গবেষণাপত্রের সারাংশ বাংলায়! বিজ্ঞান সম্মেলনে মাতৃভাষায় জোর রাজ্যের - 24 Ghanta Bangla News
Home

গবেষণাপত্রের সারাংশ বাংলায়! বিজ্ঞান সম্মেলনে মাতৃভাষায় জোর রাজ্যের

Spread the love

কলকাতা: রাজ্যের (West Bengal) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নিল সরকার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষকদের…

কলকাতা: রাজ্যের (West Bengal) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণাকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগ নিল সরকার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষকদের তাঁদের গবেষণাপত্রের সারাংশ (Abstract) বাংলায় লেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেসব গবেষণার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে, সেগুলির সারাংশ পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

শুক্রবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী।
মন্ত্রী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষকদের মাতৃভাষা বাংলায় গবেষণাপত্রের সারাংশ লেখার জন্য উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের সূচনা হবে আগামী রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেস থেকে, যেখানে আলোচনাও বাংলায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলা স্টেট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কংগ্রেসে জমা দেওয়া গবেষণাপত্রের সারাংশ বাংলায় চাওয়া হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে একটি নির্দেশিকাও পাঠিয়েছে।

কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, ইংরেজিতে যেমন নির্দিষ্ট কাঠামোয় গবেষণাপত্রের সারাংশ লেখা হয়, বাংলাতেও একইভাবে তা লেখা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সারাংশ তৈরি করা যাবে না। যেসব গবেষণার আন্তর্জাতিক গুরুত্ব রয়েছে, সেগুলির বাংলা সারাংশ পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হবে।

বঙ্গে ১৭টি নতুন রেললাইন প্রকল্পের আশা! অর্জুন সিংয়ের পোস্টে চর্চায় রাজ্যের রেল যোগাযোগ

মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে একটি নতুন বিজ্ঞান উদ্যোগের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে সহজভাবে পৌঁছে দিতে মাতৃভাষার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষামহলের একাংশ প্রশ্নও তুলেছেন। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক অর্ণব হালদার বলেন, বাংলা ভাষায় পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক পরিভাষা এখনও গড়ে ওঠেনি। তাই গবেষণাপত্রের সারাংশ বাংলায় লেখা সহজ হবে না। তাঁর মতে, বাংলায় বৈজ্ঞানিক সাময়িকীও গড়ে তোলা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক গবেষণার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আঞ্চলিক ভাষায় লেখা গবেষণাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা সীমিত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

খাদ্যশস্য প্যাকেজিংয়ে ব্যাবস্থার হবে পাটের ব্যাগ! বাংলার পাটশিল্প বাঁচাতে কড়া অবস্থান বাংলার সরকারের

একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক পার্থ প্রতিম রায়। তিনি বলেন, বহু বৈজ্ঞানিক শব্দের নির্ভুল বাংলা প্রতিশব্দ নেই। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই গবেষণাপত্র ইংরেজিতে লেখা হয়, কারণ ইংরেজি আন্তর্জাতিক গবেষণার ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া। কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, সরকার “মানুষের জন্য বিজ্ঞান, কর্মসংস্থানের জন্য বিজ্ঞান এবং বাংলার উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান” এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।

তিনি জানান, রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ ইতিমধ্যেই ৫০০-রও বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে জৈবপ্রযুক্তি খাতে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সম্পদকে একত্রিত করে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম বিজ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *