সীমান্তে চিনের তৈরি SH-15 আর্টিলারি মোতায়েন করল পাকিস্তান
SH-15 Artillery: পাকিস্তান ভারত সীমান্তে চিনের তৈরি SH-15 ১৫৫ মিমি/৫২-ক্যালিবার চাকাযুক্ত স্ব-চালিত হাউইটজারের মোতায়েন বাড়িয়েছে। তবে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ঠিক কতগুলো SH-15 ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে,…
SH-15 Artillery: পাকিস্তান ভারত সীমান্তে চিনের তৈরি SH-15 ১৫৫ মিমি/৫২-ক্যালিবার চাকাযুক্ত স্ব-চালিত হাউইটজারের মোতায়েন বাড়িয়েছে। তবে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ঠিক কতগুলো SH-15 ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছে মোট প্রায় ১২ থেকে ১৩টি এসএইচ-১৫ (SH-15) রেজিমেন্ট রয়েছে। কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা এবং অভিযানের জন্য মোতায়েনের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান এই আর্টিলারি সিস্টেমগুলোকে বিভিন্ন ফ্রন্টে বিন্যস্ত করেছে।
জানা গেছে যে, এসএইচ-১৫ (SH-15)-এর কিছু রেজিমেন্ট ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে, আর অন্যগুলোকে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাখা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, পাকিস্তান এই চিনা আর্টিলারি ব্যবস্থাটি কেবল ভারতের সম্মুখভাগেই নয়, বরং নিজেদের ভূখণ্ডের অন্যান্য সংবেদনশীল অঞ্চলেও ব্যবহার করছে।
চিন থেকে ২৩৬টি SH-15 কামানের অর্ডার
পাকিস্তান চিন থেকে মোট ২৩৬টি SH-15 কামানের অর্ডার দিয়েছে এবং ২০২২ সাল থেকে এগুলোর সরবরাহ শুরু হয়েছে। SH-15 হলো ট্রাক-মাউন্টেড বা ট্রাকে বসানো চাকাযুক্ত এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি সিস্টেম (self-propelled artillery system), যা দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা এবং গোলাবর্ষণের অবস্থানে মোতায়েন করা সম্ভব।
SH-15-এর পাল্লা ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি
এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রকেট-সহায়তাযুক্ত প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে SH-15-এর পাল্লা ৫০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এর ফলে সীমান্তের বেশ পেছনে অবস্থান করেও শত্রুর অবস্থানে আঘাত হানা সম্ভব হয়। পাকিস্তান এই ব্যবস্থার জন্য চিনের কাছ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুবিধাও লাভ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ‘হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ ট্যাক্সিলা’ (এইচআইটি)-তে এসএইচ-১৫ (SH-15) দেশীয়ভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলা হয়েছে।
আর্টিলারি বা কামানের আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ
SH-15 মোতায়েনের বিষয়টি পাকিস্তানের আর্টিলারি আধুনিকীকরণ কর্মসূচিরই একটি অংশ। এদিকে, ভারতও ক্রমাগত তার আর্টিলারি সক্ষমতা জোরদার করে চলেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ATAGS, K9 বজ্র (K9 Vajra), ধনুশ (Dhanush) এবং M777-এর মতো আধুনিক আর্টিলারি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে একটি ‘মাউন্টেড গান সিস্টেম’ (MGS) তৈরি করছে।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আর্টিলারি সক্ষমতা
অন্য কথায়, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সামরিক শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে আর্টিলারি বা কামানের শক্তি এখন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠছে। একদিকে পাকিস্তান যেমন চিনা SH-15 ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, অন্যদিকে ভারতও নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ও অত্যাধুনিক আর্টিলারি ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা জোরদার করছে।