চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য আগে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি ছিলেন। তৃণমূল আমলেই তাঁর সে চাকরি চলে যায়। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে কাজ করছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর হাল খারাপ। একাধিক শূন্যপদ। ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। বাথরুমের অবস্থাও খারাপ। সেই জায়গায় রেজিস্ট্রার বিদায়ের যজ্ঞ অন্য মাত্রা নিল।
এই নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “আমরা এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পড়াই। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতন করি। যজ্ঞ করলেই যদি সবকিছু ভালো হয়ে যায়, তা হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কী দরকার? এটা এক ধরনের কুসংস্কার বলে মনে হচ্ছে।”
তবে জুটার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ভারতীয় মজদুর সংঘ। সংগঠনের তরফে অসীম মিত্র বলেন, “যাদবপুরে যে অনিয়ম-বেনিয়ম হয়ে চলেছে, তাদের যেন শুভবুদ্ধির উদয় হয়, সেজন্য যজ্ঞ করা হয়েছে। যাদবপুরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যজ্ঞ। যার যার সংস্কার, তার তার কাছে। যাঁরা বলছেন, তাঁরাও বাড়িতে যজ্ঞ করেন।”